শিরোনামঃ
দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর কাবার সামনে শপথ, তবুও টেকেনি সংসার; প্রবাসীর ৪৯ লাখ টাকা আত্মসাত ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি ৪৫ দিনের শিশু, ১৪ দিন পর মায়ের কোলে ফিরল সাদিয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারলে বাকি ২ বছর কীভাবে সামলাবেন ট্রাম্প বরিশালে ৫০ বোতল কোডিন সিরাপসহ নারী মাদক কারবারি আটক বরিশাল বিভাগের ১১ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শিক্ষা বোর্ডের শোকজ এসআরবির নতুন ডিজি ফারুক, শিল্প পুলিশসহ গুরুত্বপূর্ণ বড় পদে রদবদল জোড়া কবর জেগে ওঠা’র রহস্য উদ্ঘাটন করলো প্রশাসন নতুন দায়িত্ব পেলেন ইশরাক হোসেন জমি লিখে নেয়ার পর ৯৫ বছরের বৃদ্ধ বাবাকে গাছতলায় ফেলে দিল সন্তানরা

যে দেশে বিড়াল থাকে রাজার হালে

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ Monday, January 26, 2026,
  • 122 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

নিউজ ডেস্ক :: যে দেশে বিড়াল থাকে রাজার হালে

ইস্তাম্বুলের একটি শপিং সেন্টারে থাকা সাদা-ধূসর রঙের বিড়াল ‘ক্যানিয়ন’ এখন রীতিমতো মোটা হয়ে উঠছে। কারণ, তার ঝুড়ি হারিয়ে যাওয়ার পর থেকেই সে পেয়েছে মানুষের অঢেল ভালোবাসা, খাবার আর যত্ন।

তার দুরবস্থার খবর ছড়িয়ে পড়তেই অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী এগিয়ে আসে। কেউ দিয়েছে খাবার, কেউ খেলনা, কেউ আরামদায়ক ঘর। এমনকি এক ভক্ত ক্যানিয়নের নামে খুলে ফেলেছে আলাদা ইনস্টাগ্রাম পেজ।

ক্যানিয়ন একা নয়। সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, ইস্তাম্বুলের রাস্তায় প্রায় এক লাখ ষাট হাজারের বেশি বিড়াল বসবাস করে। শহরের প্রায় এক কোটি ষাট লাখ বাসিন্দা নিয়মিত তাদের খাবার দেয়, আদর করে। এই পথবিড়ালদের প্রতি মানুষের ভালোবাসা অনেকটা ধর্মীয় ভক্তির মতোই গভীর।

ইস্তাম্বুলের ইউরোপীয় বা এশীয় অংশ- যেখানেই যান না কেন, বিড়াল চোখে পড়বেই। ফেরিতে, রেস্তোরাঁর চেয়ারে ঘুমোতে থাকা, সুপারশপে ঘোরাফেরা কিংবা দোকানের কাঁচের জানালায় গুটিসুটি হয়ে বসে থাকা- সব জায়গাতেই তাদের অবাধ বিচরণ। আর বিরক্ত করার লোক খুব কমই আছে।

স্থানীয় বাসিন্দা গায়ে কোসেলারডেন বলেন, ইস্তাম্বুলবাসী প্রাণী ভালোবাসে। এখানে বিড়াল অনায়াসে দোকানে ঢুকে দামী কাপড়ের ওপর ঘুমিয়ে পড়তে পারে। তাই একে বলা হয় ‘বিড়ালের শহর’।

অনেক পথবিড়ালই এখন ওই এলাকার ‘তারকা’। ২০১৬ সালে কাদিকয় এলাকায় ‘টম্বিলি’ নামে এক গোলগাল বিড়ালের স্মরণে তৈরি করা হয় ব্রোঞ্জের মূর্তি। বেঞ্চে হেলান দিয়ে বসার তার ভঙ্গি ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়েছিল।

হাগিয়া সোফিয়ার জনপ্রিয় বিড়াল ‘গ্লি’ মারা গেলে তুরস্কের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয় শোকবার্তা। ২০০৯ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও তাকে আদর করেছিলেন।

অটোমান সুলতানদের ঐতিহাসিক বাসভবন টোপকাপি প্রাসাদে সম্প্রতি আবার চালু করা হয়েছে শত শত বছরের পুরোনো ‘বিড়াল চলাচলের দরজা’। প্রাসাদের পরিচালক ইলহান কোকামান বলেন, বিড়াল সবসময়ই এখানে ছিল। কারণ তারা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং মানুষের কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, ইসলামে নবী মুহাম্মদের বিড়ালপ্রেমের গল্পও এই ভালোবাসার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। ১৪৫৩ সালে অটোমানরা কনস্টান্টিনোপল দখলের সময় মাছ ও মাংসের দোকানের সামনে বিড়ালদের খাবারের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যেত। তখন বিড়ালকে খাবার দেওয়া হতো ঈশ্বরের নামে দান হিসেবে।

ছয় শতক পেরিয়ে গেলেও ইস্তাম্বুলে বিড়ালের উপস্থিতি আজও অটুট। তবে শহর কর্তৃপক্ষ এখন সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। গত বছর ৪৩ হাজারের বেশি বিড়ালকে নির্বীজ করা হয়েছে।

অতিরিক্ত খাবার দেওয়ার ফলে ইঁদুর বাড়ছে- এমন আশঙ্কাও করছে প্রশাসন। গভর্নর দাভুত গুল বলেন, সাধারণত বিড়াল ইঁদুর তাড়ায়। কিন্তু এখানে দেখা যাচ্ছে, ইঁদুর আর বিড়াল একসঙ্গে খাবার খাচ্ছে। বিষয়টি আমাদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

তবু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। জার্মানি থেকে আসা শিক্ষার্থী ফাতিমে ওজারসলান বলেন, চার মাসে আমি এখানে একটি ইঁদুরও দেখিনি। জার্মানিতে ইঁদুর বেশি, কিন্তু এখানে এত বিড়াল থাকায় তারা নিশ্চয়ই ভয় পায়।

তার মতে, বিড়াল ছাড়া ইস্তাম্বুল কল্পনাই করা যায় না। এখানে মানুষ আর বিড়াল পাশাপাশি থাকে- সমান মর্যাদায়।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...

© All rights reserved © 2021
Developed By Engineerbd.net
EngineerBD-Jowfhowo