শিরোনামঃ
বরিশালে আদালত ভবন থেকে পড়ে কলেজ ক্যাশিয়ারের মৃত্যু, আত্মসাৎ নাকি পরিকল্পিত হত্যা বরিশালে এলপিজি সংকট, বাড়তি দামে বিক্রির অভিযোগ ভোলায় ২৭ ড্রাম সয়াবিন তেলসহ কাভার্ডভ্যান জব্দ, চালক পলাতক  ভারতে মসজিদ নির্মাণের ঘোষক হুমায়ুন কবির গ্রেপ্তার পকেট খরচের জন্য ভাগ্নেকে বিক্রি, মামাকে গ্রেফতার বাংলাদেশি ভেবে ভারতীয়দের গুলি করল বিএসএফ স্বামী-স্ত্রীসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার ৬ দিন বন্ধ একাধিক ব্যাংকের অনলাইন-এটিএমসহ নানা সেবা, গ্রাহকের করণীয় কী ইতালি পাঠানোর প্রলোভনে লিবিয়ায় নির্যাতন, নিঃস্ব বহু পরিবার বিশ্বের সেরা ৫০০ শহরেও নেই বাংলাদেশ! পিছিয়েছে ঢাকাসহ বড় নগরগুলো

ইতালি পাঠানোর প্রলোভনে লিবিয়ায় নির্যাতন, নিঃস্ব বহু পরিবার

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ Wednesday, October 7, 2026,
  • 13 সংবাদটি পঠিক হয়েছে
ইতালি পাঠানোর প্রলোভনে লিবিয়ায় নির্যাতন, নিঃস্ব বহু পরিবার

নিউজ ডেস্ক :: ইতালি পাঠানোর প্রলোভনে লিবিয়ায় নির্যাতন, নিঃস্ব বহু পরিবার

 

ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে তরুণদের অবৈধ পথে লিবিয়ায় নেয়া, সেখানে জিম্মি করে নির্যাতন এবং স্বজনদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে মাদারীপুরের এক ভাই-বোনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ উঠেছে, লিবিয়ায় থাকা সহযোগীদের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে সেই ভিডিও স্বজনদের কাছে পাঠানো হতো। পরে মুক্তিপণের নামে আদায় করা হতো মোটা অঙ্কের টাকা।অভিযোগ ওঠা ওই ভাই-বোন হলেন মাদারীপুর সদর উপজেলার কুনিয়া ইউনিয়নের ত্রিভাগদি গ্রামের তৈয়ব আলী ফকিরের মেয়ে শান্তি বেগম ও তার ভাই সোহেল ফকির। স্থানীয়দের অভিযোগ, তাদের মাধ্যমে বিদেশ যেতে গিয়ে অনেক পরিবার সর্বস্বান্ত হয়েছে। কারও স্বজনের খোঁজ মিলছে না, আবার কেউ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে নৌকাডুবিতে প্রাণ হারিয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শান্তি বেগম দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ পথে লিবিয়া হয়ে ইতালি পাঠানোর কাজ করতেন। এলাকায় তার মাধ্যমে লোক পাঠানোর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিদেশ যেতে আগ্রহী তরুণরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। পরে তাদের লিবিয়ায় নেয়ার পর বিভিন্ন সময় মাফিয়া চক্রের হাতে জিম্মি করার কথা বলে স্বজনদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের স্বজনদের দাবি, কেউ টাকা দিতে দেরি করলে লিবিয়ায় তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো। নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে স্বজনদের কাছে পাঠানো হতো। এসব ঘটনায় শান্তি বেগমের ভাই সোহেল ফকিরের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও রয়েছে।

ভয় ও আতঙ্কে স্থানীয় অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, এই ভাই-বোনের মাধ্যমে বিদেশ যেতে গিয়ে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। তাদের পাঠানো কয়েকজন তরুণের এখনও কোনও খোঁজ নেই। এছাড়া সাগরে নৌকাডুবিতে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বিভিন্ন ঘটনায় ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সঙ্গে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে বিষয়গুলো ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। ফলে গুরুতর অভিযোগ থাকার পরও তারা এলাকায় প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন বলে দাবি এলাকাবাসীর।তিনি বলেন, ‘টাকায় কি সব পাওয়া যায়? আমি কি আমার জামাইকে ফেরত পাব? আমার মেয়ের ঘরে তিন কন্যাসন্তান রয়েছে। তারা এখনও অনেক ছোট। তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি চিন্তায় আছি।’

অভিযোগের বিষয়ে শান্তি বেগমের বক্তব্য জানতে তার বাড়িতে গেলে স্বামী শাহ আলম জানান, তিনি ঢাকায় কাজে গেছেন। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে শান্তি বেগম দাবি করেন, তিনি আগে লোক পাঠানোর কাজ করলেও গত দুই মাস ধরে তা বন্ধ রেখেছেন। তবে নৌকাডুবিতে মৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বিস্তারিত বক্তব্য দিতে চাননি।

অন্যদিকে, সোহেল ফকিরের বাড়িতে গিয়ে তাকেও পাওয়া যায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিনি ঢাকায় রয়েছেন এবং কিছুদিন আগে দেশে ফিরেছেন। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনিও দাবি করেন, বর্তমানে তারা আর বিদেশে লোক পাঠানোর কাজ করেন না। নির্যাতন ও মৃত্যুর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে তাদের আপস-মীমাংসা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনা জানান, শান্তি বেগম ও সোহেল ফকিরের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। কেউ অভিযোগ দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানান তিনি।

স্থানীয়দের দাবি, মানবপাচার ও নির্যাতনের অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হোক।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...

© All rights reserved © 2021
Developed By Engineerbd.net
EngineerBD-Jowfhowo