নিজস্ব প্রতিবেদক :: সমকাল ব্যুরো অফিসে ঝুলছে সাংবাদিকের লাশ, মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন!
দৈনিক সমকাল বরিশাল ব্যুরো অফিসে সিনিয়র সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা রাতে তার এই আকস্মিক মৃত্যুর খবর পেয়ে শহরের ৯নং ওয়ার্ডের প্যারারা রোডের অফিসে পুলিশ প্রশাসন এবং সহকর্মীরা ছুটে যান। পুলক চ্যাটার্জি এর আগে সমকাল ব্যুরো হিসেবে একই অফিসে দীর্ঘকাল কাজ করেছেন, বছর তিনেক পূর্বে তাকে প্রতিষ্ঠানটি সরিয়ে সহকর্মী রিপোর্টার সুমন চৌধুরীকে দায়িত্ব দেয়।
পুলক চ্যাটার্জির এই মৃত্যু নিয়ে সহকর্মী সিনিয়র-জুনিয়র অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন এবং এর নেপথ্যে কোনো গল্প লুকানো আছে কী না তা তদন্ত করার জোর দাবিও তোলা হচ্ছে। বিশেষ করে তার ঝুলন্ত ছবিটি মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ বাড়িয়ে তুলেছে। এই বিষয়টিতে পুলিশ আপাতত কোনো মন্তব্য না করলেও একটি চিকন রশিতে ফ্যানের সাথে সাংবাদিকের দেহ ঝুলে থাকা এবং পা মাটিতে ভাজ থাকার চিত্রটি তাদেরও ভাবাচ্ছে।
সহকর্মীরা জানিয়েছে, চাকরি না থাকলেও পুলক চ্যাটার্জি মাঝেমধ্যে অফিসে পত্রিকা পড়তে আসতেন এবং তার কাছে অফিসের একটি বিকল্প চাবি ছিল। শুক্রবার বিকেল তিনটার দিকে তিনি অনুরূপভাবে অফিসে আসেন, যা সিসি ক্যামেরায় রেকর্ড আছে। তবে এ সময় ব্যুরো চিফ সুমন চৌধুরী অফিসে ছিলেন না বলে জানা গেছে।
প্যারারা রোডের এই অফিস ভবনটি বিএনপি নেতা আনোয়ারুল হক তারিনের। ভবনটিতে দৈনিক আজকের পত্রিকা, দৈনিক যুগান্তর, এনটিভির অফিস রয়েছে।
পুলকের স্ত্রী নিলোৎপলা মুখার্জি সাংবাদিকদের বলেন, “ ২০২৩ সালের দিকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তারপর থেকে তিনি বেকার ছিলেন। পুলক চ্যাটার্জি স্ত্রী ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। পুলক চ্যাটার্জির ভাই ভূমি কর্মকর্তা দীপক চ্যাটার্জি বলেন, চাকরি না থাকার কারণে তার ভাই কিছুটা হতাশ ছিলেন। সে কারণেও এটা হতে পারে। কিন্তু এ কারণে আত্মহত্যা করবেন, সেটা কেউ ভাবিনি।”
৫৭ বছর বয়সি এই সাংবাদিকের মৃত্যুর খবর পেয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা-সহকর্মী সাংবাদিকসহ রাজনৈতিক নেতারা ছুটে যান।
বর্তমান ব্যুরো চিফ সুমন চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, তিনি সন্ধ্যা ৬টার দিকে এসে অফিসের ভেতর থেকে দরজা বন্ধ দেখতে পান এবং পাশের জানালা দিয়ে সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জিতে রশিতে ঝুলতে দেখেন। তাৎক্ষণিক তৃতীয় তলায় যুগান্তর অফিসের লোকজন ডেকে এনে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলেও সাংবাদিকের মরদেহটি নামানটি, বরং সাথে সাথে পুলিশকে অবহিত করেন।
সংশ্লিষ্ট কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বলছেন, প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ বলা সম্ভব হচ্ছে না। তবে তাকে একটি চিকন রশিতে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং পাটি মেঝেতে ভাজ করা ছিল। ফলে বিষয়টি নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলতে পারেন। এই কারণে সাংবাদিকের মরদেহের ময়নাতদন্ত করার প্রস্তুতি নিয়েছে পুলিশ।’