শিরোনামঃ
বরিশালে ডোবায় মিলল বৃদ্ধর মরদেহ অনুমোদন ছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম-লোগো ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা বরিশালে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়াসহ ৫ দফা দাবিতে মানববন্ধন, ৩ দিনের আলটিমেটাম বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালি মডেল থানার নতুন ওসি মো: মনিরুল ইসলাম আইএমএফের শর্ত মানতে নারাজ বাংলাদেশ বাতিল হচ্ছে ঋণচুক্তি: অর্থমন্ত্রী ১২ কেজি এলপিজির দাম একলাফে ২৫২ টাকা বাড়ল বরিশাল নগরীতে নিত্যপণ্যের দোকানে ধরা পড়ল অনিয়ম, ৯ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা পাঠ্যবইয়ে বড় বদল বাদ পড়েছে রবীন্দ্রনাথের কবিতা পিরোজপুরে গৃহবধূকে হত্যা মালামাল লুট,ঘরে মিলল বিবস্ত্র লাশ মালয়েশিয়ায় ৩৭ হাজারের বেশি প্রবাসী গ্রেপ্তার

বরিশালের সন্তান ভারতবর্ষের প্রথম নারী চিকিৎসক

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ Sunday, October 4, 2026,
  • 27 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

নিউজ ডেস্ক :: বরিশালের সন্তান ভারতবর্ষের প্রথম নারী চিকিৎসক

বরিশালের গৌরনদীর চাঁদশী গ্রামের এক সাধারণ ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্ম। সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল এমন এক নারীর পথচলা, যিনি উনিশ শতকের পুরুষতান্ত্রিক সমাজের চোখে চোখ রেখে শিক্ষা, চিকিৎসা ও নারী অধিকার আন্দোলনে তৈরি করেছিলেন ইতিহাস। তিনি কাদম্বিনী বসু, বাংলার নারী জাগরণের অন্যতম অগ্রদূত।

১৮৬১ সালের ১৮ জুলাই চাঁদশী গ্রামে ব্রজকিশোর বসুর ঘরে জন্ম কাদম্বিনীর। ডাকনাম ছিল ‘বিনি’। বাবা ছিলেন বিহারের ভাগলপুর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। বাবার কাছেই শিক্ষার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় তাঁর। মাত্র ১৩ বছর বয়সে মেয়েকে নিয়ে কলকাতায় পাড়ি জমান ব্রজকিশোর।

কলকাতায় হিন্দু মহিলা বিদ্যালয়ে ভর্তি হন কাদম্বিনী। বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে গেলে ভর্তি হন বঙ্গ মহিলা বিদ্যালয়ে। পরিবারের নিরাপদ গণ্ডি পেরিয়ে বোর্ডিংয়ে একা থাকা, পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া—সবকিছুই ধীরে ধীরে তাঁকে করে তোলে আত্মবিশ্বাসী।

সেখানেই শিক্ষক হিসেবে পান দ্বারকানাথ গাঙ্গুলীকে। পরে সেই শিক্ষকই হন তাঁর জীবনসঙ্গী। বিয়ের পর কাদম্বিনী বসু হয়ে ওঠেন কাদম্বিনী গাঙ্গুলী।

তখন নারীর উচ্চশিক্ষাই ছিল সমাজের চোখে ‘দুঃসাহস’। কিন্তু কাদম্বিনী থামেননি।

১৮৭৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট নারীদের প্রবেশিকা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অনুমতি দেয়। ১৮৭৮ সালে শত শত ছাত্রের মধ্যে একমাত্র নারী হিসেবে প্রবেশিকা পরীক্ষায় বসেন কাদম্বিনী। মাত্র এক নম্বরের জন্য প্রথম শ্রেণি না পেলেও দ্বিতীয় শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়ে প্রথম বাঙালি নারী হিসেবে প্রবেশিকা পাসের ইতিহাস গড়েন তিনি।

তাঁর এই সাফল্য শুধু একটি পরীক্ষার ফল ছিল না, এটি ছিল নারীর উচ্চশিক্ষার দরজা খুলে দেওয়ার এক বড় ধাক্কা।

এরপর এফএ পাস করে বিএ পড়েন। ১৮৮৩ সালের জানুয়ারিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তখন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পরিসরে নারীর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ছিল বিরল ঘটনা। কাদম্বিনী গণিত নিয়ে স্নাতক হয়ে দেখিয়ে দেন, নারীর মেধার সামনে সমাজের তৈরি দেয়ালও টেকে না। কিন্তু এখানেই থামেননি তিনি।

স্নাতক হওয়ার পর চিকিৎসাশাস্ত্র পড়ার সিদ্ধান্ত নেন। ১৮৮৪ সালে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হয়ে নারী চিকিৎসাশিক্ষার ক্ষেত্রেও নতুন দরজা খুলে দেন। ১৮৮৬ সালে চিকিৎসাবিদ্যার ডিগ্রি অর্জনের পর চিকিৎসা পেশায় যুক্ত হন। নারী শিক্ষা, চিকিৎসা ও অধিকার আন্দোলনেও সক্রিয় ভূমিকা রাখেন তিনি।

একদিকে সমাজের কটাক্ষ, অন্যদিকে পুরুষতান্ত্রিক বাধা, কোনোটিই কাদম্বিনীর পথ আটকাতে পারেনি। তাঁর প্রতিটি অর্জন পরবর্তী প্রজন্মের নারীদের জন্য তৈরি করেছে নতুন পথ।

বরিশালের গৌরনদীর চাঁদশীর সেই কন্যাই হয়ে উঠেছিলেন বাংলার নারী জাগরণের এক উজ্জ্বল প্রতীক।

১৯২৩ সালের ৩ অক্টোবর কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন কাদম্বিনী গাঙ্গুলী। কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া ইতিহাস আজও বলে, একজন নারী যখন বাধার সামনে দাঁড়িয়ে পথ তৈরি করেন, সেই পথ দিয়েই একদিন এগিয়ে যায় গোটা সমাজব্যবস্থা।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...

© All rights reserved © 2021
Developed By Engineerbd.net
EngineerBD-Jowfhowo