বরিশালে মিড-ডে মিলের খাবারসহ প্রধান শিক্ষিকা ধরা, ব্যাগে মিলল ডিম ও রুটি

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ Friday, June 26, 2026,
  • 28 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

বরিশালে মিড-ডে মিলের খাবারসহ প্রধান শিক্ষিকা ধরা, ব্যাগে মিলল ডিম ও রুটি

নিজস্ব প্রতিবেদক ::: বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ২নং চরাদি ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ১০নং রানিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রেশমা আক্তার মিষ্টির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি ‘মিড-ডে মিল’ (স্কুল ফিডিং) কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দকৃত খাবার আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেল প্রায় ৩টা ৪০ মিনিটে বিদ্যালয় ছুটির পর স্থানীয় এলাকাবাসী তার বহন করা ব্যাগ তল্লাশির দাবি জানায়। একপর্যায়ে ব্যাগ খুলে দেখা হলে সেখানে ২৪টি ডিম ও ২২ পিস রুটি পাওয়া যায়, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রধান শিক্ষিকা দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত ডিমসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী নিয়মিত নিজের বাসায় নিয়ে যেতেন। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয়রা নজরদারি চালিয়ে বিদ্যালয় ছুটির পর তার ব্যাগ খুলে দেখানোর অনুরোধ করেন। প্রথমে তিনি ব্যাগ দেখাতে অনীহা প্রকাশ করলেও স্থানীয়দের চাপে ব্যাগ খুলে দিলে ডিম ও রুটি উদ্ধার করা হয় বলে অভিযোগ করেন উপস্থিত এলাকাবাসী। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও আশপাশে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বলেন, “সরকার শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে যে খাবার বরাদ্দ দিয়েছে, তা আত্মসাতের অভিযোগ অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারের বরাদ্দকৃত খাবার আত্মসাতের মতো ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

তারা বলেন, “যদি তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে এমন অনিয়ম করার সাহস না পায়।”

বিভিন্ন সূত্র দাবী করেছে, ১০নং রানিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেশমা আক্তার মিষ্টির বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির অভিযোগ বহু পুরানো। বিদ্যালয়ের একাধিক অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সহকারী শিক্ষকদের অভিযোগ, মাত্র তিন বছরের দায়িত্বকালেই তিনি বিদ্যালয়টিকে অনিয়মের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছেন। সরকারের ‘মিড ডে মিল’ বা স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত খাবারের একটি অংশ নিয়মিত নিজের বাড়িতে নিয়ে যান প্রধান শিক্ষক। বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ২০১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রতিদিন অসংখ্য শিক্ষার্থীর খাবার আত্মসাত করে প্রধান শিক্ষিকা নিজের ব্যাগে ভরে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী। এছাড়া প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও তিনি কোনো শ্রেণিতে নিয়মিত পাঠদান করেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে।

বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা জানায়, তাদের ক্লাস নেন শুধুমাত্র সহকারী শিক্ষকরা। কোনো শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলেও প্রধান শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে গিয়ে পাঠদান করেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সহকারী শিক্ষক বলেন, “হেড ম্যাডাম কোনো ক্লাস নেন না। তিনি অধিকাংশ সময় অফিসকক্ষে বসে মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন কিংবা ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকেন। অফিসের অনেক কাজও আমাদের দিয়ে করিয়ে নেন। শিক্ষকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ এবং মানসিক চাপ সৃষ্টি করা তার নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।”

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...

© All rights reserved © 2021
Developed By Engineerbd.net
EngineerBD-Jowfhowo