তিন বছরে দেশে বন্ধ হয়েছে চার শতাধিক পোশাক কারখানা

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ Friday, September 4, 2026,
  • 30 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

নিউজ ডেস্ক :: তিন বছরে দেশে বন্ধ হয়েছে চার শতাধিক পোশাক কারখানা

 

২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তিন বছরে দেশে চার শতাধিক তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। এ সময় সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিন জানতে চান, বর্তমানে দেশে কতগুলো তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের তালিকা, বন্ধ হওয়ার কারণ এবং পোশাক খাতের উন্নয়নে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে।

জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তিন বছরে বিজিএমইএর সদস্যভুক্ত ২৮২টি এবং বিকেএমইএর সদস্যভুক্ত ১২৩টিসহ চার শতাধিক গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হয়েছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলোর নামের তালিকা সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্যে কারখানা বন্ধের পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস পরিস্থিতি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধ, আমেরিকা-ইরানের মধ্যে ভয়াবহ যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক মন্দা পরিস্থিতি।

এ ছাড়া দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থ পাচারের কারণে ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট, ইউরোপের সঙ্গে ভারত ও ভিয়েতনামের এফটিএ চুক্তি এবং বিদেশি ক্রেতাদের নিজস্ব মনিটরিং সুবিধার কারণে ছোট ও মাঝারি কারখানায় রপ্তানি আদেশ দিতে অনাগ্রহকেও অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের অবস্থান ধরে রাখতে সরকার বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

তিনি জানান, রপ্তানিমুখী দেশীয় বস্ত্রখাতে শুদ্ধ বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাকের পরিবর্তে ১ দশমিক ৫০ শতাংশ বিকল্প নগদ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ইউরো অঞ্চলে বস্ত্রখাতের রপ্তানিকারকদের জন্য বিদ্যমান ১ দশমিক ৫০ শতাংশের পাশাপাশি আরও ০ দশমিক ৫০ শতাংশ বিশেষ সহায়তা রয়েছে।

এ ছাড়া রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতের নিট, ওভেন ও সোয়েটারসহ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে অতিরিক্ত ৩ শতাংশ সুবিধা এবং তৈরি পোশাক খাতে ০ দশমিক ৩০ শতাংশ বিশেষ নগদ সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে।

প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের আরেক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও তদারকি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, জেলা পর্যায়ে গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্স এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে সারাদেশে বাজার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

বাজারে অতিরিক্ত দাম নেওয়া, মজুতদারি, কৃত্রিম সংকট তৈরি, মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা এবং অন্যান্য অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী জরিমানা ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পাশাপাশি বাজারে স্বাভাবিক প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন সিন্ডিকেট, কার্টেল ও যোগসাজশমূলক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।

জনস্বার্থে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ এবং দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে সরকারের বাজার মনিটরিং, তদারকি ও আইনানুগ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আরও জোরদার করা হবে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...

© All rights reserved © 2021
Developed By Engineerbd.net
EngineerBD-Jowfhowo