কুয়াকাটায় দোকানে হামলা, স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত নেতা গ্রেপ্তার

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ Saturday, February 21, 2026,
  • 108 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

সারাদেশ

কুয়াকাটায় দোকানে হামলা, স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত নেতা গ্রেপ্তার
কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্রের একটি আচারের দোকানে হামলা চালানোর ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত সদস্য মো. মাকসুদ আকনকে গ্রেপ্তার করেছে মহিপুর থানা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্রের জিরো পয়েন্ট এলাকায় দোকানে হামলা চালায় স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

এরপর ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিক মো. মনিরুল হাওলাদার তিনজনকে আসামী করে মহিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে একইদিন সন্ধ্যায় প্রধান অভিযুক্ত মো. মাকসুদ আকনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর আগে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে কুয়াকাটা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করে পটুয়াখালী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের দপ্তর সম্পাদক মো. আতিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মনিরুল ইসলামের মালিকানাধীন ‘তানিসা আচার ঘর’ নামের দোকানে মো. হাসান নামে এক যুবক ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ঘটনার দিন সকাল আনুমানিক ১০টা ২০ মিনিটে প্রধান অভিযুক্ত মো. মাকসুদ আকনসহ আরও তিন থেকে চারজন দোকানে এসে ম্যানেজার হাসানকে বাইরে যেতে বলেন। কারণ জানতে চাইলে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা হাসানকে মারধর করেন এবং দোকানের বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করেন। অভিযোগে বলা হয়, ভাঙচুরের সময় দোকান থেকে নগদ ২২ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া হয়।

দোকান মালিক মনিরুল ইসলাম বলেন,“মাকসুদ আমার দোকানে লুটপাট করেছে। সে চাঁদাবাজির মতই দোকানে এসে ৩ লক্ষ টাকা দাবি করে। সে বলে, সে নাকি একজনের কাছ থেকে টাকা দিয়ে এই দোকান ভাড়া নিয়েছে। আমাকে সে দোকান ছাড়তে বলে, না হয় সেই টাকা দিতে বলে। ভাঙচুরের ঘটনায় আমার প্রায় দুই থেকে আড়াই লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমি অনেক আগেই স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা বারেক মোল্লার কাছ থেকে দোকানটি ভাড়া নিয়েছি। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তিনি এলাকায় না থাকায় দোকানটির জমি নিজেদের বলে দাবি করছেন স্থানীয় দুই থেকে তিনজন বিএনপি সমর্থক। ২০০১-২০০৬ সালে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীনও কখনো শুনিনি এ জমি তাদের। কিন্তু ৫ তারিখের পর থেকেই তারা দাবি করছে। মালিকানা দাবি করা তাদের একজনের কাছ থেকেই নাকি টাকা দিয়ে চুক্তিপত্র নিয়েছে মাকসুদ। এজন্য সে আমাকে বারবার দোকান ছাড়তে বলে। এ ঘটনার জের ধরেই সে আজ আমার দোকানে হামলা চালায়।”

প্রধান অভিযুক্ত পুলিশ হেফাজতে থাকায় এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে অভিযুক্তের চাচাতো ভাই মামুন আকন বলেন,“দোকানের জমি নিয়ে আমার চাচাতো ভাই মাকসুদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব ছিল। সে বিভিন্ন জায়গা থেকে কিস্তিতে টাকা এনে জমির চুক্তির জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়েছে। এতদিন সে কষ্ট করে সেই টাকা পরিশোধ করছিল। কিন্তু চুক্তি নেওয়া সত্ত্বেও মালিকানা না পাওয়ায় সে ক্ষুব্ধ হয়। সে চাঁদা দাবি করেনি, শুধু দোকান ছাড়তে বলেছিল। এখন তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আমাদের বংশে কেউ কখনো কোনো অপরাধে থানায় যায়নি। আমরা বিষয়টির আইনি সমাধান চাই।”

এ বিষয়ে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহব্বত খান ঢাকা পোস্টকে বলেন,“প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ আমাদের কাছে রয়েছে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...

© All rights reserved © 2021
Developed By Engineerbd.net
EngineerBD-Jowfhowo