শিরোনামঃ
তিন বছরের ব্যবধানে পায়রা বন্দরে বিদেশি জাহাজ ১১১ থেকে কমে ২৯টি বরিশালে শ্বশুরবাড়ি থেকে যুবকের ঝু’ল’ন্ত ম’র’দে’হ উদ্ধার, পরিবারের দাবি হত্যা বরিশালে ক’কটে’ল সদৃশ্য বস্তু উদ্ধার বরিশালের কনস্টেবলের স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ, বাধ্যতামূলক অবসরে ৪৪তম বিসিএসের প্রবেশপত্রে জালিয়াতি পিএসসি’র সব পরীক্ষায় নিষিদ্ধ প্রার্থী এক সপ্তাহের ব্যবধানে বঙ্গোপসাগরে দুই ঘূর্ণিঝড়, বরিশাল উপকূলে বাড়ছে সতর্কতা এইচএসসির ফল বিপর্যয়, উচ্চশিক্ষায় খালি থাকবে ৮ লাখের বেশি আসন দেশে গত ২৪ ঘন্টায় ডেঙ্গুতে ৮ জনের মৃত্যু, একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি ১৯২৯ নির্দেশনার বাইরে গিয়ে নিজেরাই পরিচ্ছন্নতায়, সেলফি রোডে ঘাস কাটলেন বিভাগীয় কমিশনার-ডিসি মশার বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণে বিদেশি গাপ্পিকে ছাড়িয়ে দেশীয় নাপিত খয়রা 

অবৈধভাবে গ্রিস যাওয়ার পথে নৌকার ইঞ্জিন নষ্ট-খাবারও শেষ, ভূমধ্যসাগরে প্রাণ গেল ১১ বাংলাদেশির

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ Monday, August 17, 2026,
  • 68 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

নিউজ ডেস্ক :: অবৈধভাবে গ্রিস যাওয়ার পথে নৌকার ইঞ্জিন নষ্ট-খাবারও শেষ, ভূমধ্যসাগরে প্রাণ গেল ১১ বাংলাদেশির

লিবিয়া থেকে সাগর পথে অবৈধভাবে গ্রিসে যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে অন্তত ১১ বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, খাবার ও পানির সংকটে তাদের চোখের সামনেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়। মরদেহগুলোতে পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় সেগুলো সাগরে ফেলে দিতে বাধ্য হন তারা।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে ৪২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা গ্রিসের উদ্দেশে লিবিয়ার তাবারুক উপকূল থেকে যাত্রা শুরু করে। নৌকাটিতে থাকা ৪২ জনের মধ্যে ৩৮ জনই বাংলাদেশি বলে জানা গেছে।

যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণ পরই ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকায় থাকা খাবার ও পানির মজুত সাগরে ভেসে যায়। এরপর খাবার ও পানি ছাড়াই নৌকাটি নিয়ে বিপজ্জনক যাত্রা অব্যাহত রাখেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। গ্রিসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর হঠাৎ নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এতে নৌকাটি সাগরে ভাসতে থাকে।

এভাবে টানা নয় দিন ভূমধ্যসাগরে ভেসে থাকার পর বাতাসের স্রোতে নৌকাটি মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলের কাছে পৌঁছে যায়। পরে মিশরের নিরাপত্তা বাহিনী তাদের উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে ১৮ জনকে মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতালের চিকিৎসাধীন সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ থানার পাথারিয়া গ্রামের আব্দুল হেকিমের ছেলে আব্দুল করিম ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, আমরা ৪২ জন গ্রিসের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছিলাম। গ্রিসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর আমাদের নৌকার ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যায়। ফলে আর সামনে এগোতে পারিনি। এ সময় আমাদের উদ্ধার করতে দালালের লোকজন কিংবা অন্য কোনো সংস্থা এগিয়ে আসেনি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, আমাদের কাছে খাবার বা পানি কিছুই ছিল না। খাবার ও পানির অভাবে চোখের সামনেই নয়জন বাংলাদেশি মারা গেছেন। তাদের মরদেহ সাগরে ফেলে দিতে হয়েছে। পরে আরও দুজন মারা যান। দীর্ঘ সময় লবণাক্ত পানিতে থাকার কারণে আমাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে পচন ধরেছে এবং দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা এখন মারসা মাতরুহ হাসপাতালে ভর্তি। এখানকার চিকিৎসকরা আমাদের চিকিৎসা দিচ্ছেন এবং ভালো খাবারেরও ব্যবস্থা করছেন। আমাদের বাঁচান। আমরা দেশে ফিরে যেতে চাই।

এ বিষয়ে মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায়, আহত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিষয়ে মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শরিফ এবং স্থানীয় পুলিশ স্টেশনের বাদরান নামের এক কর্মকর্তার সঙ্গে দূতাবাসের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে।

স্থানীয় পুলিশ দূতাবাসকে জানিয়েছে, তারা মোট ৩০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। এর মধ্যে ১৮ জনের শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাদের নিয়মিত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের জাতীয়তা সম্পর্কে পুলিশ এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...

© All rights reserved © 2021
Developed By Engineerbd.net
EngineerBD-Jowfhowo