নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশালে এলপিজি সংকট, বাড়তি দামে বিক্রির অভিযোগ
টানা পঞ্চম দিনের মতো বরিশালে এলপিজি গ্যাসের তীব্র সংকট অব্যাহত রয়েছে। রোববার নগরীর অধিকাংশ বিক্রয়কেন্দ্রে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যায়নি। কোথাও সীমিত পরিমাণে পাওয়া গেলেও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে বাসাবাড়ির পাশাপাশি সংকটের প্রভাব পড়েছে অটোগ্যাসনির্ভর থ্রি-হুইলারেও। গ্যাসের জন্য এক স্টেশন থেকে অন্য স্টেশনে ছুটতে হচ্ছে চালকদের। অনেক স্টেশনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন তারা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রায় এক মাস ধরে চাহিদার তুলনায় এলপিজির সরবরাহ কমে গেছে। এতে ধীরে ধীরে মজুত কমতে থাকে এবং গত কয়েক দিনে সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।
ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ সেপ্টেম্বর পাইকারি বাজারে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৫৫ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৬৪০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এর আগে একই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। তবে দাম বাড়ার পাশাপাশি কোম্পানিগুলোও ডিলারদের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত সিলিন্ডার সরবরাহ করতে পারছে না।
এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। কয়েক দিন আগেও যে ১২ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ৭৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, বর্তমানে সেটি অনেক ক্ষেত্রে ১ হাজার ৮৫০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভোক্তা মোশাররফ হোসেন বলেন, গ্যাসের জন্য কয়েকটি দোকানে খোঁজ করেও সিলিন্ডার পাওয়া যায়নি। পরে বাধ্য হয়ে বেশি দামে কিনতে হয়েছে। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে।
খুচরা ব্যবসায়ী মারুফ হাওলাদার বলেন, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তারাও পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছেন না। সরবরাহ কম থাকায় দোকানে সিলিন্ডার মজুত রাখা সম্ভব হচ্ছে না। বেশি দামে গ্যাস কিনতে হলে স্বাভাবিকভাবেই বিক্রয়মূল্যও বেড়ে যাচ্ছে।
সান গ্যাসের বরিশালের ডিলার মো. জুয়েল বলেন, বাজারে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাসের সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণেই সংকট তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, এলপিজি সংকটের প্রভাব পড়েছে নগরীর পরিবহণ খাতেও। বরিশাল নগরীর প্রায় ১০টি এলপিজি ফিলিং স্টেশনের বেশির ভাগেই পর্যাপ্ত অটোগ্যাস নেই বলে চালকদের অভিযোগ। ফলে গ্যাসের জন্য তাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কেউ কেউ এক স্টেশন থেকে অন্য স্টেশনে ঘুরেও প্রয়োজনীয় গ্যাস পাচ্ছেন না।
নগরীতে অনুমোদিত প্রায় ২ হাজার ৬০০ গ্যাসচালিত থ্রি-হুইলার রয়েছে। এসব যানবাহনের চালকদের জন্য এলপিজির সরবরাহ সংকট নতুন করে ভোগান্তি তৈরি করেছে। গ্যাসের অভাবে সময় ও আয়—দুই দিক থেকেই ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা না গেলে এলপিজির সংকট আরও তীব্র হতে পারে। একই সঙ্গে খুচরা বাজারে অতিরিক্ত দামে সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধে বাজার মনিটরিং জোরদারের দাবিও জানিয়েছেন ভোক্তারা।