শিরোনামঃ
মৃত্যুর আগে ছোট্ট যে কালিমা হতে পারে জান্নাতের উসিলা দেশের বাজারে বাড়ল স্বর্ণের গহনার দাম বরিশালে ৭৯৭ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নই হবে বিলকিস জাহান শিরীনের প্রশাসনিক নেতৃত্বের আসল মূল্যায়ন নলছিটিতে সড়ক খুঁড়ে সুড়ঙ্গে ড্রেজারের অবৈধ পাইপ: ঝুঁকিতে নদীপাড়ের মহাসড়ক বরিশালে উদ্ধার হওয়া ২০টি হারানো মোবাইল ফেরত পেলেন গ্রাহকরা বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ৬৪৭ কোটি টাকার বাজেট পেশ আগস্টের জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ আব্দুর রহমান বিশ্বাস ও হাফিজ উদ্দিনের অনন্য মেলবন্ধন একই পথ, একই বিদ্যাপিঠ, একই শীর্ষাসন ঐতিহ্যবাহী দুর্গাসাগরের সৌন্দর্য্য রক্ষা দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান খাল পুনঃখনন শেষে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ১ কোটি ২ লাখ টাকা ফেরত দিলেন নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা আফরোজ

ভারতীয় নাগরিক হয়েও প্রধান শিক্ষকের পদে দীপক চন্দ্র সরকার।

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ Monday, June 29, 2026,
  • 33 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :: ভারতীয় নাগরিক হয়েও প্রধান শিক্ষকের পদে দীপক চন্দ্র সরকার।

খুলনার পাইকগাছায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ভারতীয় নাগরিকত্ব থাকার প্রমাণ মিলেছে। এছাড়া, তার বিরুদ্ধে স্কুলে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। ওই শিক্ষকের দ্বৈত নাগরিকত্বসহ বিভিন্ন অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলেও তিনি এখনো চাকরিতে বহাল রয়েছেন। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

জানা গেছে, পাইকগাছার লস্কর উপজেলার খড়িয়া নবারুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারের ভারতীয় নাগরিকত্ব রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন নিবন্ধন আধিকারিকের দপ্তর থেকে প্রকাশিত ভোটার তালিকায় তার নাম রয়েছে।

দীপক চন্দ্র সরকার পশ্চিমবঙ্গের উত্তর বর্ধমানের শক্তিগড় থানার ২ নং বরশুল গ্রামের ১ নং মনমোহন দে রোডের পশ্চিমাংশের বাসিন্দা। তিনি আবার পাইকগাছা উপজেলার লস্কর ইউনিয়নের খড়িয়া ঢেমশাখালী গ্রামের ভোটার। দীপকের স্ত্রী অপর্ণা সররকার, মেয়ে জয়শ্রী সরকার, বড় ভাই দুলাল চন্দ্র সরকার ও তার স্ত্রী সুশীলা সরকার, ছোট ভাই তাপস সরকার ও তার স্ত্রী বর্ণালী সরকার ভারতের স্থায়ী বাসিন্দা ও ভোটার।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীপক তার পরিবারের লোকদের ভারতে পাঠিয়ে দিলেও বাংলাদেশে থেকে স্কুলকে পুঁজি করে অর্থবিত্ত তৈরি করছেন। স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে ২০২৪ সালে স্কুলে পরিচ্ছন্নতা কর্মী, নিরাপত্তা কর্মী ও আয়া নিয়োগ দেন। এই নিয়োগে অন্তত ৩০ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ ওঠে।

এলাকাবাসী জানান, গোপনে নিয়োগ প্রক্রিয়া চললেও বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর গ্রামবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে মিছিল, সমাবেশ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।

অভিযোগ রয়েছে, ২০২২-২৩ অর্থ বছরে খড়িয়া নবারুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রণোদনা অনুদান বাবদ বরাদ্দ পাঁচ লাখ টাকা খরচের ক্ষেত্রে দুর্নীতি হয়েছে। বরাদ্দকৃত টাকার মধ্যে দুই লাখ ২৫ হাজার টাকা শিক্ষক, সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থী এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যয় করা হয়। বাকি দুই লাখ ৭৫ হাজার টাকায় স্কুলের বিভিন্ন সামগ্রী কেনাকাটা এবং বিল্ডিংয়ের রিপেয়ারিংয়ের কাজ করার কথা বলা হলেও তদন্ত রিপোর্ট কাজের মান নিয়ে সংশয় এবং বিল ভাউচার যথাযথ নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডিজিটাল পর্দার ফাঁদে শিশু : সংকট ও করণীয়ডিজিটাল পর্দার ফাঁদে শিশু : সংকট ও করণীয়
স্থানীয় বাসিন্দা প্রকাশ চন্দ্র সরকার বলেন, হেড স্যারের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। তিনি ভারতের নাগরিক। নিয়োগের নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে তিনি ওপারে পাচার করেন। স্কুলের নামে বরাদ্দ এলেও ভুয়া বিল ভাউচার করে তহবিল তছরূপ করেন। এ নিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে অভিযোগ দিলেও ফলাফল শূন্য অভিযোগ করেন তিনি।

নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, প্রাপ্ত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইউএনও’র নির্দেশে উপজেলা রিসোর্স অফিসার মো. ঈমান উদ্দিন ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর ইউএনও’র নির্দেশে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শাহজাহান আলীর নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি আরেকটি প্রতিবেদন জমা দেয়। একই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর জেলা শিক্ষা অফিসার এস এম ছায়েদুর রহমান পুনরায় তদন্ত করেন।

এছাড়া, চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসক বরাবর প্রেরিত প্রতিবেদনে ইউএনও ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারের ভারতীয় নাগরিকত্ব রয়েছে বলে ভোটার তালিকা থেকে জানা যায়। এমপিও সংক্রান্ত নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষক-কর্মচারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হয়। বিদেশি নাগরিক এমপিওভুক্ত পদে থাকার বিষয়টি প্রশ্নসাপেক্ষ ও বিতর্কিত।

এদিকে ইউএনও’র প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) কানিজ ফাতেমা লিজা ২৬ ফেব্রুয়ারি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালককে প্রেরিত এক প্রতিবেদনে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর ও স্পর্শকাতর হওয়ায় সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান। তবে চার মাস পরেও এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি নেই বলে জানা গেছে।

তবে জানতে চাইলে দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত দীপক চন্দ্র সরকার। তিনি বলেন, আমি ভারতের ভোটার না। বাংলাদেশের নাগরিক। স্কুলের অনুদান আত্মসাৎ কিংবা নিয়োগ নিয়ে বাণিজ্যের অভিযোগও সত্য নয় বলেও দাবি করেন তিনি।

তথ্যসূত্র :- দৈনিক আমার দেশ।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...

© All rights reserved © 2021
Developed By Engineerbd.net
EngineerBD-Jowfhowo