আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: মাথায় টাক পড়ায় স্ত্রীকে তালাক দিলেন স্বামী
চীনের হেনান প্রদেশের শাংকিউ শহরে ভিটিলিগো নামক ত্বকের রোগে আক্রান্ত হয়ে মাথার উপরের অংশে টাক পড়ে যাওয়ায় এক নারীকে তালাক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার পাশাপাশি সহানুভূতির জন্ম দিয়েছে।
হেনান টেলিভিশনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ৩৬ বছর বয়সী ওই নারী, যিনি ‘লি’ নামে পরিচিত, প্রায় দুই বছর আগে হঠাৎ মাথার একটি বড় অংশে চুল সাদা হয়ে যাওয়া এবং পরে টাক পড়ে যাওয়ার সমস্যায় ভুগতে শুরু করেন। চিকিৎসকরা পরীক্ষার পর জানান, তিনি ভিটিলিগো বা লিউকোডার্মা রোগে আক্রান্ত। এই রোগে ত্বক, চুল ও শ্লেষ্মা ঝিল্লিতে রঙের ঘাটতি দেখা দেয়, যার ফলে বাহ্যিক চেহারায় দ্রুত পরিবর্তন আসে।
লি অভিযোগ করেন, রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই স্বামীর আচরণে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দেয়। তিনি বলেন, আমি সবসময় পরিবারের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছি। সন্তানের দেখভাল, রান্না, কাপড় ধোয়া সব দায়িত্বই পালন করেছি। কিন্তু অসুস্থ হওয়ার পর থেকে আমার স্বামী আমাকে ঘৃণা করতে শুরু করে।
তিনি আরও বলেন, স্বামীর এমন আচরণ তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি গণমাধ্যমের সহায়তা নিতে বাধ্য হন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দম্পতির বিয়ে হয়েছিল ১৬ বছর আগে। শেষ পর্যন্ত সন্তানের অভিভাবকত্ব লি-র কাছে রেখে স্বামীর তালাকের প্রস্তাব মেনে নিতে বাধ্য হন তিনি। তবে এ বিষয়ে স্বামীর পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ঝেংঝৌ লিউকোডার্মা হাসপাতালের সিনিয়র চিকিৎসক লু মানচুন জানান, ভিটিলিগো শরীরের যেকোনো অংশে হতে পারে এবং বিশ্বব্যাপী এর প্রকোপ ০.৫ থেকে ২ শতাংশ। তার মতে, লি-র ক্ষেত্রে মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও নেতিবাচক অনুভূতির কারণে রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। “এই রোগে ভালো মনোভাব ও মানসিক স্থিরতাই সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা,বলেন তিনি।
লি জানান, তিনি অতীত ভুলে ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ঘটনাটি চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এক নেটিজেন মন্তব্য করেন, নিজেকে ভালো রাখুন। কেউ পাশে না থাকলে নিজের ওপরই ভরসা রাখতে হয়। আরেকজন লেখেন, এই রোগের চিকিৎসা কঠিন ও ব্যয়বহুল। আশা করি আপনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।
অনেকে ঘটনাটিকে বিবাহিত জীবনে নারীর প্রতি মানসিক সমর্থনের অভাবের উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। একজন মন্তব্য করেন, নারীরা অর্থের অভাবে তালাক দেয়, আর পুরুষরা নারীর সৌন্দর্য নষ্ট হলে তালাক দেয় এটা সমাজের এক নির্মম বাস্তবতা।
এই ঘটনা চীনে দাম্পত্য সম্পর্কে স্বাস্থ্যগত সমস্যা, মানসিক সহানুভূতি এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।