নিউজ ডেস্ক :: ঢামেক মর্গের ফ্রিজার নষ্ট, মরদেহ পচে-গলে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ
লাশ রাখার ফ্রিজার নষ্ট এক সপ্তাহ ধরে। আর এতে মরদেহ পচে-গলে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে চারপাশে। এমন চিত্র ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে। যেখানে প্রতিদিন ময়নাতদন্ত হয় অন্তত ৮-১০টি মরদেহের। লাশ যথাযথ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় এখন দেখা দিয়েছে মরদেহের বিভিন্ন আলামত নষ্টের আশঙ্কা।
সোমবার (৮ জুন) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে দেখা যায়, ফরেনসিক বিভাগের পাশে রাখা বিশেষ মর্চুয়ারি কুলার। যেখানে একসঙ্গে রাখা যায় ৪০টি মরদেহ। তবে এটি আপাতত বিকল। তাহলে লাশ সংগ্রহের উপায় কী! মর্গের কমপ্লেক্সের ভেতর ঢুকলে দেখা যায়, একটি রুমে ফ্লোরে সারি করে রাখা হয়েছে লাশ। কয়েকটি রাখা হয়েছে লাশ পরিবহনের ট্রলিতে। তবে রুমটিতে নেই কোনো শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র।
মর্গের ইনচার্জ রামু চন্দ্র দাস জানান, ইতোপূর্বে ৫টি ছোট ছোট ফ্রিজারে রাখা হতো লাশগুলো। তবে সেই ফ্রিজারগুলো অকেজো হয়ে পড়েছে। ২০২১ সালে রেডক্রসের দেয়া মর্গে স্থাপন করা হয় এই বিশেষ মর্চুয়ারি কুলার। যেখানে একসঙ্গে রাখা যায় ৪০টি মৃতদেহ। তবে গত এক সপ্তাহ ধরে কুলারটি পুরোপুরি বিকল হয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন
ঢামেকে দালালের খপ্পরে পড়ে শিশুর মৃত্যু, কর্মচারী আটক
১২ মে ২০২৬

এই অবস্থায় কীভাবে লাশ সংরক্ষণ করা হচ্ছে জানতে চাইলে রামু চন্দ্র দাস বলেন, নিরুপায় হয়ে ফ্লোরে রাখা হচ্ছে লাশগুলো। এভাবে লাশ থেকে বিভিন্ন আলামত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এতে ইঁদুরের আক্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ বরাবর লেখা একটি আবেদন পত্রে দেখা যায়, ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. কাজী গোলাম মোখলেছুর রহমান মর্চুয়ারী কুলার অকেজো হয়ে পড়ার বিষয়টি অবগত করে লিখেছেন, এটি দ্রুত সময়ের মধ্যে মেরামত করা অতি জরুরি। ২ জুন বিষয়টি অবগত করা হলেও ৮ জুনও এর কোনো সুরাহা দেখা যায়নি।
বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. কাজী গোলাম মোখলেছুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. মাজহারুল শাহীন বলেন, আমরা বিষয়টি অবগত আছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।