বরিশালেখাল-সড়ক দখল করে বাঁশের ব্যবসা, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি
নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার ফুলশ্রী পোস্ট অফিস থেকে পুরনো ডাকবাংলা সংলগ্ন ব্র্যাক অফিস পর্যন্ত মূল সড়ক এবং সংযোগ খাল দখল করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বাঁশের ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। প্রকাশ্যেই খাল ও সড়ক ব্যবহার করে ব্যবসা পরিচালনার ফলে একদিকে যেমন ব্যাহত হচ্ছে যান ও নৌযান চলাচল, অন্যদিকে পরিবেশ দূষণ ও জনদুর্ভোগ দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আগৈলঝাড়া ও গৌরনদী উপজেলার সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ খালটিতে মাসের পর মাস বিপুল পরিমাণ বাঁশ ভিজিয়ে রাখা হচ্ছে। আবার অনেক বাঁশ খালের পানিতেই ফেলে রাখা হয়। এতে খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং ট্রলার, নৌকা ও অন্যান্য নৌযান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘ সময় ধরে পানিতে বাঁশ পচে যাওয়ায় খালের পানি কালচে রঙ ধারণ করেছে। ছড়িয়ে পড়ছে তীব্র দুর্গন্ধ। এতে খালের আশপাশে বসবাসকারী মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
শুধু খাল দখলেই সীমাবদ্ধ নয় অভিযোগ। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিদিন রাতের বেলায় বিভিন্ন এলাকা থেকে টমটমযোগে বাঁশ এনে আগৈলঝাড়া-গৌরনদী সড়কের ওপর স্তূপ করে রাখা হয়। পরে সড়কের ওপরই বাঁশ ওঠানো-নামানোর কাজ চলে। এতে সড়কের একটি বড় অংশ দখল হয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে এবং প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে চলাচলকারী মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহনের চালকরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন।
দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে এভাবে খাল ও সড়ক দখল করে ব্যবসা পরিচালিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। দ্রুত অবৈধ দখল উচ্ছেদ, খালের স্বাভাবিক নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং সড়ককে দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিরুপম মজুমদার বলেন, “বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। খুব দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করা হবে। খাল দখল ও অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনার সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে খাল ও সড়কের অবৈধ দখলমুক্ত হবে, স্বাভাবিক নৌ ও সড়ক যোগাযোগ পুনরুদ্ধার হবে এবং জনদুর্ভোগের অবসান ঘটবে।