নিউজ ডেস্ক :: গণভোট নিয়ে কী বলছেন সাবেক উপদেষ্টারা? ‘বিএনপির অবস্থান আগে জানলে চিত্র ভিন্ন হতো’
ভিন্ন এক পরিস্থিতিতে ২০২৪ সালে দায়িত্ব নেয় ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। বিভিন্ন পেশার ও ছাত্র প্রতিনিধির সমন্বয়ে গড়া এই অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব পালন করে ১৯ মাস। পরে তারা গেছেন নিজ নিজ পেশা বা লেখালেখিতে। তাদের প্রায় সবাই এখন দেশে আছেন, নিজ বাসা বা পুরনো কর্মস্থলে।
এদিকে, জুলাই অভ্যুত্থানের পর নির্বাচন, বিচার ও সংস্কারের দাবি ছিল ছাত্র-জনতার। ওই দায়িত্ব কতটা পালন করতে পেরেছে অন্তর্বর্তী সরকার? সাবেক তিন উপদেষ্টার মতে, শুরু থেকেই দাবি আদায়ের আন্দোলনের নামে চাপে রাখা হয় অন্তর্বর্তী সরকারকেসাবেক উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, জামায়াতও বলেছে নির্বাচন দিয়ে দিতে, অন্তত রোজার পরে দিয়ে দিতে। কিন্তু বিএনপি বলেছে, ডিসেম্বরে দিয়ে দিতে। জোরালোভাবে তারা বলেছে আমরা আন্দোলন করবো। আমরা টের পাচ্ছিলাম যে ওরা চাপ তৈরি করবে। প্রতিনিয়ত আন্দোলন হতো। আমরা তো কয়েকশ আন্দোলন দেখেছি। তখন আমরা টের পেয়েছি যে এটার পেছনে ডেফিনেটলি প্রেসার গ্রুপ আছে।আরেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বললেন, অনেক সময় আমরা সচিবালয়ে দেখতাম, পাঁচটা বেজে গেছে, বের হতে পারছি না, নিচে আন্দোলন হচ্ছে। এখন সবার আন্দোলন কি মিটমাট হয়ে গেছে? তো ওইটা অন্তর্বর্তী সরকারকে চাপে রেখেছে। পচিশের মাঝামাঝি এসেও আমরা যে আরামে কাজ করতে পেরেছি তা কিন্তু না। সেই অর্থে আমাদের কাজ করার সময়টা খুব বেশি ছিল না।দেশ থেকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরও পালিয়ে গেছিল। পুরো কাঠামোটা দাঁড় করানো খুব সহজ ছিল না। ভুলভ্রান্তি থাকলেও তারা চেষ্টা করেছেন।ফরিদা আখতার বললেন, নির্বাচন না দেওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না এবং কোনো পরিকল্পনাও ছিল না। এখন কেন যে উনারা এটাকে অজুহাত হিসেবে নিচ্ছেন! উনারা কেন প্রতিশ্রুতি ভাঙছেন, তা আপনাদের কাছে উত্তর দিতে হবে না? এই কথাটা তো খুব দায়িত্বশীল, গণমুখী কথা হতে পারে না।এদিকে, বিদায়ের দু’দিন আগে মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি প্রসঙ্গে ফরিদা আক্তার বলেছিলেন, এটি হওয়ারই ছিল। চুক্তির সময় নির্ধারণেও হাত ছিল না সরকারের। উচ্চ ট্যারিফ থেকে বাংলাদেশের রফতানি বাঁচাতে ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ইউনুস সরকার।