বরিশাল জেলা প্রতিনিধি :: মো: জুয়েল সরদার: স্বপ্নছায়া ফাউন্ডেশন-এর বিনামূল্যে হস্তশিল্প প্রশিক্ষণ: গ্রামীণ নারীদের আত্মনির্ভরশীলতার নতুন দিগন্ত
তৃণমূল পর্যায়ের নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ও আত্মনির্ভরশীল করে তোলার লক্ষ্যে ‘স্বপ্নছায়া ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে শুরু হয়েছে বিনামূল্যে বিশেষ হস্তশিল্প প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। সমাজে নারীদের সুদৃঢ় অবস্থান নিশ্চিতকরণ, দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং তাদের নিজেদের কাজের প্রতি আগ্রহী করে তোলার উদ্দেশ্যেই এই সামাজিক ও কল্যাণমূলক উদ্যোগ হাতে নেওয়া হয়েছে।
আজ সকালে আগৈলঝাড়া উপজেলার দত্তেরাবাদ গ্রামে উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে চট ও পার্টি বিছিয়ে গ্রামীণ ও সহজ-সরল পরিবেশে নারীরা একত্রিত হয়ে এই প্রশিক্ষণে অংশ নেন। কোনো আধুনিক সাজসজ্জা না থাকলেও প্রশিক্ষণার্থীদের শেখার আগ্রহ ও উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো। আয়োজনে বিভিন্ন বয়সের গৃহিণী, শিক্ষার্থী ও তরুণীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি পুরো পরিবেশকে উৎসবমুখর করে তোলে।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দক্ষ হস্তশিল্প কারিগররা, যারা খুব সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষায় সেলাই, কুশিকাটা, ব্লক-বাটিক এবং ঘরোয়া শো-পিস তৈরির মতো বিভিন্ন লাভজনক কাজের ব্যবহারিক শিক্ষা দেন। আয়োজকরা জানান, প্রথম ধাপে নির্বাচিত নারীদের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং পরবর্তীতে তাদের তৈরি পণ্য বাজারে বিক্রয় বা বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
প্রশিক্ষণার্থীদের অনুভূতি ও প্রত্যাশা:
“সংসারের কাজ শেষ করে ঘরে বসে অলস সময় না কাটিয়ে এই প্রশিক্ষণটা পেয়ে আমাদের খুব সুবিধা হয়েছে। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে স্বপ্নছায়া ফাউন্ডেশন আমাদের এত সুন্দর কাজ শেখাচ্ছে। হস্তশিল্পের কাজগুলো ঠিকঠাক শিখতে পারলে ঘরে বসেই বাড়তি কিছু উপার্জন করতে পারব, যা আমার সংসারের আর্থিক টানাটানি কমাতে সাহায্য করবে।”
হামীদা বেগম (প্রশিক্ষণার্থী):
“সংসারের কাজ শেষ করে ঘরে বসে অলস সময় না কাটিয়ে এই প্রশিক্ষণটা পেয়ে আমাদের খুব সুবিধা হয়েছে। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে স্বপ্নছায়া ফাউন্ডেশন আমাদের এত সুন্দর কাজ শেখাচ্ছে। হস্তশিল্পের কাজগুলো ঠিকঠাক শিখতে পারলে ঘরে বসেই বাড়তি কিছু উপার্জন করতে পারব, যা আমার সংসারের আর্থিক টানাটানি কমাতে সাহায্য করবে।”
“আগে ভাবতাম এসব কাজ শেখা অনেক কঠিন ও খরচের বিষয়। কিন্তু এখানে এসে সবাই একসঙ্গে কত সহজে কাজগুলো শিখতে পারছি! এই প্রশিক্ষণ আমাদের নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। এখান থেকে কাজ শিখে ভবিষ্যতে ছোটখাটো কুটির শিল্প গড়ে তোলার ইচ্ছে আছে।”
সুমু আক্তার (প্রশিক্ষণার্থী):
“আগে ভাবতাম এসব কাজ শেখা অনেক কঠিন ও খরচের বিষয়। কিন্তু এখানে এসে সবাই একসঙ্গে কত সহজে কাজগুলো শিখতে পারছি! এই প্রশিক্ষণ আমাদের নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। এখান থেকে কাজ শিখে ভবিষ্যতে ছোটখাটো কুটির শিল্প গড়ে তোলার ইচ্ছে আছে।”
“নতুন কিছু শেখার আগ্রহ থেকেই এখানে যুক্ত হয়েছি। হস্তশিল্পের কাজের প্রতি আমার বেশ ঝোঁক ছিল। স্বপ্নছায়া ফাউন্ডেশনের এই প্রশিক্ষণ আমাদের মতো তরুণীদের শুধু দক্ষই করছে না, বরং নিজেদের জন্য নতুন একটি আয়ের পথ তৈরি করার সুযোগ করে দিচ্ছে। এই ডিজিটাল যুগে হাতের কাজ জানাটা সত্যিই অনেক বড় একটা শক্তি।”
জান্নাত আরা (তরুণী প্রশিক্ষণার্থী):
“নতুন কিছু শেখার আগ্রহ থেকেই এখানে যুক্ত হয়েছি। হস্তশিল্পের কাজের প্রতি আমার বেশ ঝোঁক ছিল। স্বপ্নছায়া ফাউন্ডেশনের এই প্রশিক্ষণ আমাদের মতো তরুণীদের শুধু দক্ষই করছে না, বরং নিজেদের জন্য নতুন একটি আয়ের পথ তৈরি করার সুযোগ করে দিচ্ছে। এই ডিজিটাল যুগে হাতের কাজ জানাটা সত্যিই অনেক বড় একটা শক্তি।”
আয়োজক ও স্থানীয়দের বক্তব্য:
স্বপ্নছায়া ফাউন্ডেশনের দায়িত্বশীলদের সাথে কথা বললে তারা জানান, বর্তমান সমাজে নারীরা আর পিছিয়ে থাকতে চান না। একটু দিকনির্দেশনা ও সুযোগ পেলে তারা সংসারের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও বড় ভূমিকা রাখতে পারেন। ফাউন্ডেশনের মূল উদ্দেশ্যই হলো অবহেলিত ও প্রান্তিক নারীদের হাতে কলমে দক্ষতা বৃদ্ধি করে তাদের আয়ের ব্যবস্থা করা। কেবল এই হস্তশিল্প প্রশিক্ষণই নয়, ভবিষ্যতে নারীদের জন্য প্রযুক্তি ও অন্যান্য বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের পরিধি আরও সম্প্রসারিত করা হবে বলে তারা প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
স্থানীয় সচেতন মহল ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ স্বপ্নছায়া ফাউন্ডেশনের এই সময়োপযোগী ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তারা মনে করেন, এ ধরনের সামাজিক উদ্যোগ গ্রামীণ নারীদের ক্ষমতায়ন ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।