মরিয়ম প্রভাবশালী, বিভিন্নজনের সঙ্গে আছে সম্পর্ক

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ Sunday, September 25, 2022,
  • 357 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

খুলনার মহেশ্বরপাশা এলাকার গৃহবধূ রহিমা বেগম নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে নানা নাটকীয় মোড় দেখা যাচ্ছে। ঘটনার পর থেকে রহিমার মেয়ে মরিয়ম মান্নানের লাইমলাইটে আসা, তার নানা পোস্ট, মায়ের লাশ পাওয়ার দাবি ভাবিয়ে তুলেছিল সাধারণ মানুষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে।

রহিমাকে পাওয়ার পর পাল্টেছে মরিয়মের ভাষাও। এসব কিছু নিয়ে গণমাধ্যমের পাঠক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরা যখন আলোচনা-সমালোচনায় ব্যস্ত, তখন উঠেছে আরেক অভিযোগ। মরিয়ম মান্নান নাকি প্রভাবশালী, ঢাকায় তার আছে বিভিন্নজনের সঙ্গে সম্পর্ক!

এ অভিযোগ তুলেছেন রাহিমা বেগম নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার আসামি ফুলবাড়িগেট এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী হেলাল শরীফের স্ত্রী মনিরা আক্তার। হেলাল শরীফ গ্রেফতার আছেন।

মনিরা আক্তার জানান, তার স্বামী হেলাল বিনা অপরাধে গত ২৮ দিন ধরে জেল খাটছেন। গত ৩০ আগস্ট হেলালকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আগামী অক্টোবরে মনিরার সন্তান প্রসবের কথা থাকলেও স্বামীর দুশ্চিন্তায় গত ৬ সেপ্টেম্বর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মেয়ে সন্তানের জন্ম দেন তিনি। সে পরিস্থিতিতে স্বামীকে পাশে পাওয়া মরিয়ম মান্নানের জন্য হয়নি বলে দাবি তার।

মনিরা আরও বলেন, মরিয়ম খুব প্রভাবশালী। ঢাকার বিভিন্ন লোকের সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে। তিনি নিজে তার মায়ের নিখোঁজ হওয়ার মতো গর্হিত কাজ করেছে বলে আমি মনে করি। প্রভাবশালী লোক দিয়ে তিনি পুলিশকে প্রভাবিত করে আমার স্বামীকে জেল খাটাচ্ছেন।

তিনি বলেন, মরিয়মের কারণে অপরাধ না করেও আমার স্বামী জেল খাটছেন। এতে আমাদের হয়রানি, অর্থদণ্ড ও মানহানি হয়েছে। আমরা নিশ্চিত, গ্রেফতার হওয়া কেউই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।

মনিরা আশা করছেন দ্রুত তার স্বামী জেল থেকে ছাড়া পাবেন। অন্যথায় তিনি আইনের আশ্রয় নেবেন।

মরিয়মের বিরুদ্ধে মনিরা আক্তারের অভিযোগ যাচাইয়ের জন্য যোগাযোগ করে রহিমা বেগম নিখোঁজের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খুলনা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মান্নানের সঙ্গে। বিকেলে তার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, অভিযোগের এ বিষয়টি আমি জানি না। রহিমা বেগম আদালতে জবানবন্দি দিচ্ছেন। এসব বিষয় সম্পর্কে পরবর্তীতে জানানো হবে।

এদিকে, মা হারানো নিয়ে মরিয়ম মান্নান যে ঘটনাগুলো ঘটিয়েছেন শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত পর্যন্ত সেগুলো নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আলোচনা করেছিলেন নেটিজেনরা। কিন্তু শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রাম থেকে রহিমা বেগমকে উদ্ধারের পর পরই আলোচনা রূপ নেয় সমালোচনায়।

প্রথম দিকে যারা মরিয়মের মায়ের খোঁজের আন্দোলনের পোস্টগুলো লাইক-কমেন্টে-শেয়ার করে ভার্চ্যুয়ালি সঙ্গে ছিলেন এখন তারাই বিরুদ্ধে লিখছেন।

রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) ‘রহিমা নিখোঁজের নাটকে কারাগারে যারা, তাদের কী হবে’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করে । পাঠকরা এ সংবাদ পড়ার পর জানিয়েছেন নিজ নিজ অভিব্যক্তি-

ফেসবুকে আসাদুজ্জামান আসাদ নামে একজন লিখেছেন- মরিয়ম মান্নান হয়তো নিয়মিত ক্রাইম পেট্রোল দেখেন। দারুণ অভিনয় করছেন তিনি। অনেকদিন পর বাংলাদেশ এমন অভিনয় দেখলাম! সত্যি অসাধারণ।

রকিব খান লিখেছেন, এদের এ অভিনয়ের কারণে হাজার হাজার সত্যিকারের গুমকেও ছোট করে দেখা হবে। তাই এদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক, যাতে করে এ দুঃসাহস কেউ আর না দেখায়। এরা মানুষের বিশ্বাস নিয়ে খেলেছে। এরা জাতি এবং সমাজের জন্য ভয়ঙ্কর।

মো. সোহেল নামে একজন বলেছেন, এ মরিয়ম ও তার মায়ের ব্যাকগ্রাউন্ড খতিয়ে দেখা উচিত। এমনও হতে পারে ভিন্ন ইস্যুর আড়ালে দেশের প্রশাসনকে ব্যস্ত রাখার জন্য এ গুমের নাটক সাজিয়েছে। অন্যপাশ থেকে হয়তো বড় ধরনের কিছু ঘটতে চলেছে। ময়মনসিংহে মহিলার লাশের কাপড়-চোপড়ের সুরতহালের সঙ্গে নাকি তার মায়ের অবিকল মিলে গেলো- সেটা কীভাবে বললো মরিয়ম? তাকে দিয়ে দাবার গুটি চালাচ্ছে না তো কোনো পক্ষ? দ্রুত তাকে র‌্যাব-৬ এর রিমান্ডে নেওয়ার জোর দাবি জানাই।

মো. আবু ইউসুফও এমনই মন্তব্য করে লিখেছেন, দেশের মানুষের আবেগ নিয়ে পরবর্তীতে কেউ যেন আর এমন খেলা না খেলে।

ফেরদৌস আহমেদ বলেছেন, মরিয়মের এ ঘটনার ফলে দেশের অসংখ্য গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের কান্নাকে সন্দেহে রূপান্তর করে দেবে। হালকা হয়ে যাবে শত শত পরিবারের অভিযোগ।

রহিমা বেগম সবচেয়ে বড় অপরাধী। মেয়েরাও সব জানতো- ওরা বড় নাটকবাজ। যারা আশ্রয় দিয়েছেন তাদেরসহ সবাইকে আইনের আতাওয় আনার দাবি জানিয়েছেন অনেকে।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...

© All rights reserved © 2021
Developed By Engineerbd.net
EngineerBD-Jowfhowo