ঝালকাঠি প্রতিনিধি :: ভারী যানবাহন উঠলেই দুলতে থাকে ঝালকাঠির বাসন্ডা সেতু: প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছে ৭০০ যানবাহন
ঝালকাঠি বাসন্ডা বেইলি সেতুটিকে দশ বছর আগে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছিল সেতুবিভাগ। ভারী যানবাহন উঠলেই সেতুটি দুলতে থাকে। কিছুদিন পরপর সেতুর ওপরের প্লেটে ঝালাই দিয়ে মেরামত করে আসছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এক দশকেও নির্মাণ করা হয়নি নতুন সেতু।
বিকল্প না থাকায় বরিশাল-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়কের এ সেতুর ওপর দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৭০০ ভারী যানবাহন চলাচল করে। এতে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশংকা করছেন ভারীযান চালক ও স্থানীয়রা।
এটি ভেঙে পড়লে সড়কপথে ঝালকাঠির সঙ্গে পিরোজপুর, বাগেরহাট, খুলনা ও যশোরের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে।
খুলনা-বরিশাল রুটের যাত্রীবাহী বাসসের চালক মোকলেসুর রহমান হাওলাদার বলেন, দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকলেও প্রতিদিন যাত্রীদের নিয়ে সেতু পার হতে হয়।
সওজের ঝালকাঠি কার্যালয় সূত্র জানায়, ১৯৮৯ সালে ঝালকাঠি সদর উপজেলার বাসন্ডা নদীর ওপর বেইলি সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৯৪ ফুট ও প্রস্থ ২৫ ফুট।
ভারী যানবাহন চলাচল করায় সেতুর স্টিলের পাটাতন ফেটে যায় এবং নাটবল্টু খুলে যায়। এ কারণে এটি বারবার মেরামত করা হলেও কয়েক দিনের মধ্যে আবার যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ২০১৬ সালে সেতুটি ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ঘোষণা করে সওজ।
স্থানীয়দের দাবি, এভাবে জোড়াতালির পেছনে কোটি টাকা ব্যয় না করে বাসন্ডা সেতুতে একটি নতুন সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দা খলিল হাওলাদার বলেন, ব্রিজের উপর থেকে গাড়ি চলাচলের সময় প্রচন্ড আওয়াজ হয় এবং ব্রিজটি দুলতে থাকে। যেকোনো সময় এটি ভেঙে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সেতুটি ভেঙে গেলে দক্ষিণ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাবে। তাই বর্তমান সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি যাতে সেতুটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্মাণ করা যায়।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী শাহরিয়ার শরীফ খান বলেন, “সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এরই মধ্যে নতুন সেতু নির্মাণের জন্য আমরা ফিজিবিলিটি স্টাডি সম্পন্ন করেছি। বাকি তথ্যগুলো আমরা প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে পাঠিয়েছি। ডিপিপি বাস্তবায়ন হলে শিগগির এখানে নতুন সেতু নির্মাণ করা হবে, বলেন তিনি।