নিউজ ডেস্ক :: বাসটার্মিনালে চাঁদাবাজিসহ বহু অভিযোগ, এমপি সরোয়ারের ভাইকে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ
চাঁদাবাজিসহ আর্থিক অনিয়মের বহুমুখী অভিযোগের ভিত্তিতে বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মোশারেফ হোসেনকে গভীর রাত পর্যন্ত থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। তিনি বরিশাল ৫ (সিটি ও সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ারের ছোট ভাই। বেশকিছু দিন ধরে তাকে নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকগুলো নেতিবাচক সংবাদের প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এমন পদক্ষেপ রাখল। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে নানান আলোচনা শোনা যাচ্ছে।
পুলিশ ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল পরিচালনা ও জেলা বাস মালিক গ্রুপের নেতৃত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা আলোচনা রয়েছে। বাস এবং থ্রি-হুইলার (মাহিন্দ্রা) শ্রমিকদের বিরোধের জেরে ২৫ ও ২৬ আগস্ট বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।
পুলিশ সূত্রের দাবি, কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ডে একক আধিপত্য বিস্তার, সংগঠনের আর্থিক অনিয়ম এবং বিভিন্ন পর্যায়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে মোশাররফের কাছে তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে। অবশ্য একই অভিযোগের প্রেক্ষাপটে গত ফেব্রুয়ারি মাসে তাকে সেনাবাহিনী বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল।
সদর আসনের এমপির ভাই মোশাররফকে শুক্রবার বিকেলে পুলিশ কোতয়ালি মডেল থানায় ডেকে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চর্চা হচ্ছে। অনেকে বলছেন, আগামীতে বাসস্ট্যান্ড কেন্দ্রীয় কোনো প্রকার অনিয়মে জড়াবেন না — এমন মুচলেকা দিয়ে ৫ ঘণ্টা পরে মুক্ত হয়েছেন তিনি। অবশ্য পুলিশ বা এমপির স্বজন মোশাররফ কেউই বিষয়টি নিয়ে পুরোপুরি মুখ খুলছেন না।
পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়টি অস্বীকার করে মোশাররফ হোসেন বলছেন, ‘উপ-পুলিশ কমিশনার সুশান্ত স্যার আমাকে ডেকেছিলেন। মাহিন্দ্রা শ্রমিকদের সঙ্গে যাতে বাস শ্রমিকদের কোনো গন্ডগোল না হয়, সে বিষয়ে বলেছেন। বিশেষ করে ভাই ভাইয়ের মধ্যে যাতে আর বিরোধ না হয়, সেই বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।’
২০২৪ সালের ৫ আগস্টপরবর্তী বাসস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজিসহ অনিয়মের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে— এমন প্রশ্ন রাখা হলে তিনি কৌশলে এড়িয়ে গিয়ে বলেন, কোতয়ালি থানায় গিয়ে আসর, মাগরিব ও এশার নামাজ পড়েছি। রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত থানায় গল্পগুজব করেছি।’
চাঁদাবাজির অভিযোগটি তিনি অস্বীকার করলেও বাস মালিক গ্রুপের একাধিক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলছেন, পুলিশ মোশাররফের কাছে নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালকেন্দ্রিক চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে চেয়েছে। আগে কীভাবে চাঁদা তোলা হতো, এখন কীভাবে তোলা হয় এবং এর ভাগ কারা পায়—এসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি বিষয়টি পুরোপুরি আড়াল করছেন।
তবে এই জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেছে বরিশাল কোতয়ালি পুলিশ। তারা বলছেন, ‘নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল কীভাবে পরিচালিত হয়, মোশাররফের কাছে তা জানতে চাওয়া হয়। এবং আগে কীভাবে চলেছে, এখন কীভাবে চলছে— এসব সার্বিক বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
এই তথ্য নিশ্চিত করে কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, টার্মিনালকেন্দ্রিক চাঁদাবাজির কোনো অভিযোগ মামলা নেই। তারপরেও আগামীতে বিশৃঙ্খলা পরিবেশ এড়াতে মোশাররফকে ডেকে বেশকিছু বিষয়টি জানতে চাওয়া হয়েছে। তিনি রাত ১১টা পর্যন্ত থানায় ছিলেন। এমপির ভাইয়ের কাছ থেকে মুচলেকা রাখার সরব আলোচনা শোনা যাচ্ছে— এমন প্রশ্ন রাখা হয়ে ওসি বলেন, বাসস্ট্যান্ড পুরোপুরি চাঁদাবাজিমুক্ত রাখতে পুলিশ কাজ করছে।’