শিরোনামঃ
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি, টানা ৫ দিন বজ্রসহ বৃষ্টি ও ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস ১০ লাখ টাকায় মাদকের চালান ছেড়ে দিলেন ৪ পুলিশ কর্মকর্তা তিনবার তুষারধস থেকে ফিরে  রোমাঞ্চকর অভিযানের গল্প শোনালেন বরিশালের সন্তান  এভারেস্টজয়ী মুহিত বরিশালে মহিলা আ.লীগ নেত্রী ও ইউপি সদস্য শিলার আত্মহত্যা এক কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি বাকেরগঞ্জের ছাত্রাবাস ৩৪ বছর ধরে পরিত্যক্ত: এখন অপরাধীদের আখড়া বরগুনায় অভিযানে ৩৫০০ পিস ইয়াবা সহ গ্রেফতার ১ বিকাশে কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন, পিরোজপুরে ২ যুবক আটক থানচি-তিন্দুমুখ নৌপথ ৩০ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা ভারতের নতুন শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী

বরিশালে নবগ্রাম রোডের সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবীতে চৌমাথা মহাসড়ক অবরোধ

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ Thursday, June 4, 2026,
  • 48 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

বরিশাল জেলা প্রতিনিধিঃ বরিশালে নবগ্রাম রোডের সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবীতে চৌমাথা মহাসড়ক অবরোধ

বরিশাল নগরীর নবগ্রাম রোডের ললিত দাস পোল এলাকায় সন্ত্রাসী হামলা ও একজনকে কুপিয়ে হাত বিচ্ছিন্নের ঘটনাসহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসী হামলা, মাদকের আখড়া ও কিশোর গ্যাং দৌরাত্মের প্রতিবাদ ও নির্মূলের দাবীতে মহাসড়ক আটকে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে চৌমাথা এলাকাবাসী। সকাল সাড়ে ১০টায় নগরীর চৌমাথা এলাকার মানববন্ধন করে এবং মহাসড়ক অবরোধ করে প্রায় ঘন্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ করে রাখে বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী। পরে পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী। এসময় কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল মামুনুল ইসলাম বলেন, আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে আসামীদের গ্রেপ্তার করা হবে।
সমাবেশে বক্তারা নবগ্রাম রোডের ললিত দাস পোল এলাকায় নির্মাণাধীন ঘরের জন্য আনা বালু রাখাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে দ্বীন ইসলাম খান ওরফে মুন্না (২১)কে কুপিয়ে হাত বিচ্ছিন্নসহ নৃশংসতা তুলে ধরে বলেন, সামান্য তর্কাতর্কি থেকে যদি এতো বড় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের চেষ্টা হয় তাহলে বরিশালের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কি অবস্থা তা সহজেই অনুমেয়। ইতিপূর্বে নগরীর পলাশপুর, রূপাতলী, কাউনিয়া এলাকায় একাধিক নৃশংসতার ঘটনা ঘটেছে। এরা সবাই মাদকাসক্ত ও কিশোর গ্যাং সদস্য। এমন পরিস্থিতিতে মাদকের আখড়া ও বাণিজ্য আগে বন্ধ করতে হবে। নগরী থেকে কিশোর গ্যাং সম্পূর্ণ নির্মূল করার জোর দাবী জানান বক্তারা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন চৌমাথা এলাকার বাসিন্দা মহসিন খান বাশার, ফারুক খান, হুমায়ুন খান, রাসেল, কবির খান, সবুজ খান, সুরুজ খান, রকি খান, রাকিব, রফিক খান, জসিম খান, সজিব হাওলাদার, নজরুল ইসলাম, রুবেল মৃধা, আলিফ খান, আজিম খান, হামিম, সোহেল খান, মুন্নার সহপাঠী ও নারী-পুরুষ সহ প্রায় তিন শতাধিক এলাকাবাসী এই মানববন্ধন ও সমাবেশে অংশগ্রহন করেন।
এর আগে গত ৩ জুন বরিশাল মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকেও এ ঘটনার প্রতিবাদে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। তারা বলছেন, এর সাথে বিএনপির কোনো নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জানা গেছে, গত রোববার (৩১ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বরিশাল নগরীর নবগ্রাম রোডের ললিত দাস পোল এলাকায় নির্মাণাধীন ঘরের জন্য আনা বালু রাখাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে দ্বীন ইসলাম খান ওরফে মুন্না (২১) নামে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত মুন্না নগরীর নবগ্রাম রোড এলাকার বাসিন্দা লিটন খানের ছেলে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা মুন্না নামে একজনকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল)-এ রেফার করেছেন। এবিষয়ে আহতের বাবা লিটন খান বলেছেন, গত শুক্রবার ২৯ মে রাতে তাদের নির্মাণাধীন ঘরের জন্য আনা বালু সুপারি গাছের নিচে রাখাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়ার ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে বলে তারা মনে করেছিলেন। কিন্তু রোববার সকালে কাজের উদ্দেশ্যে বের হলে পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষ মিলন ও রানাসহ তাদের লোকজন মুন্নার ওপর হামলা চালায়।
তিনি অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মুন্নাকে গুরুতর আহত করে রাস্তার ওপর ফেলে রেখে যায়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল তাকে হত্যা করা।
এসময় আহতের মা কুলসুম বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। এই মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, হামলার ঘটনায় একই এলাকার মিলন খান (৩০), রানা খান (২৮), হিমেল (২২), কালাম খান (৫৫) ও নার্গিস বেগম (৫০)-কে আসামি করা হয়েছে।
মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে, রোববার সকাল আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটে নলিনী দাস পোল এলাকার সড়কে মুন্নার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করা হয় এবং তিনি গুরুতর জখম হন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আহতের মা কুলসুম বেগম বলেন, “আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। ঘটনার বিচার ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।”
এদিকে মামলা করার পর থেকে অভিযুক্তরা এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে ও বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের। মিলন ও রানা স্থানীয় বিএনপির ছত্রছায়ায় এলাকায় রীতিমতো তাণ্ডব চালাতো বলেও একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিএনপির নাম এই সন্ত্রাসীদের সাথে যুক্ত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মীর জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, এসব সন্ত্রাসী ও মাদকাসক্তদের পক্ষে কোনো বিএনপি নেতা বা কর্মী কথা বললে তার বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মীর জাহিদের এই বক্তব্যকে সমর্থন করে বিবৃতি দিয়েছেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুকও। তিনি বলেছেন, মাদকাসক্ত ও সন্ত্রাসীরা কখনো কোনো দলের হতে পারেনা। এরা শুধু টাকার দলে। যে টাকা দেবে তার দলের। এদের বিপক্ষেই আমাদের অবস্থান সবসময়। সমাজ থেকে মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাং দৌরাত্ম দূর করতে হলে এদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...

© All rights reserved © 2021
Developed By Engineerbd.net
EngineerBD-Jowfhowo