শিরোনামঃ
পটুয়াখালীতে এতিমখানার ইলিশ ভাগাভাগি, মাদ্রাসাশিক্ষকসহ দুজনকে জরিমানা বরিশালে চাহিদার ৩০ ভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের কবলে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ মাদক-কিশোর গ্যাংয়ে জড়িত গডফাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ সরকারকে বিতর্কিত করতেই আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ বক্তব্য কি না, প্রশ্ন রিজভীর চেতনানাশক দিয়ে ধর্ষণের পর জন্মনিয়ন্ত্রণ ওষুধ খাওয়াতেন মাদ্রাসাশিক্ষক ৩৮ জনকে হত্যা করে মাংস খাওয়ার অভিযোগ, উগান্ডায় গ্রেফতার ভয়ংকর নরখাদক ডিভি লটারি: বাংলাদেশিরা কি আবেদন করতে পারবেন? ৭ নভেম্বর বন্ধ থাকবে সব ব্যাংক সুস্থ থাকতে নবীজি সব সময় যে দোয়া পড়তেন সন্তানের সঙ্গে বাবা-মায়ের আচরণ কেমন হওয়া উচিত?

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে মাঠে নামছেন ৪০০ বিদেশি পর্যবেক্ষক

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ Monday, February 9, 2026,
  • 124 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

নিউজ ডেস্ক ::
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে মাঠে নামছেন ৪০০ বিদেশি পর্যবেক্ষক

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে মাঠে নামছেন ৪০০ বিদেশি পর্যবেক্ষক
মাত্র দুইদিন পরেই বাংলাদেশে স্মরণকালের শ্রেষ্ঠ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

মাত্র দুইদিন পরেই বাংলাদেশে স্মরণকালের শ্রেষ্ঠ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, নির্বাচনের সময় রাষ্ট্রের পরিবর্তনের জন্য একই দিন গণভোটও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফ্যাসিস্ট পতনের পর বাংলাদেশে একটি গ্রহণযোগ্য স্বচ্ছ নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। দেশজুড়ে প্রস্তুতি যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে তখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নির্বাচনটি ঘিরে বাড়ছে নজরদারি ও আগ্রহ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা যায়, রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে প্রায় ৪০০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং ১২০ জন বিদেশি সাংবাদিক দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য অনুমোদন পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন দেশীয় পর্যবেক্ষক।
দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর পর এত বড় পরিসরে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই প্রথম জাতীয় নির্বাচন হওয়ায় এর স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে এবারের নির্বাচন কেবল একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয়, বরং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা পুনর্প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয় পর্যবেক্ষক পরিচয়পত্র ও যানবাহনের স্টিকার ইস্যুর বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে। জারি করা এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা, ২০২৫’ কঠোরভাবে অনুসরণ করেই পর্যবেক্ষকদের অনুমোদন দেওয়া হবে। কমিশনের মতে পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমকে পেশাদার, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য রাখতে এই নির্দেশনা অপরিহার্য। নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, আবেদনের সঙ্গে দাখিল করা ইও-২ ও ইও-৩ ফরম যথাযথভাবে পূরণ করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে হবে। পর্যবেক্ষকের জন্মতারিখ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০০৫ বা তার আগে হতে হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমানের সনদের সত্যায়িত কপি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিটি পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রধানকে লিখিতভাবে প্রত্যয়ন দিতে হবে যে, নিয়োগপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষকদের কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, এই নির্বাচনে ৮১টি নিবন্ধিত পর্যবেক্ষণ সংস্থার মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে ৭ হাজার ৯৯৭ জন এবং সংসদীয় আসনভিত্তিক স্থানীয় পর্যায়ে ৪৭ হাজার ৪৫৭ জন পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণে অংশ নেবেন। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, এত বড় সংখ্যা পর্যবেক্ষকের অংশগ্রহণ নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও সুদৃঢ় করবে।
এবারের নির্বাচনে সর্বাধিক সংখ্যক পর্যবেক্ষক চলে এসেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ)। ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন (ইইউইওএম) প্রায় ২০০ সদস্যের একটি পূর্ণাঙ্গ দল নিয়ে বাংলাদেশে কাজ করছে।
ইইউইওএম প্রধান ইভেন্স ইলাস জানিয়েছেন, এই মিশনে ঢাকাভিত্তিক ১১ সদস্যের কোর টিম, ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক এবং ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষকেরা ভোটের ঠিক আগে মাঠ পর্যায়ে মোতায়েন হবেন।
ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের প্রতিনিধিরাও এই মিশনে অংশ নিচ্ছেন। এছাড়া ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আট সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল মিশনে যুক্ত হয়ে পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে।
লংটার্ম ও শর্টটার্ম দুইটি দল প্রথম সংবাদ সম্মেলন করার মাধ্যমে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরসহ জেলায় কাজ শুরু করেছে। কাজের আপডেট জানাতে আজ মঙ্গলবার দ্বিতীয়বারের মতো সংবাদ সম্মেলনও করেছে ইউরো ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক দল।
ইইউ জানিয়েছে, ভোটের দুইদিন পর ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। পরবর্তী সময় প্রায় দুই মাসের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে, যেখানে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার পর্যবেক্ষণ দলও সক্রিয় রয়েছে। ঘানার সাবেক রাষ্ট্রপতি নানা আকুফো-আর্দ্রর নেতৃত্বে কমনওয়েলথ অবজারভার গ্রুপ বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছে। এই প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচন প্রক্রিয়া, আইনের শাসন ও নিরপেক্ষতা নিয়ে মতবিনিময় করছে।
কমনওয়েলথ প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, তাদের লক্ষ্য হলো- সুষ্ঠু নির্বাচন, পর্যবেক্ষণ, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ মূল্যায়ন প্রদান। ইতোমধ্যে কমনওয়েলথের ১৩ জন পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে পৌঁছেছেন।
এছাড়া এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশন (আনফ্রেল) বাংলাদেশে ২৮ জন পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিক ইনস্টিটিউট (আইআরআই) পাঠাচ্ছে ১৯ জন প্রতিনিধি। এসব সংস্থা নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি নির্বাচনী পরিবেশ, প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও রাজনৈতিক সহনশীলতার দিকগুলো মূল্যায়ন করবে।
নির্বাচন কমিশন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবারের নির্বাচনে ২৩টি দেশ ও ৭টি আন্তর্জাতিক সংস্থার অন্তত ৩৬৪ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছেন। বাকি পর্যবেক্ষকগণ নির্দিষ্ট সময়ে দেশে অবস্থান করবে বলে কূটনৈতিক সূত্র জনকণ্ঠকে নিশ্চিত করেছে । উক্ত তালিকা ছাড়াও পর্যবেক্ষক পাঠানো দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে স্পেন, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, ইতালি, সুইডেন, পোল্যান্ড, তুরস্ক, চীন, জাপান, ভারত, পাকিস্তান, ইরান, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। এর মধ্যে তুরস্ক ৬ জন পার্লামেন্ট সদস্যসহ ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছে। ভারতসহ চারটি দেশের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে যুক্ত থাকবেন।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের উপস্থিতিও এবারের নির্বাচনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক। প্রায় ১২০ জন বিদেশি সাংবাদিক নির্বাচন কভার করতে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। তারা ভোটগ্রহণের পরিবেশ, নিরাপত্তা পরিস্থিতি, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও গণভোটের সামগ্রিক প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস দপ্তর জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মান ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার স্বার্থেই নির্বাচন প্রক্রিয়া বিদেশি পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। ‘এই নির্বাচন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অঙ্গীকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে।’ অন্তর্বর্তী সরকার আশা করছে, এবারের নির্বাচন একটি অংশগ্রহণমূলক, শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য উদাহরণ স্থাপন করবে।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...

© All rights reserved © 2021
Developed By Engineerbd.net
EngineerBD-Jowfhowo