আবহাওয়া ডেস্ক :: তাপপ্রবাহের পর শুরু হয়েছে টানা বৃষ্টি, কয়েক স্থানে ২০০ মি. মি. ছাড়িয়ে গেছ
টানা তাপপ্রবাহের পর আষাঢ়ের শেষ দিকে দেশে ফিরেছে বর্ষারচিরচেনা রূপ। গত দুই দিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া সকাল থেকে রাজধানীতে বৃষ্টি হচ্ছে। রাঙামাটি, চট্টগ্রাম ও কিশোরগঞ্জের নিকলীসহ কয়েকটি এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। আজও রাজধানী ঢাকা-সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়ধসের আশঙ্কাও রয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত) দেশের বিভিন্ন স্থানে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ সময় রাঙামাটিতে সর্বোচ্চ ২৮৭ মিলিমিটার, চট্টগ্রামে ২৮৪ মিলিমিটার এবং কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ২৬৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া ময়মনসিংহে ১৫১ মিলিমিটার, হাতিয়ায় ১৪৯ মিলিমিটার এবং রাজধানী ঢাকায় ৫৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতকে ভারী বৃষ্টি এবং এর চেয়ে বেশি হলে অতি ভারী বৃষ্টি হিসেবে ধরা হয়। সে হিসেবে দেশের একাধিক স্থানে অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হামিদ মিয়া জানিয়েছেন, বুধবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এসব বিভাগের কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে, ফলে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকিও রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বর্তমানে সাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি ভারতের মধ্যপ্রদেশ এলাকায় অবস্থান করলেও এর প্রভাবে বাংলাদেশে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। আগামী শুক্রবার ও শনিবার থেকে বৃষ্টির প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।
রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য দেয়া সকাল ৯টা থেকে সর্বশেষ ৬ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বুধবার সকাল থেকে আকাশ মেঘলা থেকে মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। এ সময় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
বুধবার সকাল ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৮ শতাংশ। মঙ্গলবার ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বুধবারের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৫ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এদিকে নিম্নচাপের প্রভাবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।