শিরোনামঃ
বরিশালের চরমোনাইতে বিএনপি নেতার বাড়িতে হামলা ও ডাকাতির অভিযোগ বাংলাবাজার এলাকা থেকে ৮০ ঊর্ধ্ব বৃদ্ধ নিখোঁজ, সন্ধান চেয়ে পরিবারের আকুতি বরিশালে বিএনপি নে°তার বি°রু°দ্ধে দুই কোটি টাকার সরকারি জমি দখ°লচে°ষ্টা দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্বামীকে ৬ টুকরো করে হত্যা করলো প্রথম স্ত্রী টানা কয়েক বছর ধরে দেশের মানুষ উচ্চ মূল্যস্ফীতির যন্ত্রণা ভোগ করছে, ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বরিশালে যুবককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ২  বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘প্রথম ফ্যাসিস্ট বাহিনী মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়’ হিসেবে স্বীকৃতির দাবি ভারী যানবাহন উঠলেই দুলতে থাকে ঝালকাঠির বাসন্ডা সেতু: প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছে ৭০০ যানবাহন আলজেরিয়াকে বিদায় করে শেষ ষোলোতে সুইজারল্যান্ড লাল মাংস উৎপাদনকারী নতুন মুরগির উপজাত উদ্ভাবন করল বাকৃবি

বরিশালের চরমোনাইতে বিএনপি নেতার বাড়িতে হামলা ও ডাকাতির অভিযোগ

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ Friday, July 3, 2026,
  • 15 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

বরিশালের চরমোনাইতে বিএনপি নেতার বাড়িতে হামলা ও ডাকাতির অভিযোগ

‘বসন্তের কোকিল’ শাহ আলমের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠছে তৃণমূল বিএনপির নেতা কর্মীরা।
​বিশেষ প্রতিনিধি, বরিশাল: বরিশালের চরমোনাই ইউনিয়নে রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘বসন্তের কোকিল’ ও চরম সুবিধাবাদী হিসেবে পরিচিত হাফেজ মো: শাহ আলমের রাতারাতি ভোলবদল এবং অনুপ্রবেশের চেষ্টায় স্থানীয় দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত একাধিক রাজনৈতিক দলের পদধারী এই ব্যক্তি এখন নিজেকে বিএনপির ‘দুঃসময়ের কাণ্ডারি’ দাবি করে মাঠে নেমেছেন। দলের শীর্ষ নেতাদের সাথে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণার মাধ্যমে রাতারাতি বিএনপি সাজার এই অপচেষ্টাকে কেন্দ্র করে চরমোনাই ইউনিয়ন বিএনপিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
​স্থানীয় সূত্র ও প্রাপ্ত নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ৫ই আগস্ট পটপরিবর্তনের পর শাহ আলম তার ভোলবদল শুরু করেন। তিনি নিজেকে হাফেজ ও সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে দাবি করলেও মূলত এলাকায় সুদের কারবার, দলাদলি ও সুযোগসন্ধানী রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সরলতার সুযোগ নিয়ে তাদের সাথে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে তিনি নিজেকে দলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করছেন। এতে দলটির প্রকৃত ত্যাগী কর্মীরা সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছেন, যা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
​বহুরূপী রাজনৈতিক চরিত্র ও দালিলিক প্রমাণ
​অনুসন্ধানে প্রাপ্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক কমিটির দালিলিক প্রমাণ শাহ আলমের বহুরূপী রাজনৈতিক চরিত্রের সত্যতা নিশ্চিত করে। প্রাপ্ত নথিতে দেখা যায়, চরমোনাই সাংগঠনিক থানা শাখার ৩নং ওয়ার্ড (শালুকা) ‘ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর কমিটিতে হাফেজ মো: শাহ আলম ‘সহ-সভাপতি’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এরপর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের হাওয়া বুঝে তিনি ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’-এর বরিশাল সদর উপজেলা সমন্বয় কমিটিতে ‘যুগ্ম সমন্বয়কারী’ হিসেবে নাম লেখান, যার অনুমোদনের স্পষ্ট প্রমাণ নথিতে রয়েছে। সর্বশেষ রাজনৈতিক সুবিধা হাসিলের উদ্দেশ্যে তিনি নিজেকে এখন মূল ধারার বিএনপি কর্মী ও দুঃসময়ের নেতা হিসেবে প্রচার করছেন, যা স্থানীয় রাজনীতিতে তাকে ‘সুবিধাবাদী ও অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
​ব্যক্তিগত কোন্দলে দলকে জড়ানোর অপকৌশল ও শিক্ষক লাঞ্ছনা
​অভিযোগ উঠেছে, শাহ আলম নিজের व्यक्तिगत স্বার্থ, বৈরি সম্পর্ক ও সুদের কারবার সংক্রান্ত কোন্দলকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। সম্প্রতি চরমোনাই ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক, আদর্শ শিক্ষক ও সমাজসেবক আমিনুল ইসলাম মাসুম মাস্টারকে কেন্দ্র করে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীরা। স্থানীয়দের মতে, মাসুম মাস্টার একজন আদর্শ শিক্ষক এবং মরহুম পিতার যোগ্য সন্তান, যিনি কখনো দলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি বা জুলুমের আশ্রয় নেননি। অথচ শাহ আলম নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আইডি থেকে ব্যক্তিগত আক্রোশের জেরে সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে দলকে টেনে এনে মিথ্যাচার করছেন।
​​স্থানীয় বিএনপির প্রবীণ কর্মীরা জানান, আমিনুল ইসলাম মাসুম মাস্টার বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ ১৫ বছরের দুঃসময়ে রাজপথে থেকে দলকে সুসংগঠিত রেখেছেন। ফ্যাসিবাদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করতে গিয়ে তাকে একাধিক রাজনৈতিক মামলা ও হামলার শিকার হতে হয়েছে, এমনকি জেল খাটতেও হয়েছে। অন্যদিকে, শাহ আলম ও তার সহযোগীরা যখন অন্য দলের ছত্রছায়ায় নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত ছিলেন, তখন মাসুম মাস্টারের মতো ত্যাগী নেতারা চরমোনাই বিএনপিকে টিকিয়ে রেখেছিলেন। সুসময়ে এসে শাহ আলমের মতো সুযোগ সন্ধানীদের এমন ঔদ্যত্য কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে সাফ জানিয়েছেন তৃণমূলের কর্মীরা।
​​সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ও জঘন্য ঘটনাটি ঘটেছে গত ০৬-০৩-২০২৬ খ্রিঃ শুক্রবার দিবাগত রাত (নথির বিবরণ ও মামলার আরজি অনুযায়ী ০৭-০৩-২০২৬ খ্রিঃ এর প্রথম প্রহর) আনুমানিক ১.২০ ঘটিকায় বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, বরিশালে দায়েরকৃত মামলার বিবরণী (সি.আর মামলা নং- ৫১৪/২০২৬, কোতয়ালী) থেকে জানা যায়, শাহ আলমের ভাই ‘সুদি কামাল’ ও তার ভাইপো আয়নাল খানের নেতৃত্বে ৫-৬ জনের একটি সশস্ত্র দল আমিনুল ইসলাম মাসুম মাস্টারের ইছাগুড়াস্থিত বসতবাড়িতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা চালায়।
​মামলার আরজি সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন মাসুম মাস্টার স্থানীয় মন্নান গাজির বাড়িতে একটি দাওয়াতে অংশ নিতে গিয়েছিলেন এবং সেখান থেকে ফিরতে দেরি হওয়ায় তিনি অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যান। তবে হামলাকারীরা তাকে বাড়িতে না পেয়ে বসতঘরের পিছনের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। ঘরে থাকা মাসুম মাস্টারের স্ত্রী লাবন্য আক্তারের (৪৪) মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয় এবং ঘরে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কারসহ ঘর ডাকাতি করা হয়। এই ঘটনায় লাবন্য আক্তার বাদী হয়ে কামাল সিকদার (সুদি কামাল), আয়নাল খান, মো: শাহ আলম সিকদার (হাফেজ আলম) সহ ৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জনকে আসামি করে দণ্ডবিধির ১৪৩/৩২৩/৩০৭/৩৫৪/৩৮০/৩৮২/৪২৭/৪৪৭/৪৫২/৫০৬ (২) ধারায় মামলা দায়ের করেছেন।
​​চরমোনাইর সাধারণ জনগণ ও বিএনপির মাঠপর্যায়ের কর্মীদের দাবি, শাহ আলমের মতো একজন প্রমাণিত বহুরূপী, সুদের কারবারি এবং সন্ত্রাসী পরিবারের হোতাকে যেন কোনোভাবেই বিএনপিতে স্থান দেওয়া না হয়। একজন আদর্শ শিক্ষকের বাড়িতে মধ্যরাতে ডাকাতি ও সন্ত্রাসী হামলাকারীদের আশ্রয়দাতা হিসেবে শাহ আলমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং এই ‘বসন্তের কোকিল’কে দল থেকে আজীবনের জন্য বয়কট করার জোর দাবি জানিয়েছেন চরমোনাই ইউনিয়ন বিএনপির সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দ।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...

© All rights reserved © 2021
Developed By Engineerbd.net
EngineerBD-Jowfhowo