সিটি প্রশাসকের নৈশভোজের অবশিষ্ট খাবার বিতরণ নিয়ে বিতর্ক, সাবেক কাউন্সিলর ইউনুসের বিরুদ্ধে আত্মসাতের অভিযোগ।
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল:
ঈদুল আজহা উপলক্ষে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশা সক অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিনের উদ্যোগে আয়োজিত নৈশভোজের অবশিষ্ট খাবার বিতরণকে কেন্দ্র করে নগরজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনুষ্ঠানের পর দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য সংরক্ষিত খাবার যথাযথভাবে বিতরণ না করে ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ইউনুস মিয়া ও তার ভাই হারুন মিয়ার বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, গত ২৮ মে ঈদুল আজহার দিন নগরবাসীর সম্মানে আয়োজিত ওই নৈশভোজে বরিশাল মহানগর বিএনপি, যুবদল, মহিলা দল, জেলা ও মহানগর ছাত্রদলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠান শেষে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খাবার অবশিষ্ট থাকায় সেগুলো যেন অপচয় না হয় এবং অসহায় মানুষের উপকারে আসে, সে লক্ষ্যে প্রশাসক বিলকিস জাহান শিরিন খাবারগুলো দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণের নির্দেশ দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ওই দায়িত্ব ইউনুস মিয়ার ওপর অর্পণ করা হলেও তারা নির্ধারিত উদ্দেশ্যে খাবার বিতরণ না করে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যান। পরবর্তীতে সেই খাবারের একটি বড় অংশ তাদের বাসার ফ্রিজে সংরক্ষণ করা হয় এবং ধীরে ধীরে ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসকের মানবিক উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য ছিল সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে ঈদের আনন্দ পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু যদি সেই খাবার প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে না পৌঁছে থাকে, তাহলে এটি শুধু দায়িত্বে অবহেলাই নয়, মানবিক মূল্যবোধেরও পরিপন্থী।
নগরীর বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেছেন, প্রশাসকের নির্দেশনা বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা উচিত।
তবে এ বিষয়ে ইউনুস মিয়া ও হারুন মিয়ার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।
এদিকে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং অবশিষ্ট খাবার বিতরণের পুরো প্রক্রিয়া তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা জনসম্মুখে তুলে ধরার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নগরবাসী। তাদের মতে, জনস্বার্থ ও মানবিক উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।