শিরোনামঃ
প্রিপেইড মিটারের আওতায় আসছে বরিশাল নগরী। বাবার বাড়ি থেকে নাস্তা কম দেয়ায় বউকে মারধর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর মৃত্যু মাদ্রাসা শিক্ষককে চড় মারা রুমিকে গ্রেপ্তার করতে চায় পুলিশ পিরোজপুরে কঁচা নদীতে অভিযান, আড়াই হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ বরিশালে ৯৫৩ পিস ইয়াবাসহ চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী রাজিব সিকদার আটক বরিশালে বিধবার দুটি কাঁঠালগাছ কাটার অভিযোগ বিএনপি সভাপতির বিরুদ্ধে থানা হেফাজতে জয় বাংলা স্লোগান, এসআই সহ ২ পুলিশ ক্লোজড পটুয়াখালীতে মা ইলিশ রক্ষার অভিযানে জেলেদের হামলা, পুলিশ আহত মাদরাসায় বলাৎকার বন্ধে কঠোর হচ্ছে সরকার, হুঁশিয়ারি ধর্মমন্ত্রীর সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি

বরিশালে পত্রিকার আদলে ভুয়া পেজের ছড়াছড়ি, বিবেকের কাঠগড়ায় প্রকৃত সাংবাদিকরা

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ Saturday, October 24, 2026,
  • 28 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

: আম্মার হোসেন আম্মান :: বরিশালে পত্রিকার আদলে ভুয়া পেজের ছড়াছড়ি, বিবেকের কাঠগড়ায় প্রকৃত সাংবাদিকরা : হয়রানির শিকার পুলিশ প্রশাসন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা

অনলাইন সাংবাদিকতার নাম ভাঙিয়ে গুজব, অপপ্রচার ও চাঁদাবাজির অভিযোগ; ভুয়া পরিচয়ের আড়ালে অপকর্মে ক্ষুণ্ন হচ্ছে পেশাদার সাংবাদিকদের মর্যাদা, কার্যকর নজরদারি ও তদন্তের দাবি।

বরিশালে অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সংবাদপত্রের আদলে নাম-লোগো ব্যবহার করে ফেসবুকে একের পর এক পেজ খোলার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সাংবাদিকতার সঙ্গে প্রকৃতপক্ষে সম্পৃক্ত নন—এমন কিছু ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংবাদমাধ্যমের মতো নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে নিজেদের সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব পেজের আড়ালে গুজব ছড়ানো, সংবাদ বিকৃত করা, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং চাঁদা দাবির মতো কর্মকাণ্ডের অভিযোগও সামনে আসছে।

অভিযোগগুলো সত্য হলে তা কেবল সাংবাদিকতার নীতিমালার লঙ্ঘন নয়; বরং সাধারণ মানুষের তথ্য জানার অধিকার, ব্যক্তির সম্মান, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতার জন্যও গুরুতর হুমকি। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, কথিত এসব অপতৎপরতার দায় অনেক সময় বহন করতে হচ্ছে পেশাদার ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকদের। ফলে প্রশ্ন উঠছে—সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপকর্ম করলে তার দায় কেন প্রকৃত সাংবাদিকদের ওপর বর্তাবে?

 

পত্রিকার নাম-লোগোর আদলে ভুয়া পেজ খুলে সম্পাদক পরিচয়ে নানা অপকর্ম, টাকার বিনিময়ে আইডি কার্ড বিক্রির অভিযোগ, গাড়ি-বাইকে ‘প্রেস’ লেখা স্টিকার ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অপচেষ্টা—ভুয়া সাংবাদিকতার আড়ালে কারা করছে এসব? সাধারণ মানুষ আসল-নকলের পার্থক্য বুঝতে না পেরে বিভ্রান্ত হচ্ছে, আর অপকর্মের দায় গিয়ে পড়ছে পেশাদার ও প্রকৃত সাংবাদিকদের ওপর; ভুয়া পরিচয়ধারীদের দৌরাত্ম্যে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতা, কলঙ্কিত হচ্ছে গণমাধ্যমের মর্যাদা—এই অপসাংবাদিকতার লাগাম টানবে কে, প্রশাসনের নজরদারি কোথায়, আর সাংবাদিকতার নামে প্রতারণা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে কবে?

সংবাদমাধ্যমের আদলে পেজ, পরিচয়ের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন

ডিজিটাল যোগাযোগের বিস্তারের সঙ্গে সংবাদ প্রকাশের সুযোগ যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির আশঙ্কাও। বরিশালে ফেসবুককেন্দ্রিক কিছু পেজের নাম, লোগো, প্রচারভঙ্গি ও সংবাদ উপস্থাপনার ধরন দেখে সাধারণ পাঠকের পক্ষে প্রকৃত সংবাদমাধ্যম এবং ব্যক্তিগতভাবে পরিচালিত পেজের পার্থক্য নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

কোনো কোনো পেজে সংবাদপত্রের আদলে নাম ব্যবহার, অন্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের কাটিং বা স্ক্রিনশট পুনঃপ্রচার এবং বিভিন্ন ব্যক্তিকে নিয়ে অভিযোগমূলক পোস্ট দেওয়ার প্রবণতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে এসব পেজের প্রকৃত পরিচয়, পরিচালনাকারী, নিবন্ধন বা অনুমোদনের অবস্থা এবং প্রকাশিত তথ্যের সত্যতা যাচাই ছাড়া কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা সমীচীন নয়।

একটি ফেসবুক পেজের নামের সঙ্গে ‘নিউজ’, ‘প্রেস’ বা ‘পত্রিকা’ শব্দ যুক্ত থাকলেই সেটি স্বীকৃত সংবাদমাধ্যম হয়ে যায় না। একইভাবে, সাংবাদিক পরিচয় দাবি করলেই কেউ পেশাদার সাংবাদিকতার নৈতিকতা ও দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারেন না। সংবাদ সংগ্রহ, তথ্য যাচাই, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং ভুল হলে সংশোধনের মানসিকতাই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

সংবাদ কাটিংয়ের আড়ালে অপপ্রচার, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কারা?

অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো পেজে প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের অংশবিশেষ কেটে বা স্ক্রিনশট ব্যবহার করে নতুনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। কখনো মূল সংবাদের প্রেক্ষাপট বাদ দিয়ে, কখনো অসম্পূর্ণ তথ্যের সঙ্গে নতুন বক্তব্য যুক্ত করে এমনভাবে পোস্ট দেওয়া হচ্ছে, যাতে পাঠকের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ব্যবসায়ী, সামাজিকভাবে পরিচিত ব্যক্তি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলদের নিয়ে অভিযোগমূলক পোস্ট প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্যের সত্যতা যাচাই অত্যন্ত জরুরি। কোনো অভিযোগ থাকলে তা প্রমাণ, নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে সংবাদ হিসেবে প্রকাশ করা উচিত। কিন্তু তথ্য যাচাই না করে কাউকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর সম্মানহানি ঘটানো সাংবাদিকতার দায়িত্বশীল চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

একটি সংবাদকে প্রেক্ষাপট থেকে বিচ্ছিন্ন করে উপস্থাপন করা হলে মূল প্রতিবেদনের অর্থ বদলে যেতে পারে। আর সেই বিকৃত উপস্থাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা, পেশাগত অবস্থান এবং প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে কোনো কোনো ব্যক্তি ভয়ভীতি প্রদর্শন, হয়রানি এবং চাঁদা দাবির মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযোগ উঠছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে এসব কর্মকাণ্ডকে কোনোভাবেই সংবাদ সংগ্রহ বা সাংবাদিকতার স্বাধীনতার অংশ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

সাংবাদিকতা কোনো ব্যক্তিকে আইন বা জবাবদিহির ঊর্ধ্বে রাখে না। সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবি করা, নেতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশের হুমকি দেওয়া কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থে সংবাদমাধ্যমের পরিচয় ব্যবহার করা হলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

তবে অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না। নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা পেজের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে প্রমাণ সংগ্রহ, অভিযোগকারীর বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট পক্ষের ব্যাখ্যা এবং প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী তদন্তের মাধ্যমেই সত্য উদ্‌ঘাটন করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠতেই পারে।

মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের সাংবাদ

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...

© All rights reserved © 2021
Developed By Engineerbd.net
EngineerBD-Jowfhowo