বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে বরগুনার সেই মিন্নি

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ Saturday, June 27, 2026,
  • 18 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

নিউজ ডেস্ক :: বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে বরগুনার সেই মিন্নি

বরগুনার বহুল আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের সাত বছর পূর্ণ হলো আজ (২৬ জুন)। ২০১৯ সালের এই দিনে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির উপস্থিতিতে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা করা হয় রিফাতকে।

দেশজুড়ে আলোড়ন তোলা এই মামলায় পরবর্তীতে মিন্নিসহ কয়েকজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। বর্তমানে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে বন্দি রয়েছেন মিন্নি।

কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবে মিন্নি কনডেম সেলে অধিকাংশ সময় বেশ নিরিবিলি থাকেন। নিয়মিত নামাজ আদায় ও ধর্মীয় গ্রন্থ পাঠের মধ্য দিয়েই তার দিন কাটে। কারাগারের অন্য বন্দি বা কারারক্ষীদের সঙ্গে তিনি খুব একটা কথা বলেন না। কেবল নির্দিষ্ট নিয়মে বাবা-মা বা নিকটাত্মীয়রা সাক্ষাৎ করতে এলে তাদের সঙ্গে কিছু সময় কথা বলেন। কারা কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, কারাগারে তার আচরণ স্বাভাবিক এবং এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের শৃঙ্খলাভঙ্গের রেকর্ড নেই।
কনডেম সেলে কেমন আছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সেই মিন্নি
তিস্তার তীব্র ভাঙনে বিলীন ২৫ বসতবাড়ি

মামলা ও কারাসূত্র জানায়, সাজা ঘোষণার পর মিন্নিকে প্রথমে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে রাখা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া ও পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাতের সুবিধার কথা বিবেচনা করে তাকে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।

বরিশাল জেলা তথ্য

আদালতের নথি ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজ সংলগ্ন এলাকায় রিফাত শরীফের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় স্থানীয় গ্যাং ‘বন্ড বাহিনী’র সদস্যরা। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও আলোচনার জন্ম দেয়।

হত্যাকাণ্ডের পরদিন রিফাতের বাবা আব্দুল হালিম দুলাল শরীফ বরগুনা সদর থানায় ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও বেশ কয়েকজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় রিফাতের স্ত্রী মিন্নির সম্পৃক্ততার দাবি করা হয়। ঘটনার প্রায় ২০ দিন পর মিন্নিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১ অক্টোবর পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। এতে মোট ২৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্ক- দুই ভাগে মামলার বিচার চলে। ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের মামলায় আদালত মিন্নিসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন এবং চারজনকে খালাস দেন। একই বছরের ২৭ অক্টোবর শিশু আদালত অপ্রাপ্তবয়স্ক কয়েকজন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন।

মামলার শুরু থেকেই মিন্নির পরিবার দাবি করে আসছে, তাকে পরিকল্পিতভাবে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে। তাদের অভিযোগ, তদন্তের সময় প্রকৃত ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়া হয়েছে এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে একজন সাক্ষীকে আসামিতে পরিণত করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, গুরুত্বপূর্ণ আলামত ও সিসিটিভি ফুটেজ যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি এবং তদন্তে নানা অসঙ্গতি ছিল।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...

© All rights reserved © 2021
Developed By Engineerbd.net
EngineerBD-Jowfhowo