ধর্ম ডেস্ক :: যে তিন কারণে দোয়া কবুল হয় না
বিপদ-আপদ থেকে মুক্তি, দুশ্চিন্তা কিংবা কোনোকিছু চেয়ে বরাবরই মুমিনরা সৃষ্টিকর্তার দরবারে দু’হাত তুলে ধরেন। মহান আল্লাহ তা’আলাও খোদ ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু। যখন কোনো বান্দা তার নিকট দুই হাত তুলে দোয়া করে, তখন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাকে শূন্যহাতে ফিরিয়ে দেন না।
পবিত্র কুরআনে মহান রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেছেন, ‘প্রার্থনাকারী যখন আমাকে ডাকে, তখন আমি তার ডাকে সাড়া দিই। সুতরাং তারাও যেন আমার ডাকে সাড়া দেয় ও ঈমান আনয়ন করে। আশা করা যায়, তারা সফলকাম হবে।’ (সূরা বাকারা, আয়াত: ১৮৬)।
খোদ রাসুলুল্লাহ (সা.)-ও আল্লাহর কাছে পানাহ চেয়ে দুই হাত তুলে দোয়া করতেন। উম্মতদেরও তিনি মহান রবের নিকট দোয়া করার পদ্ধতি জানিয়েছেন। যা বিভিন্ন সময়ে সাহাবায়ে-কেরামদের মাধ্যমে বর্ণিত নানা হাদিসে এসেছে।
এ ক্ষেত্রে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে দোয়া সাধারণত তিনভাবে কবুল হয়। এর মধ্যে একটি হলো- বান্দা যা দোয়া করে, আল্লাহ তাকে সেটি দান করেন। আরেকটি হলো- বান্দার দোয়ার বিনিময়ে তিনি তার থেকে ওই পরিমাণ বিপদ বা মন্দ দূর করে দেন। এছাড়া দোয়া কবুলের তৃতীয় ধরনটি হলো- দোয়ার বিনিময়ে আল্লাহ বান্দাকে আখিরাতে প্রতিদান দেয়ার জন্য সেটি সঞ্চিত রাখেন। অর্থাৎ, বান্দাকে দুনিয়াতে কিছুই না দিয়ে, দোয়ার পুরো সওয়াব বা প্রতিদান আখিরাতের জন্য সঞ্চিত রাখেন।
তবে বিভিন্ন সময়ে বর্ণিত হাদিসে দোয়া কবুল না হওয়ার কথাও এসেছে। এর মধ্যে নিচে দোয়া কবুল না হওয়ার তিনটি কারণ তুলে ধরা হলো।
দোয়ায় মনযোগী না হওয়া
আবু হুরায়রাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- কবুলের দৃঢ় প্রত্যয় রেখে তোমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করবে। জেন রাখো, উদাসীন ও আমনোযোগী মনের দোয়া আল্লাহ তা’আলা কবুল করেন না। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ৩৪৭৯)
আরেকটি হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন- তোমাদের কারও দোয়া তখনই গৃহীত হয়, যখন সে তাড়াহুড়া না করে। (তাড়াতাড়ি করে দোয়া করার পর) সে তো বলতে থাকে, আমি দোয়া করলাম, অথচ আল্লাহর কাছে আমার দোয়া গৃহীত হলো না। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৬৮২৭)
গুনাহ কিংবা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার মতো দোয়া করা
জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন- কেউ যদি কিছু দোয়া করে আর তা যদি কোনো গুনাহ বা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন কারার দোয়া না হয়, তবে আল্লাহ তা’আলা অবশ্যই সে যা চায় তা তাকে দেন, কিংবা তার থেকে দূরীভূত হবে সে পরিমাণ মন্দ। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ৩৩৮১)
হারাম উপার্জন
হারাম উপার্জনকারী কোনো দোয়া করলে তার দোয়া কবুল হয় না। আবু হুরায়রাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- ‘আল্লাহ তা’আলা পবিত্র, তিনি পবিত্র ও হালাল বস্তু ছাড়া গ্রহণ করেন না। আর আল্লাহ তা’আলা তার প্রেরিত রসূলদের যে হুকুম দিয়েছেন, মুমিনদেরকেও সে হুকুম দিয়েছেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২২৩৬