বিশেষ প্রতিনিধি :: বরিশাল বিএমপি’তে এসআই বশিরের বদলি বাণিজ্য
কমিশনারের নাম ভাঙিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশে (বিএমপি) বদলি ও নমিনেশনের নামে মোটা অঙ্কের অর্থ বাণিজ্যের তীব্র অভিযোগ উঠেছে। এসব অপকর্মের মূল হোতা হিসেবে উঠে এসেছে বিএমপির আরও-১ (রিজার্ভ অফিসার-১) পদে কর্মরত উপ-পরিদর্শক (এসআই) বশিরের নাম। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে বরিশালে অবস্থান করে অঢেল সম্পদের মালিক বনে যাওয়া এই কর্মকর্তার কারণে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে খোদ পুলিশ কমিশনারের।
প্রভাব ও অঢেল সম্পদ অর্জন
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভোলার স্থায়ী বাসিন্দা তোফায়েল আহমেদের ভাগ্নে পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিএমপিতে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আসছেন এসআই বশির। বরিশালের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিয়ে গত ১৫ বছর ধরে একই বিভাগে চাকরির সুবাদে তিনি গড়ে তুলেছেন অঢেল সম্পদ। সম্প্রতি আর-১ পদে দায়িত্ব পাওয়ার পর তার বেপরোয়া আচরণ ও দুর্নীতি নতুন মাত্রা পেয়েছে।
বদলি বাণিজ্য ও কৌশলে চাঁদাবাজি
বিএমপির অধীনস্থ থানা ও ফাঁড়িতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুলিশ সদস্যদের বদলি, পদায়ন ও বিভিন্ন তালিকার ভয় দেখিয়ে নিয়মিত অর্থ বাণিজ্য চালাচ্ছেন তিনি।
কমিশনারের অজান্তে তালিকা বড় করা: পুলিশ কমিশনার যদি প্রশাসনিক প্রয়োজনে দু-একজনের নামের তালিকা চান, এসআই বশির কমিশনারের অজান্তেই সেখানে ২০ থেকে ২৫ জন পুলিশ সদস্যকে ডেকে পাঠান।
নাম কাটানোর নামে অর্থ আদায়: তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া কিংবা পছন্দের জায়গায় বদলি করার কথা বলে পুলিশ সদস্যদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।
কমিশনারের নাম ব্যবহার: এসব টাকা লেনদেনের ক্ষেত্রে তিনি পুলিশ কমিশনারের নির্দেশ রয়েছে বলে প্রচার করেন, যা সরাসরি বিএমপি প্রধানের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে।
বিএমপিজুড়ে ক্ষোভ ও আলোচনা
এসআই বশিরের এমন প্রকাশ্য অর্থ বাণিজ্য ও অপকর্ম নিয়ে বর্তমানে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতিটি থানায় চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ পুলিশ সদস্যদের মাঝে এখন এটিই প্রধান আলোচনার বিষয়। বিএমপির মাঠ পর্যায়ের সদস্যরা রিজার্ভ অফিসার বশিরের এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।