শিরোনামঃ
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি, টানা ৫ দিন বজ্রসহ বৃষ্টি ও ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস ১০ লাখ টাকায় মাদকের চালান ছেড়ে দিলেন ৪ পুলিশ কর্মকর্তা তিনবার তুষারধস থেকে ফিরে  রোমাঞ্চকর অভিযানের গল্প শোনালেন বরিশালের সন্তান  এভারেস্টজয়ী মুহিত বরিশালে মহিলা আ.লীগ নেত্রী ও ইউপি সদস্য শিলার আত্মহত্যা এক কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি বাকেরগঞ্জের ছাত্রাবাস ৩৪ বছর ধরে পরিত্যক্ত: এখন অপরাধীদের আখড়া বরগুনায় অভিযানে ৩৫০০ পিস ইয়াবা সহ গ্রেফতার ১ বিকাশে কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন, পিরোজপুরে ২ যুবক আটক থানচি-তিন্দুমুখ নৌপথ ৩০ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা ভারতের নতুন শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী

উদাসীনতায় ঝুঁকিতে বরিশাল জাদুঘর

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ Friday, June 5, 2026,
  • 64 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :: উদাসীনতায় ঝুঁকিতে বরিশাল জাদুঘর

বরিশালের ঐতিহ্যবাহী বিভাগীয় জাদুঘরটি কর্তৃপক্ষের অবহেলাসহ যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ক্রমশ ঝুঁকির মুখে। সাম্প্রতিক এক ভূমিকম্পে দু শতাধিক বছরের পুরনো এ ভবনটির পশ্চিম অংশের কিছু এলাকার ছাদের ইস্পাতের ভিমসহ ইট-সুরকির কলামগুলো কিছুটা দেবে গেছে বলে মনে হচ্ছে। কিছু ভিম সরে গেছে বলেও মনে করা হচ্ছে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ভবনটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সরেজমিন প্রতিবেদন দিতে কুয়েট-এর বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে একটি কমিটি গঠন করলেও সে কমিটি প্রাথমিক তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেছে। কমিটিতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলীদের অন্তর্ভুক্ত করার মতামত দিয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিতে আরো সময় চেয়েছেন।

২০০৪ সালের ১ এপ্রিল বরিশাল পুরাতন কালেক্টরেট ভবনটিকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করে গেজেট প্রকাশ করে সরকার। ঐ বছরই ৪ এপ্রিল অধিদপ্তরের রাজস্ব তহবিল থেকে প্রায় সোয়া কোটি টাকা ব্যয়ে ভবনটির সংস্কার ও সংরক্ষণ কাজের উদ্বোধন করেন তৎকালীন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম সেলিমা রহমান। বরিশালের সিটি মেয়র মুজিবুর রহমান সারোয়ারের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং অধিদপ্তরের মহাপরিচালকও উপস্থিত ছিলেন।

তবে অত্যন্ত আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি, বরিশাল প্রশাসনিক বিভাগ প্রতিষ্ঠার প্রায় ৩৩ বছর পরেও এ অঞ্চলের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ খুলনাতেই রয়ে গেছে। ফলে বরিশাল বিভাগীয় জাদুঘরসহ এ অঞ্চলের বিশাল প্রত্নসম্পদ ও বিভাগীয় জাদুঘরটির দেখাশোনার দায়িত্ব খুলনাতে।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মতে, বরিশাল পুরাতন কালেক্টরেট ভবনটি নিম্ন গাঙ্গেয় অববাহিকায় নির্মিত ঔপনিবেশিক আমলের প্রথম প্রশাসনিক ভবন বলে মনে করা হয়। ১৮০৩ সালে তৎকালীন বাকেরগঞ্জ থেকে জেলা সদর বরিশালে স্থানান্তরের পর থেকে ১৮২১ সাল পর্যন্ত এ পুরাতন কালেক্টরেট ভবনটি পর্যায়ক্রমে নির্মিত হয়।

দ্বিতল এ কালেক্টরেট ভবনটি পাশ্চাত্য ও স্থানীয় ইন্দো-মুসলিম স্থাপত্য রীতির অনুকরণে নির্মিত হয়। আয়তাকার ভূমি পরিকল্পনায় নির্মিত এ ভবনটির দৈর্ঘ্য ৯৪ মিটার এবং প্রস্থ ২১ মিটার। উঁচু খিলান যুক্ত এ ভবনটির নিচতলায় ১৪টি এবং দোতলায় ৯টি কক্ষ রয়েছে।

ভবনটির নিচতলার দুটি কক্ষে লোহার তৈরি তাক রয়েছে। যা সম্ভবত রেকর্ড রুম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিচতলা থেকে দোতলায় ওঠার জন্য কাঠের দুটি সিঁড়ি ছাড়াও দোতলার উত্তর ও দক্ষিণ পাশের টানা বারান্দায় পাশ্চাত্য তুস্কান রীতির জোড়া স্তম্ভ রয়েছে। এ স্তম্ভগুলোর উপরের অংশ খড়খড়ি বিশিষ্ট প্যানেল এবং নিচের অংশ অলংকৃত লোহার রেলিং দিয়ে একটি অপরটির সাথে সংযুক্ত রয়েছে। এমনকি পর্যাপ্ত আলো সরবরাহের জন্য এ ভবনটির ছাদে একাধিক স্কাই লাইট রয়েছে। পাতলা ইট, টালি, লোহা এবং কাঠের বর্গা ও চুন-সুরকি দিয়ে নির্মিত এ ভবনটির প্রতিটি কক্ষে একাধিক দরজা ও জানালা রয়েছে।

কিন্তু এ ভবনটির পাশেই তৎকালীন পাকিস্তান আমলে জেলা প্রশাসনের জন্য আরেকটি আধুনিক স্থাপত্যের দোতলা ভবন নির্মিত হলেও সে ভবনটি এখনো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে অধিদপ্তর থেকে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে একাধিক চিঠি দেওয়া হলেও বিষয়টির কোনো সুরাহা হয়নি।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...

© All rights reserved © 2021
Developed By Engineerbd.net
EngineerBD-Jowfhowo