সৌদি আরবের অনুরোধে ইরানকে চাপ চীনের

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ Saturday, September 19, 2026,
  • 2 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: সৌদি আরবের অনুরোধে ইরানকে চাপ চীনের

 

সৌদি আরবের অনুরোধের পর ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইরানকে ব্যক্তিগতভাবে আহ্বান জানিয়েছে চীন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিন ইরানি সূত্র রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।

সূত্রগুলো জানায়, গত এক সপ্তাহে হুথিরা লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকা এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশে দ্রুত অগ্রসর হওয়ার পর রিয়াদ চীনের সহায়তা চায়। হুথিদের এই তৎপরতায় সৌদি আরবের তেল রপ্তানি ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

প্রকাশ্যে চীন সংঘাতের বিষয়ে সংযম, সংলাপ এবং নিরাপদ নৌ চলাচল পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানিয়েছে। তবে ব্যক্তিগত পর্যায়ে দেওয়া বার্তায় চীন আরও সরাসরি অবস্থান নিয়েছে বলে ইরানি সূত্রগুলো জানিয়েছে।

চীন চায়, হুথিদের ওপর ইরানের যে প্রভাব রয়েছে, তা ব্যবহার করে সংঘাত যেন আরও বিস্তৃত না হয়। বিশেষ করে চীনের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন ও বাণিজ্যিক নৌপথে অস্থিতিশীলতা ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে বেইজিং এ উদ্যোগ নিয়েছে।

সূত্রগুলো জানায়, চীনের এই বার্তা কীভাবে ইরানের কাছে পৌঁছানো হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। বুধবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির চীন সফরের সময় বিষয়টি উত্থাপিত হয়েছিল কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়।

ইরানের পক্ষ থেকে চীনকে জানানো হয়েছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রথমে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে।

ইরানি সূত্রগুলোর দাবি, হুথিদের ওপর প্রভাব খাটাতে ব্যর্থ হলে ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের কোনো হুমকি চীন দেয়নি।

রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইয়েমেন ও লোহিত সাগরে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ুক—এটি তারা চায় না। তাদের মতে, আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা বাড়ানো কোনো পক্ষের স্বার্থেই নয়।

চীন আরও বলেছে, সব দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি সম্মান দেখাতে হবে এবং মানুষের জীবনযাত্রার জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা করা উচিত নয়। পরিস্থিতি আরও জটিল করে এমন কর্মকাণ্ড বন্ধ করে সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং।

এ বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সৌদি সরকারের গণমাধ্যম দপ্তর রয়টার্সের প্রশ্নের তাৎক্ষণিক কোনো জবাব দেয়নি।

আঞ্চলিক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা
চীন এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। একই সঙ্গে ইরানের তেলের প্রধান ক্রেতাও চীন। পণ্যবাজারবিষয়ক তথ্য ও বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইরানের সমুদ্রপথে রপ্তানি করা তেলের ৮০ শতাংশের বেশি কিনেছে চীন। এর পরিমাণ ছিল গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১৪ লাখ ব্যারেল।
বিজ্ঞাপন

অঞ্চলটির এক জ্যেষ্ঠ পশ্চিমা কূটনীতিক বলেন, হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করার মতো সক্ষমতা এখনো যেসব দেশের রয়েছে, চীন তাদের অন্যতম।

১৯৯০-এর দশকে ইয়েমেনে সৌদি আরবের সুন্নি ধর্মীয় প্রভাবের বিরোধিতা করে হুথি আন্দোলনের উত্থান ঘটে। ইরানি ও পশ্চিমা সূত্রগুলোর দাবি, গোষ্ঠীটি ইরানের কাছ থেকে অস্ত্র, প্রশিক্ষণ ও অর্থসহায়তা পেয়ে থাকে। হুথিরা ইরানের পশ্চিমবিরোধী ও ইসরায়েলবিরোধী ‘প্রতিরোধ অক্ষ’-এরও অংশ।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...

© All rights reserved © 2021
Developed By Engineerbd.net
EngineerBD-Jowfhowo