বরিশাল নগরীর বেলস পার্কসহ সব উদ্যান দখলমুক্ত রাখার দাবীতে মানববন্ধন
নিজস্ব প্রতিবেদক :: নগরীর বেলস পার্কসহ সব উদ্যান, খেলার মাঠ, ফুটপাত, জলাশয় দখলমুক্ত ও উন্মুক্ত রাখার দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ হয়েছে। সম্মিলিত নাগরিক সমাজের ব্যানারে গতকাল রোববার দুপুরের এই কর্মসূচি হয়। এতে নগরীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তি, পরিবেশ আন্দোলনের কর্মীরা অংশ নেন। সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেন ওই এলাকায় অবস্থিত সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের কয়েক শ শিক্ষার্থী।
বক্তারা বলেন, বরিশাল নগরের একমাত্র বড় উদ্যান হচ্ছে বেলস পার্ক। সেখানে নগরবাসী প্রতিদিন কোলাহলমুক্ত পরিবেশে সময় কাটাতে আসেন। কেউ হাঁটার জন্য আসেন। কিন্তু উদ্যানটি দীর্ঘদিন ধরে হকারদের দখলে থাকায় নগরবাসী সেই বিনোদনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন। সম্প্রতি সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ হকারদের উচ্ছেদ করলেও হকাররা আবার উদ্যানটি দখলের জন্য আন্দোলনে নেমেছেন।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) বরিশাল বিভাগীয় সমন্বয়ক রফিকুল আলম বলেন, ‘নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে খেলার মাঠগুলোও দখল হয়ে আছে, ফুটপাত, জলাশয়গুলোও একে একে দখলে চলে যাওয়ায় শিশুদের খেলাধুলার সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে। জলাশয়গুলো দখল হয়ে যাওয়ায় পরিবেশের বিরূপ প্রভাব পড়ছে। নগর প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, অবিলম্বে এসব খেলার মাঠ দখলমুক্ত করে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার সুযোগ উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হোক।’
সমাবেশে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) বিভাগীয় সমন্বয়ক লিংকন বায়েন বলেন, বরিশাল নগরীর সব কটি খাল-পুকুর ও দিঘি একের পর এক ভরাটের পর স্থাপনা নির্মাণ করে নগরের সামগ্রিক পরিবেশকে বিপন্ন করা হচ্ছে। এসব জলাশয় ভরাট করার কাজ নির্বিঘেœ চললেও প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর নির্বিকার।
সমাবেশে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা কে এস এ মহিউদ্দিন মানিক, পরিবেশ সংগঠক কাজী মিজানুর রহমান, ক্যাবের জেলা সাধারণ সম্পাদক রনজিত দত্ত, নারীনেত্রী রাজিয়া আক্তার, বেবি জেসমিন, নাঈমুর রহমান, বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ তপন কুমার সাহা, মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জুনায়েদ আলম ও তাবাসসুম আকতার।
সমাবেশে মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী জুনায়েদ আলম বলে, ‘বেলস পার্কটি হকারদের দখলে থাকায় আমাদের এতদিন বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ায় মারাত্মক দুর্ভোগে পড়তে হতো। সম্প্রতি হকার উচ্ছেদ করায় আমাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। কিন্তু এখন আবার হকাররা এই উদ্যানে দখল নিতে চাইছেন। এটা আমাদের পুনরায় আশঙ্কার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।’