লাইফস্টাইল ডেস্ক :: ৪০ পেরোলেই যে ৩টি ‘সুপারফুড’ প্রতিদিনের শক্তি যোগাবে
৪০ বছরের পর নারীদের জন্য তিনটি সাধারণ খাবারই হতে পারে বড় সমাধান। জটিল ডায়েট নয়, বরং নিয়মিত এই তিন ‘সুপারফুড’ খাওয়াই যথেষ্ট। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি
আয়নায় তাকিয়ে কি মনে হয় ত্বকের উজ্জ্বলতাও কমে গেছে? কিংবা আগের মতো এনার্জি আর নেই। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীর ও হরমোনে যে পরিবর্তন আসে, সেটা এড়ানো যায় না। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, বয়স বাড়লেও শরীর ও মনকে অনেকটাই তরুণ রাখা সম্ভব যদি প্রতিদিনের খাবারে কিছু ছোট পরিবর্তন আনা যায়।
বেঙ্গালুরুর পুষ্টিবিদ শালিনী সুধাকর জানাচ্ছেন, বিশেষ করে ৪০ বছরের পর নারীদের জন্য তিনটি সাধারণ খাবারই হতে পারে বড় সমাধান। জটিল ডায়েট নয়, বরং নিয়মিত এই তিন ‘সুপারফুড’ খাওয়াই যথেষ্ট। এগুলো হলো:
১. কাঠ বাদাম
শালিনীর মতে, সকালে খালি পেটে ৫টি ভেজানো কাঠ বাদাম খেলেই অনেক উপকার পাওয়া যায়। কাঠ বাদামে রয়েছে—
ম্যাগনেশিয়াম
জিংক
ফসফরাস
ভিটামিন বি৯
এই উপাদানগুলো হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি নিয়মিত কাঠ বাদাম খেলে হাড় শক্ত হয়, ত্বক উজ্জ্বল থাকে এবং সারাদিনের ক্লান্তি কমে। সকালে দিন শুরু করার জন্য এটি একেবারে আদর্শ খাবার।
২. ফ্ল্যাক্স সিড
ফ্ল্যাক্স সিড বা তিসি বীজ হলো ওমেগা–৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদানের দারুণ উৎস। এতে থাকা ‘লিগন্যান’ উপাদান—
হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখে
মেনোপজের সময় হট ফ্লাশ কমাতে সাহায্য করে
হজম শক্তি বাড়ায়
পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী, দুপুরের খাবারের সময় এক চামচ ফ্ল্যাক্স সিডের গুঁড়ো দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে পুষ্টি শোষণ আরও ভালো হয় এবং পেটও থাকে হালকা।
৩. তিল
তিলকে শালিনী এই তালিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিলে রয়েছে—
আয়রন
ক্যালসিয়াম
ভিটামিন বি১ ও বি৬
ফোলেট
এই উপাদানগুলো হাড় মজবুত রাখে এবং অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি কমায়। পাশাপাশি তিল খেলে ঘুমের মান ভালো হয়, জয়েন্টের ব্যথা কমে এবং শরীরের প্রদাহ হ্রাস পায়। সবচেয়ে ভালো ফল পেতে রাতের খাবারের প্রায় এক ঘণ্টা পরে এক চামচ ভাজা তিল খাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
পুষ্টিবিদের মতে, ৪০-এর পর সুস্থ থাকার জন্য কঠিন ডায়েট বা ব্যয়বহুল খাবারের প্রয়োজন নেই। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কাঠ বাদাম, ফ্ল্যাক্স সিড ও তিল রাখলেই হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকবে, হাড় থাকবে শক্ত আর শরীর পাবে প্রাকৃতিক শক্তি ও উজ্জ্বলতা।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস