নিউজ ডেস্ক :: বাবার জন্য খাবার দিতে গিয়ে নদীতে ৬ বছরের শিশু নিখোঁজ
নোয়াখালীর হাতিয়ায় বাবার জন্য দুপুরের খাবার দিতে গিয়ে মেঘনা নদীতে পড়ে তামিম নামে ৬ বছরের এক শিশু নিখোঁজ হয়েছে। ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কার্যক্রমে বিলম্ব এবং ডুবুরি দলের অনুপস্থিতি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি
মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম চরচেঙ্গা গ্রামের পাশে মেঘনা নদীতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ তামিম ওই গ্রামের জেলে শাহাদাত হোসেনের একমাত্র ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবারও মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে যান শাহাদাত হোসেন। দুপুরে বাবার জন্য খাবার নিয়ে নদীর তীরে যায় তামিম। খাবার খাওয়ার পর শাহাদাত হোসেন নদীর পাড়ে উঠে চা পান করছিলেন। এ সময় তামিম তার সমবয়সী এক চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে নদীর তীরে খেলছিল। একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত সে নদীতে পড়ে যায়।
সঙ্গে থাকা শিশুটির বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের জানালে স্বজনরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজি চালিয়েও তামিমের কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা জানান, দুপুর ১টার দিকে ফায়ার সার্ভিসকে বিষয়টি জানানো হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, বিকেল ৪টার দিকে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে জানায় তাদের সঙ্গে কোনও ডুবুরি দল নেই। এতে স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দেয়।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, একটি শিশু নদীতে পড়ে নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পরই যদি ডুবুরি দল না থাকার বিষয়টি জানানো হতো, তাহলে বিকল্প উদ্ধার ব্যবস্থার উদ্যোগ নেয়ার সুযোগ ছিল। একই সঙ্গে উপজেলা সদর থেকে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগার বিষয়টিও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল মন্নান বলেন, একটি শিশু নদীতে নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও কার্যকর উদ্ধার অভিযান চোখে পড়েনি। ফায়ার সার্ভিস এসে জানায় তাদের ডুবুরি দল নেই। পরে কোস্ট গার্ডও জানায়, সকালে ডুবুরি দল এলে অভিযান চালানো হবে।
পরে বিষয়টি হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবালের নজরে আনা হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোস্ট গার্ডকে ঘটনাস্থলে যাওয়ার অনুরোধ জানান। এরপর কোস্ট গার্ডের দুটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নদীতে ব্যাপক তল্লাশি চালায়।
কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, নিখোঁজ শিশুর সন্ধানে অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পরদিনও উদ্ধার অভিযান চালানো হব
একমাত্র সন্তানকে হারানোর শঙ্কায় পাগলপ্রায় হয়ে উঠেছেন তামিমের মা-বাবা। তাদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। নিখোঁজ শিশুটির সন্ধান পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন পরিবার ও এলাকাবাসী।
ইউএনও রাসেল ইকবাল বলেন, হাতিয়ায় ফায়ার সার্ভিস ও কোস্ট গার্ডের কোনও ডুবুরি দল নেই। এ কারণে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। কোস্ট গার্ড ঘটনাস্থলে নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। প্রয়োজন হলে ভোলা থেকে ডুবুরি দল এনে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হবে