ভারতে হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী মসজিদসহ বহু স্থাপনা ধ্বংস করেছে মোদি সরকার

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ Saturday, June 27, 2026,
  • 22 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

ভারতে হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী মসজিদসহ বহু স্থাপনা ধ্বংস করেছে মোদি সরকার

 

নিউজ ডেস্ক :: ভারতে হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী মসজিদসহ বহু স্থাপনা ধ্বংস করেছে মোদি সরকার।

পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিয়ে অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে মুক্তি পেয়েছেন। পুরুলিয়ায় আরেক হতভাগ্য মুসলিম মাইমুর উগ্রবাদী হিন্দুদের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে এখন বেঁচে থাকার শেষ চেষ্টা করছেন।

 

ভীতসন্ত্রস্ত মাইমুর পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা করে বলেন, হামলার মুহূর্তে আমি শুধু বাঁচতে চেয়েছিলাম। ওরা ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিয়ে আমাকে ধাওয়া করছিল। আমি কোথায় লুকাব, তা বুঝতে পারছিলাম না। থানায় গেলে যে পুলিশ আমাকে সাহায্য করবে না, সেটা নিশ্চিত ছিলাম। তারপরও থানায় গিয়ে উঠলাম। পুলিশ তখন আমাকে নিরাপত্তা দেওয়ার পরিবর্তে গরু পাচার মামলার আসামি বানিয়ে দিল। বুঝতে পারলাম, আমাদের মুসলিম পরিচয় নিয়ে ভারতে বসবাস করা সবচেয়ে বড় অপরাধ!

মাইমুরই এখন ভারতের ২৫ কোটি মুসলিমের জীবনের প্রতিচ্ছবি। অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে জীবন পার হচ্ছে দেশটির মুসলিমদের। হতাশা আর আতঙ্ক এখন তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। কখন যেন হিন্দু জঙ্গিদের হাতে প্রাণ যায়! মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয় অথবা বেঁচে থাকার অবশিষ্ট অবলম্বন জয় শ্রীরাম স্লোগানধারীদের বুলডোজারের নিজে চাপা পড়ে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ভারতের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় তথা মুসলিমদের ওপর নানামুখী নির্যাতন দিন দিন বেড়েই চলছে। তথাকথিত গোরক্ষা গোষ্ঠীসহ উগ্রবাদী হিন্দু সংগঠনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে হত্যাসহ বহুমাত্রিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন মুসলিমরা। প্রতিনিয়ত প্রকাশ্য দিবালোকে পিটিয়ে হত্যা করা হচ্ছে তাদের। চলতি বছরের প্রথম চার মাসে অন্তত ২৭ জন মুসলিমকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এমনকি অনেক রাজ্যে তাদের ঘরবাড়ি ও দোকানপাট বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে টার্গেটে পরিণত হয়েছে মুসলিমদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মসজিদ, মাদরাসা, দরগা থেকে শুরু করে কবরস্থান পর্যন্ত। গত দেড় মাসে মসজিদসহ অন্তত ২৩টি ধর্মীয় স্থাপনা মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিজাব পরা, পাবলিক প্লেসে নামাজ বা মসজিদের মাইক ব্যবহারের মতো ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিষয়ে কড়াকড়ি তৈরি হয়েছে। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন এবং জাতীয় নাগরিকপঞ্জি নিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বড় ধরনের ভীতি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের রাজনীতিতে মুসলিম প্রতিনিধিদের সংখ্যা আগের চেয়ে কমে গেছে। পাঠ্যপুস্তক থেকে মুসলিম শাসকদের ইতিহাস বাদ দেওয়া এবং ঐতিহাসিকভাবে পরিচিত বিভিন্ন শহরের নাম পরিবর্তনের ঘটনা ঘটছে।

বিজেপি সমর্থিত বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) এবং বজরং দলের (বিডি) মতো হিন্দু আধিপত্যবাদী জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো দেশজুড়ে, বিশেষ করে বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোয় অবাধে তাদের কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। সংগঠনগুলোর সদস্যরা বিভিন্ন অজুহাতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের, বিশেষ করে মুসলমানদের হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, আক্রমণ এবং হত্যা অব্যাহত রেখেছে।

পাহালগাম হামলা এবং তার ফলস্বরূপ পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক সংঘাতের পর দেশজুড়ে হাজার হাজার মুসলমানকে যথেচ্ছভাবে গ্রেপ্তার করে কর্তৃপক্ষ। ভারতজুড়ে হাজার হাজার বাংলাভাষী মুসলমানকে আটক করা হয় এবং গুজরাট ও আসামে তাদের বসতিগুলো নির্বিচারে ভেঙে দেওয়া হয়। এছাড়া একটি নতুন ‘পুশব্যাক’ নীতির অধীন যথাযথ বিচার প্রক্রিয়া ছাড়াই অন্তত এক হাজার ৮৮০ জনকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হয়, যাদের মধ্যে প্রায় ২০০ জন ভারতীয় নাগরিক ছিলেন।

বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোয় ৪৫ দিনে ২৩টির বেশি মুসলিম স্থাপনা ধ্বংস

ভারতে গত ৪৫ দিনে (দেড় মাসে) অন্তত ২৩টি মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে মসজিদ, মাদরাসা, ঈদগাহ ও দরগাহ রয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, এই উচ্ছেদ অভিযানের অধিকাংশই বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে সংঘটিত হয়েছে। এই ধ্বংসযজ্ঞগুলো মূলত দিল্লি, উত্তর প্রদেশ, রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, গুজরাট এবং হরিয়ানা রাজ্যে চালানো হয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অধিকারকর্মী সংগঠন ‘জাস্টিস ফর অল’ ভারতে মসজিদ ভাঙার ঘটনা দ্রুতগতিতে বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা সম্ভল, বারাণসী এবং জয়পুরে সাম্প্রতিক ঘটনার কথা উল্লেখ করেছে। ১০০০ বছরের পুরনো মসজিদ থেকে শুরু করে ২০০ বছরের পুরনো দরগাহ পর্যন্ত গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ভারতের কয়েকটি বিজেপি-শাসিত রাজ্যে মুসলিমদের ধর্মীয় স্থানগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো এই ধ্বংসযজ্ঞের ঢেউ গুরুতর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, এই ধ্বংসযজ্ঞগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে মনে হচ্ছে না। মে মাস থেকে ছয়টি রাজ্য জুড়ে মসজিদ, দরগাহ, ঈদগাহ, মাদরাসাসহ অন্তত ২৩টি মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়েছে। বারাণসীর ১০০০ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক মসজিদ গঞ্জ শহীদা ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

দিল্লির মঙ্গোলপুরীতে অবস্থিত প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো ‘দরগাহ পঞ্চ পীরান’ ভেঙে ফেলা হয়। এছাড়া রাজস্থানের জয়পুরের নূরানি মসজিদ, মুম্বাইয়ের বান্দ্রা ও গোরেগাঁওয়ের বেশ কয়েকটি মসজিদ ও দরগাহ এবং বারাণসীর গঞ্জ শাহিদা মসজিদও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ওয়াকফ বোর্ড এবং স্থানীয় তত্ত্বাবধায়কদের অভিযোগ, আইনি বাধা এবং স্থাপনাগুলোর ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও কোনো পূর্ব নোটিস ছাড়া তাড়াহুড়া করে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে।

নির্বাচন-পরবর্তী মুসলিম নির্যাতন

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার শিকার মুসলিম সম্প্রদায়

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...

© All rights reserved © 2021
Developed By Engineerbd.net
EngineerBD-Jowfhowo