শিরোনামঃ

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ধাপে ধাপে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের সুপারিশ, প্রথম ধাপেই চমক।

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ Thursday, April 30, 2026,
  • 83 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ধাপে ধাপে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের সুপারিশ, প্রথম ধাপেই চমক।

 

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম পে স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে তিন বেতন কমিশনের প্রতিবেদন সুপারিশ প্রণয়নে পুনর্গঠিত হওয়া কমিটি। আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেটে এর জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। একইসঙ্গে প্রথম ধাপেই মূল বেতন বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

 

 

 

এর আগে, গত ২১ এপ্রিল জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিশন সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি পুনর্গঠন করে সরকার।

 

এদিকে কমিটি সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাসের জন্য সুপারিশ জমা দিয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

 

জানা যায়, এই সুপারিশের ভিত্তিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আর্থিক চাপ বিবেচনায় রেখে নবম পে স্কেল একাধিক ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে অনুমোদন এলে ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।

 

প্রথম ধাপে মূল বেতন বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে উল্লেখ করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ এক কর্মকর্তা জানান, এরপর পর্যায়ক্রমে চিকিৎসা ভাতাসহ অন্যান্য ভাতা বাড়ানো হতে পারে। তবে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে হবে।

 

উল্লেখ্য, সর্বশেষ অষ্টম পে স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর দীর্ঘ ১১ বছর অতিবাহিত হলেও নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন হয়নি।

 

পরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন করে পে-কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সুপারিশ জমা দেয় তারা।

 

সেই সুপারিশ অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামোয় সর্বনিম্ন বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা, যেখানে অনুপাত হবে ১:৮।

 

উল্লেখ্য, ১৯৭৩ সালের প্রথম বেতন কমিশনে এই অনুপাত ছিল ১:১৫.৪, আর ২০১৫ সালের অষ্টম পে স্কেলে তা কমে দাঁড়ায় ১:৯.৪। প্রস্তাবিত নতুন কাঠামোয় এই অনুপাত আরও কমিয়ে সর্বনিম্ন পর্যায়ে আনা হয়েছে।

 

প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় কর্মরত ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা, যা ভাতাসহ মোট দাঁড়ায় প্রায় ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা। নতুন স্কেলে একই গ্রেডে মূল বেতন ২০ হাজার টাকায় উন্নীত হলে ভাতাসহ মোট আয় বেড়ে প্রায় ৪১ হাজার ৯০৮ টাকায় পৌঁছাতে পারে।

 

১৯তম থেকে ১ম গ্রেড পর্যন্ত সব স্তরেই ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে, তবে ভারসাম্য বজায় রাখতে এই বৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে সীমিত রাখা হতে পারে। যাতায়াত ভাতা, টিফিন ভাতা, ধোলাই ভাতা ও ঝুঁকি ভাতার মতো সুবিধাগুলো নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরাও পেয়ে থাকেন এবং এসব ক্ষেত্রেও সংশোধনের প্রস্তাব রয়েছে।

 

তবে গাড়ি সুবিধা নগদায়নের ভাতা (৫ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব) এই হিসাবের মধ্যে ধরা হয়নি। ফলে ১ম থেকে ৯ম গ্রেড পর্যন্ত ভাতা বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম দেখা যেতে পারে।

 

এছাড়া বর্তমানে চালু থাকা ১০ শতাংশ ও ১৫ শতাংশ বিশেষ ভাতা নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয়ের সুপারিশ করা হয়েছে।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...

© All rights reserved © 2021
Developed By Engineerbd.net
EngineerBD-Jowfhowo