শিরোনামঃ
সেনাবাহিনীর পরিচয়ে প্রেমের ফাঁদ, যুবকের এক বছরের কারাদণ্ড ফাঁসির রায় মাথায় নিয়ে ৬ বছর কনডেম সেলে মিন্নি, কবে শেষ হবে অপেক্ষা পেটে গজ রেখে সেলাই, ৬ মাস পর মারা গেলেন বিথী। রাতে বাবাকে লোকেশন পাঠিয়েছিল তাজমিন, সকালে মিলল স্কুল ছাত্রীর নিথর দেহ। কর্মী দক্ষতা বাড়াতে বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের প্রশিক্ষণ কর্মশালা দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক চালু আর্জেন্টিনা অধ্যায় শেষ, এবার মেসির নতুন তিন লক্ষ্য শিশু চোখের সমস্যায় কি কেবল স্ক্রিনের ব্যবহার দায়ী, চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ফ্যামিলি কার্ডের আশায় দিলেন টিপসই, পরে জানলেন বিয়ে হয়ে গেছে স্কুল ফিডিংয়ের বনরুটিতে পোকা, অভিভাবকদের ক্ষোভ ও উদ্বেগ

ফাঁসির রায় মাথায় নিয়ে ৬ বছর কনডেম সেলে মিন্নি, কবে শেষ হবে অপেক্ষা

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ Saturday, October 10, 2026,
  • 22 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

নিউজ ডেস্ক :: ফাঁসির রায় মাথায় নিয়ে ৬ বছর কনডেম সেলে মিন্নি, কবে শেষ হবে অপেক্ষা

বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার ৬ বছর পেরিয়ে গেলেও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির মামলা। বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে দিন কাটছে তার। উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির দীর্ঘসূত্রতায় অনিশ্চয়তা কাটছে না। কারাগারে ইবাদত-বন্দেগি করেই সময় পার করছেন তিনি। মাসে একবার স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান।

২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির মধ্যে মিন্নিসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। ওই বছরের ৪ অক্টোবর মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিলও করেন ৬ আসামি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে হাইকোর্টে ১ হাজার ২৬৫টি ডেথ রেফারেন্স শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। ডেথ রেফারেন্স কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির জানিয়েছেন, বর্তমানে ২০১৯ সালে আসা ডেথ রেফারেন্সগুলোর শুনানি চলছে। রিফাত হত্যা মামলাটি কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা খোঁজ নিয়ে জানাতে হবে।

এদিকে, অসুস্থতা ও নারী বন্দি হিসেবে বিশেষ বিবেচনায় ২০২২ সালের ১৬ অক্টোবর মিন্নির জামিন আবেদন করা হয়। ২০২৩ সালের ১১ জানুয়ারি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ আবেদনটি শুনতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে অন্য বেঞ্চে উপস্থাপনের পর আবেদনটি মুলতবি হয়। এরপর আর শুনানির তালিকায় ওঠেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরের দাবি, ষড়যন্ত্র করে তার মেয়েকে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। এ ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর হাত রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, কারাগারে মিন্নির শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। মাসে একবার মেয়ের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান তারা। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় মিন্নির জামিন চান তিনি। এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মামলা পরিচালনার সুবিধার্থে মিন্নিকে কাশিমপুর কারাগার থেকে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। কারা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সেখানকার কনডেম সেলে তিনিই একমাত্র নারী বন্দি। নিয়ম অনুযায়ী, বন্দিরা মাসে একবার স্বজনদের সঙ্গে দেখা এবং সপ্তাহে একবার নির্ধারিত সময়ে পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সুযোগ পান।

কারা সূত্রের দাবি, মিন্নি নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন, চুপচাপ থাকেন এবং তার আচরণ সন্তোষজনক।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, মৃত্যুদণ্ডের রায় চূড়ান্ত হওয়ার আগে বছরের পর বছর কনডেম সেলে থাকা মানবাধিকারের প্রশ্ন তৈরি করে। হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকলেও আপিল বিভাগে চূড়ান্ত নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। এমনকি দীর্ঘ কারাবাসের পর আপিল বিভাগে খালাস পাওয়ার ঘটনাও রয়েছে।

মিন্নির মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি কবে হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকবে, নাকি রায়ে পরিবর্তন আসবে—সেই সিদ্ধান্ত আদালতের। তবে দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার মধ্যে বন্দিদের অধিকার ও মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির প্রশ্নটি সামনে আসছে বারবার।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...

© All rights reserved © 2021
Developed By Engineerbd.net
EngineerBD-Jowfhowo