শিরোনামঃ
ভারত ফারাক্কা আটকালে আমরা তিস্তা আটকাবো: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিএনপিকে চাঁদাবাজ বললে বিচার করবে জনগণ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নগরীতে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে র‍্যাগিংয়ে জড়িত ৪৮ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তি বরিশাল অঞ্চলে বিদ্যুৎ ঘাটতি পুনরায় চাহিদার ৪০ ভাগের ওপরে, ফলে দিনরাত ২৪ ঘণ্টাই ভয়াবহ লোডশেডিং বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম আত্মহত্যা মামলায় দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিবারের সঙ্গে এমপি গাজী নজরুলের আপস-মীমাংসা শ্বশুরবাড়িতে জামাইকে গলাকেটে হত্যা হজযাত্রীদের জন্য নতুন প্যাকেজ ঘোষণা সৌদি আরবের এই পাঁচ রোগে নীরবে বাংলাদেশে আকস্মিক মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে

এই পাঁচ রোগে নীরবে বাংলাদেশে আকস্মিক মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ Thursday, October 1, 2026,
  • 18 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

লাইফস্টাইল ডেস্ক :: এই পাঁচ রোগে নীরবে বাংলাদেশে আকস্মিক মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে

 

কাজ করতে করতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়া, হাসপাতালে নেয়ার আগেই মৃত্যু- বাংলাদেশে এমন ঘটনা এখন আর খুব বিরল নয়। আপাতদৃষ্টিতে সুস্থ মানুষেরও কখনো কখনো আকস্মিক মৃত্যু হচ্ছে। এর পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে অসংক্রামক নানা রোগবিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগ, ক্যানসার ও কিডনি জটিলতার মতো অসংক্রামক রোগে হয়ে থাকে। এসব মৃত্যুর প্রায় অর্ধেকই অকাল বা আকস্মিক মৃত্যু। এদিকে, বাংলাদেশের সরকারি প্রতিষ্ঠান রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের এক গবেষণাপত্রে, মানসিক সমস্যাও আকস্মিক মৃত্যুর একটি কারণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে ৫টি কারণকে আলাদা করা হয়েছে বাংলাদেশে আকস্মিক মৃত্যুর ঝুঁকি হিসেবে।নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ (এনসিডি) বা অসংক্রামক রোগ। এটিকে দীর্ঘমেয়াদী রোগও বলা হয়। জিনগত, শারীরিক, পরিবেশগত এবং আচরণগত বিভিন্ন বিষয়ের সমন্বিত প্রভাবে এ রোগগুলো হয়ে থাকে। বয়স, অঞ্চল বা দেশ নির্বিশেষে সব ধরনের মানুষই অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত হন। এর মধ্যে প্রধানতম হচ্ছে, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগ – যেমন ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ ও হাঁপানি, ক্যানসার এবং কিডনি জটিলতা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, এ রোগগুলোকে সাধারণত বয়স্কদের সমস্যা বলে মনে করা হলেও, প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয় ৭০ বছর বয়স হওয়ার আগেই। এ বয়সে অন্য সব কারণে যত মানুষ মারা যায়, অসংক্রামক রোগের কারণে তার চেয়ে বেশি মারা যান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, এসব অকাল মৃত্যুর প্রায় ৮২ শতাংশই ঘটে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে। বিশ্বের মোট অসংক্রামক মৃত্যুর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ বা তিন কোটি ২০ লাখ মানুষই এসব দেশে মারা যায়।  বাংলাদেশের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতি বছর ৩০ থেকে ৬৯ বছর বয়সী দেড় কোটি লোক অসংক্রামক রোগে মারা যান।

১. হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাক

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট আইইডিসিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ বা সিভিডি রোগ, বিশেষ করে করোনারি আর্টারি ডিজিজ ধীরে ধীরে মহামারীর রূপ নিচ্ছে। কেবল তাই নয়, উচ্চ রক্তচাপ ও হার্ট ফেইলিউরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

হার্ট অ্যাটাকের জন্য আগে থেকেই বড় কোনো অসুস্থতা থাকা জরুরি নয়। আপাতদৃষ্টিতে সুস্থ মানুষেরও এটি হতে পারে। হার্টে রক্ত সরবরাহকারী রক্তনালি বন্ধ হয়ে গেলে হৃদপেশিতে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয় এবং হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।

বুকের মাঝখানে ক্রমাগত ব্যথা, যা বাম হাত ও ঘাড়ে ছড়িয়ে যেতে পারে, এর অন্যতম লক্ষণ। চোয়াল ও পিঠে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘাম, বমি বমি ভাব বা বমিও সতর্কসংকেত হতে পারে। এমন উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেয়া জরুরি।

২. স্ট্রোক

হৃদরোগের পর স্ট্রোক মৃত্যুর আরেকটি বড় কারণ। অনেকে স্ট্রোকের সাথে হার্ট অ্যাটাককে গুলিয়ে ফেলেন। কিন্তু দুটি বিষয় সম্পূর্ণ আলাদা। মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে বা রক্তনালি ছিঁড়ে গেলে স্ট্রোক হতে পারে। সাধারণত ৬০-বছরের বেশি বয়সী রোগীদের স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি থাকলেও তবে ইদানীং তরুণ এমনকি শিশুরাও স্ট্রোকে আক্রান্ত আক্রান্ত হচ্ছেন। স্ট্রোক তিন ধরনের হয়ে থাকে। মাইল্ড স্ট্রোক, ইসকেমিক স্ট্রোক ও হেমোরেজিক স্ট্রোক।

হঠাৎ শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে যাওয়া, হাত তুলতে না পারা, কথা জড়িয়ে যাওয়া, চোখে ঝাপসা দেখা, মুখ বেঁকে যাওয়া, ভারসাম্য হারানো, বমি বা খিঁচুনি এসব লক্ষণ দেখা দিলে সময় নষ্ট না করে হাসপাতালে নিতে হবে।



বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্ক ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা এক কোটি ৩৮ লাখের বেশি। ছবি: সংগৃহীত

৩. ডায়াবেটিস

বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্ক ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা এক কোটি ৩৮ লাখের বেশি। আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের ৪৩ শতাংশই জানেন না যে তারা ডায়াবেটিসে ভুগছেন। ডায়াবেটিস রোগীর মোট সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বে অষ্টম স্থানে রয়েছে। আইডিএফের এক অনুমান করছে, ২০৪৫ সালের মধ্যে এই অবস্থান সাত নম্বর স্থানে চলে যাবে অর্থাৎ ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বেড়ে দুই কোটি ২৩ লাখে পৌঁছাবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২০২২ সালের গবেষণায় দেখা গেছে, ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী প্রতি ১০০ জন তরুণ-তরুণীর মধ্যে সাতজনের ডায়াবেটিস রয়েছে। পুরুষদের তুলনায় তরুণ নারীরা এই রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন বলে ওই গবেষণায় পাওয়া গেছে।

৪. দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগ

অ্যাজমা ও ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজের মতো রোগও মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায়। বাংলাদেশে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ রোগী জানেন না যে তারা দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছেন। আইইডিসিআরের গবেষণায় দেখা গেছে, ধূমপান এবং গোবর, ঘুঁটে, লাকড়ির মতো জ্বালানি ব্যবহারের সঙ্গে এসব রোগের সম্পর্ক রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৩০ শতাংশের বেশি মানুষ ফুসফুসজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। নারীর তুলনায় পুরুষরা বেশি এ রোগে আক্রান্ত হন

ক্যানসার

প্রতিনিয়ত বাংলাদেশে ক্যানসারে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসেবে বাংলাদেশে মৃত্যুর ষষ্ঠতম কারণ ক্যানসার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে প্রতিবছর বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারে এক লাখ ১৬ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ মারা যান এবং নতুন করে আক্রান্ত হন এক লাখ ৬৭ হাজারের বেশি।

পুরুষদের মাঝে ফুসফুস ও মুখের এবং নারীদের মাঝে স্তন ও জরায়ু মুখের ক্যান্সার বেশি দেখা যায়। গত বছর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় পাওয়া গেছে, বছরে ১১ দশমিক ৯ শতাংশের মৃত্যুর কারণ ক্যানসার।

প্রতিকার ও সচেতনতা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জীবনযাত্রার পদ্ধতিতে পরিবর্তন, তামাক ব্যবহার, খাদ্যাভ্যাসে বদল, বায়ু দূষণসহ নানা কারণ ইদানীং তুলনামূলকভাবে কম বয়সীদের ভেতর আকস্মিক মৃত্যুর হার ব

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...

© All rights reserved © 2021
Developed By Engineerbd.net
EngineerBD-Jowfhowo