সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের সাথে দস্যুর বন্দুকযুদ্ধ: গ্রেপ্তার ২, নিহত ১
নিজস্ব প্রতিবেদক : সুন্দরবনের কুখ্যাত দস্যু ‘দুলাভাই বাহিনী’র সঙ্গে কোস্ট গার্ডের বন্দুক যুদ্ধে ৩ দস্যু গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এর মধ্যে একজন নিহত হয়েছে। বাহিনী প্রধান সহ গুলিবিদ্ধ দুই দস্যুকে গ্রেফতার ও বেশ কিছু অস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন মংলা সূত্রে জানাগেছে।
শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন ৩ দস্যু গুলিবিদ্ধের খবর নিশ্চিত করেছেন । এর মধ্যে শওকাত সরদার নামের এক বনদস্যুর মৃত্যু ঘটেছে। মৃত দস্যু’র লাশ কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত দুলাভাই বাহিনীর প্রধান রবিউল ইসলামকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনও বিস্তারিত ভাবে কিছু জানায়নি কোস্ট গার্ড। পরে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, গত ২৫ জুন রাতে সুন্দরবনের গহীনে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে কুখ্যাত ডাকাত ‘দুলাভাই বাহিনী’র সদস্যদের সঙ্গে রাতব্যাপী বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।
বোটে অবস্থানরত দস্যুদল কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে অতর্কিত গুলি চালানো শুরু করে এবং আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ড সদস্যরাও ডাকাতদের বোট লক্ষ্য করে পাল্টাগুলি ছোড়ে। চলমান এ অভিযানে এখন পর্যন্ত তিনজন ডাকাত সদস্যকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করা হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার এবং বাহিনীর পলাতক দস্যুদের আটকের জন্য কোস্ট গার্ডের অভিযান চলমান রয়েছে। অভিযান সমাপ্ত হলে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমকে অবহিত করা হবে।
বর্তমানে ঐ এলাকায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সাধারণ জনগণকে কোনো ধরনের গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার এবং স্বাভাবিকভাবে চলাচল করার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

সুন্দরবনে বন বিভাগের কয়রা টহল ফাঁড়ির আওতাধীন ময়দাপেশা এলাকায় শুক্রবার এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে৷
পশ্চিম বন বিভগের বিভাগীয় কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান জানান, ময়দাপেশা এলাকায় কোস্টগার্ডের অভিযান চলছিলো। অভিযানে কি হয়েছে এটা আমরা জানি না।
কয়রা উপজেলা স্বস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ রেজাউল করীম জানান, শুক্রবার ভোর রাত চারটার দিকে গুলিবিদ্ধ শওকত সরদার এর মৃত দেহ হাসপাতালে নিয়ে আসে কোস্টগার্ড। সে মেহশ্বরীপুর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের মৃত এজাহার সরদারের পুত্র। অপর একজন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আসে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অপরদিকে, খুলনা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে দুলাভাই বাহিনীর প্রধান রবিউল ইসলামকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নিয়ে এসেছে কোস্টগার্ড। সে কয়রার মহেশ্বরীপুর এলাকার মৃত মানিক গাজীর পুত্র। সকাল ১০ টার দিকে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারী ইউনিট ১১-১২ ওয়ার্ডে চিকিৎসা দিয়ে প্রিজন সেলে রাখা হয়েছে।
কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শাহ আলম জানান, সুন্দরবনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত শওকত সরদার এলাকায় শাকাত সরদার নামে পরিচিত। সে দুলাভাই বাহিনীর পরিচালক, আজাহারের চাচা। আহত রবিউল ইসলামই সুন্দরবনের বনদস্যু দুলাভাই বাহিনীর প্রধান হিসাবে দস্যুতা করে আসছিলো