শিরোনামঃ
পটুয়াখালীতে এতিমখানার ইলিশ ভাগাভাগি, মাদ্রাসাশিক্ষকসহ দুজনকে জরিমানা বরিশালে চাহিদার ৩০ ভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের কবলে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ মাদক-কিশোর গ্যাংয়ে জড়িত গডফাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ সরকারকে বিতর্কিত করতেই আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ বক্তব্য কি না, প্রশ্ন রিজভীর চেতনানাশক দিয়ে ধর্ষণের পর জন্মনিয়ন্ত্রণ ওষুধ খাওয়াতেন মাদ্রাসাশিক্ষক ৩৮ জনকে হত্যা করে মাংস খাওয়ার অভিযোগ, উগান্ডায় গ্রেফতার ভয়ংকর নরখাদক ডিভি লটারি: বাংলাদেশিরা কি আবেদন করতে পারবেন? ৭ নভেম্বর বন্ধ থাকবে সব ব্যাংক সুস্থ থাকতে নবীজি সব সময় যে দোয়া পড়তেন সন্তানের সঙ্গে বাবা-মায়ের আচরণ কেমন হওয়া উচিত?

শহীদ নূর হোসেন দিবস আজ

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ Thursday, November 10, 2022,
  • 323 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

১০ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) শহীদ নূর হোসেন দিবস। বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন-সংগ্রামে এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৮৭ সালের এই দিনে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে শহীদ হন নূর হোসেন। তার এই আত্মত্যাগ তৎকালীন স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রকামী মানুষের আন্দোলনকে বেগবান করে।

এ দিনে হাজারো প্রতিবাদী যুবকের সঙ্গে জীবন্ত পোস্টার হয়ে রাজপথে নেমে এসেছিল যুবলীগ নূর হোসেন। তাঁর বুকে-পিঠে উৎকীর্ণ ছিল ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক, স্বৈরাচার নিপাত যাক’ এই জ্বলন্ত স্লোগান।

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অকুতোভয় সেই যুবকের অগ্নিঝরা স্লোগান সহ্য হয়নি তৎকালীন স্বৈরশাসকের। স্বৈরাচারের লেলিয়ে দেওয়া বাহিনী নির্বিচারে গুলি চালিয়ে তাঁর বুক ঝাঁঝরা করে দেয়। গুলিতে আরও শহীদ হন যুবলীগ নেতা নুরুল হুদা বাবুল ও কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের ক্ষেতমজুর নেতা আমিনুল হুদা টিটোও। নূর হোসেনের আত্মত্যাগে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন আরও বেগবান ও তিন জোটের সংগ্রাম অপ্রতিরোধ্য রূপ লাভ করে।

এই আন্দোলনের জোয়ারে নব্বইয়ের শেষ দিকে ভেসে যায় স্বৈরাচারের তক্তপোশ। শহীদ নূর হোসেনের রক্তদানের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন তীব্রতর হয় এবং অব্যাহত লড়াই-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটে। দেশে কায়েম হয় দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন গণতন্ত্র। শহীদ নূর হোসেন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীক হয়ে ওঠেন। এরপর থেকে প্রতিবছর যথাযোগ্য মর্যাদায় ১০ নভেম্বর শহীদ নূর হোসেন দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি নিয়েছে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সকালে রাজধানীর গুলিস্তানস্থ শহীদ নূর হোসেন স্কয়ারে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন এবং তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন।

এদিকে শহীদ নূর হোসেন দিবস উপলক্ষ্যে ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বব তোলা ছবিগুলোর স্বত্বাধিকার মুক্ত করে দিয়েছেন চিত্রগ্রাহক দিনু আলম। এখন যে কেউ সরাসরি ছবিগুলো ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে পারবেন।

এ বিষয়ে দিনু আলম বলেন, ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর আমি মোট ৩৫টি ছবি তুলেছিলাম। এই গত ৩৫ বছর ধরে আমি ছবিগুলো নিজের কাছে সযত্নে আগলে রেখেছিলাম। কিন্তু এই ছবিগুলো বাংলাদেশের গত ৫০ বছরের ইতিহাসের অংশ। তাই আমি মনে করি, এই ছবিগুলো উন্মুক্ত করা দরকার। ইতিহাস সম্পর্কে নতুন প্রজন্ম যেন আরও বিস্তারিত জানতে পারে এটাই চাও। এতদিন নূর হোসেনের একটা ছবি বারবার ব্যবহার হচ্ছে। ফলে ছবির মান হারাচ্ছে। এছাড়াও ছবিগুলোর সংবাদ মূল্য এখনো রয়েছে কিন্তু আমার এই ছবিগুলোর কথা অনেকেই জানেন না। তাই আপনাদের তা জানাতে এবং ছবিগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিতে শহীদ নূর হোসেন দিবস উপলক্ষে আমি এই ছবিগুলো প্রকাশ করলাম।

নূর হোসেনের জন্ম ১৯৬১ সালে। পৈতৃক বাড়ি পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার ঝাটিবুনিয়া গ্রামে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর তার পরিবার স্থান পরিবর্তন করে ঢাকার ৭৯/১ বনগ্রাম রোডে আসে। বাবা মুজিবুর রহমান ছিলেন পেশায় আটোরিকশাচালক। তার মায়ের নাম মরিয়ম বিবি। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ার পর নূর হোসেন পড়াশোনা বন্ধ করে মোটরচালক হিসেবে প্রশিক্ষণ নেন।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...

© All rights reserved © 2021
Developed By Engineerbd.net
EngineerBD-Jowfhowo