বরিশালে রেস্তোরাঁয় হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ, ছাত্রদল নেতার নাম উল্লেখ করে বিক্ষোভ; অভিযোগ অস্বীকার অভিযুক্তদের
নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশাল নগরীর নতুন বাজার এলাকায় একটি রেস্তোরাঁয় হামলা, ভাঙচুর, দুই নারীকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকসহ কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযুক্তরা সব অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ ও ঝাড়ু মিছিল করে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে কাউনিয়ার বাগানবাড়ি এলাকায় ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মীর মধ্যে একটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার জের ধরে রাতের দিকে নগরীর নতুন বাজার মরকখোলা পুল সংলগ্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগ রয়েছে, রাতের একপর্যায়ে মোটরসাইকেল বহর নিয়ে একদল ব্যক্তি নতুন বাজারের একটি রেস্তোরাঁয় হামলা চালায়। এ সময় দোকানে ভাঙচুর, খাবার নষ্ট, নগদ টাকা লুট এবং নারী সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
রেস্তোরাঁ মালিক রেনু বেগম অভিযোগ করেন, রাতের দিকে ৩০-৩৫টি মোটরসাইকেলে করে ৭০-৮০ জনের একটি দল এসে তাদের রেস্তোরাঁয় অতর্কিত হামলা চালায়।
তার অভিযোগ, হামলাকারীরা দোকানের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে, রান্না করা খাবার রাস্তায় ছুড়ে ফেলে এবং তাকে ও তার বোনকে টেনে-হিঁচড়ে রাস্তায় এনে মারধর করে।
রেনু বেগম বলেন, সবার সামনে আমাদের শাড়ি ধরে টানাহেঁচড়া করা হয়েছে। চুল ধরে রাস্তায় ফেলে লাথি মারা হয়েছে। আমরা নারী হওয়া সত্ত্বেও কোনো দয়া করা হয়নি। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
আহত রেনু বেগম ও তার বোন মালা আক্তারকে পরে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
মালা আক্তারের দাবি, হামলাকারীরা রেস্তোরাঁর ক্যাশবাক্স থেকে প্রায় ৬ হাজার টাকা নিয়ে যায়।
তিনি অভিযোগ করেন, হামলায় নেতৃত্ব দেন বিএম কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন, সংগঠনের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম রাতুল, ওয়ালিউল ইসলাম তামিম এবং গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ছাত্রদলের সভাপতি তাসনিমুল ফেরদৌস হাসান।
তার ভাষ্য, যাদের সঙ্গে তাদের বিরোধ ছিল, তারা মাঝে মাঝে আমাদের রেস্তোরাঁয় খেত। সেই কারণেই আমাদের ওপর এ হামলা চালানো হয়েছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই নতুন বাজার এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সড়ক অবরোধ করে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে। পরে মহানগর ছাত্রদলের নেতারাও ঘটনাস্থলে এসে আইনগত ব্যবস্থার আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
তবে এর কিছুক্ষণ পরই স্থানীয়রা ঝাড়ু মিছিল বের করে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখেন।
অভিযোগের বিষয়ে বিএম কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন বলেন, তাদের কোনো নেতাকর্মী ওই হামলার সঙ্গে জড়িত নন।
তার দাবি, সোমবার দুপুরে বিএম কলেজ ছাত্রদলের কর্মী, গণিত বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহর ওপর মরকখোলা পুল এলাকায় হামলা চালানো হয় এবং তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
তিনি বলেন, সন্ধ্যায় ওই ঘটনার অভিযোগ দিতে থানায় যাওয়ার সময়ও আমাদের এক শিক্ষার্থীর ওপর হামলা হয়। আমরা কারও ওপর হামলা করিনি। আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক এনামুল হাসান তাসনিম বলেন, ছাত্রদল কখনো সন্ত্রাস, হামলা বা নারীর প্রতি সহিংসতাকে সমর্থন করে না। যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে ছাত্রদলের পরিচয়ে কেউ এমন ঘটনা ঘটিয়েছে, তাহলে সংগঠনের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি নিয়ে উভয় পক্ষের কাছ থেকে ভিন্ন ভিন্ন অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তিনি জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।