লাইফস্টাইল ডেস্ক :: নখের ৫ লক্ষণ দেখেই রোগ শনাক্ত, সতর্ক হোন
আপনি কি জানেন? আপনার স্বাস্থ্যের খোঁজ-খবর দিতে নখ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, নখ মানবদেহের অভ্যন্তরীণ নানা রোগের ইঙ্গিত জানান দিতে পারে। অনেক সময় কোনো রোগের উপসর্গ প্রকাশের আগেই নখে পরিবর্তন দেখা যায়, তবে বেশিরভাগ মানুষ সেসব লক্ষণকে গুরুত্ব দেন না। পুষ্টিবিদ ডা. রোহিনী পাতিল জানিয়েছেন, নখের কিছু পরিবর্তন মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যার পূর্বাভাস হতে পারে।
তার ভাষ্যমতে, নখে সাদা দাগ, চামচের মতো আকৃতি, অতিরিক্ত বাঁক, হলুদ ও মোটা নখ, নীলচে বা কালচে রং, গভীর রেখা কিংবা নখ উঠে যাওয়ার মতো লক্ষণগুলো কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়। এসব লক্ষণ শরীরে পুষ্টির ঘাটতি, থাইরয়েড, লিভার, কিডনি, হৃদযন্ত্র কিংবা ফুসফুসজনিত সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে
নখে সাদা দাগ:
অনেকের নখে সাদা দাগ দেখা যায়। সাধারণত নখের গোড়ায় আঘাত লাগলে এমনটি হতে পারে এবং এটি গুরুতর সমস্যার লক্ষণ নাও হতে পারে। তবে সব ক্ষেত্রে সাদা দাগ বা রেখা স্বাভাবিক নয়। চিকিৎসকদের মতে, এটি শরীরে দস্তার ঘাটতি বা কিডনি সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে।
চামচের মতো নখ:
নখের কিনারা উপরের দিকে উঠে চামচের মতো আকৃতি নিলে তা উদ্বেগজনক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি রক্তস্বল্পতার লক্ষণ হতে পারে। একই সঙ্গে থাইরয়েডজনিত সমস্যা কিংবা হৃদযন্ত্রের জটিলতার ইঙ্গিতও দিতে পারে। তাই এ ধরনের পরিবর্তন অবহেলা করা ঠিক নয়।
অতিরিক্ত বাঁকানো নখ:
নখ যদি আঙুলের চারপাশে অস্বাভাবিকভাবে বাঁকানো থাকে, তবে সেটি সুস্থতার লক্ষণ নয়। পুষ্টিবিদদের মতে, এটি শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি, ফুসফুসের রোগ, হৃদযন্ত্রের অকার্যকারিতা কিংবা লিভারের সমস্যার প্রাথমিক সংকেত হতে পারে।
হলুদ ও মোটা নখ:
হলুদ এবং মোটা নখকে হালকাভাবে নেয়া উচিত নয়। চিকিৎসকদের মতে, এটি শরীরে ছত্রাকজনিত সংক্রমণের ইঙ্গিত হতে পারে। সংক্রমণ বাড়লে নখের গোড়া সরে যেতে পারে এবং নখ ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়।
নখের ডগা কালচে হওয়া:
নখ সাদা হলেও ডগা যদি কালচে রঙের হয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। এ ধরনের নখকে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ধরা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি লিভারের রোগ, কিডনি সমস্যা কিংবা ডায়াবেটিসের লক্ষণ হতে পারে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, নখের এসব সূক্ষ্ম পরিবর্তনকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। কারণ এসব লক্ষণ শরীরে লুকিয়ে থাকা বা ভবিষ্যতে দেখা দিতে পারে এমন রোগের আগাম বার্তা হতে পারে।
বিঃদ্রঃ এই প্রতিবেদনে দেয়া তথ্য সচেতনতামূলক। এটি চিকিৎসা পরামর্শ নয়। কোনো ওষুধ সেবন, চিকিৎসা গ্রহণ কিংবা খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তনের আগে অবশ্যই যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন।