স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা :: খাওয়ার পরপর শুয়ে পড়ার অভ্যাস? সতর্ক করলেন চিকিৎসক
সকালে বাসা-বাড়িতে থাকা অবস্থায় নাশতার পর কিংবা দুপুরে বা রাতে খাবার খাওয়ার পরই বিশ্রাম নেয়ার অভ্যাস অনেকের। এ ক্ষেত্রে কেউ চেয়ারে বসে পড়েন, কেউ কেউ আবার বিছানায় শুয়ে কিছুটা গড়িয়ে নেন। এমনটা যাদের অভ্যাস হয়ে গেছে, তারা কোনোরকম খাওয়া শেষ করেই বিছানায় চলে যান। কেউ কেউ অফিসে কাজে থাকলে চেয়ারে বসে ঢুলতেও থাকে
খাওয়ার পর এসব কাজ করাকে বিশ্রাম মনে হলেও আদৌ তা বিশ্রাম নয়। এসব শরীরের ক্ষতি করে থাকে। ছোট ছোট বিভিন্ন রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। শুয়ে পড়ার অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে খাবার খাওয়া উচিত। তা না হলে বুকজ্বালা, ঢেঁকুর বা মুখে বাজে স্বাদের মতো অস্বস্তিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
এদিকে সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য অভ্যাসটি বাদ দেয়া জরুরি। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরামর্শ প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম এভরি ডে হেলথ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখান থেকে তাহলে জেনে নেয়া যাক-
খাওয়ার পরপর শুয়ে পড়লে কী হয়:
খাওয়ার পরপর শুয়ে পড়লে হজম না হওয়া খাবার পরিপাকতন্ত্র পুরোপুরি সঠিকভাবে অতিক্রম করতে পারে না।
বেভারলি হিলসের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ইনস্টিটিউট অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার ডাবল বোর্ড-প্রত্যয়িত গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডক্টর পেটন বেরুকিম বলেছেন, একটি সম্ভাবনা থাকে যে, আপনি এই মাত্র খাবার খেয়েছেন, যা খাদ্যনালী বেয়ে পাকস্থলীর প্রবেশদ্বার পর্যন্ত পৌঁছেছে―সেসব উল্টো পথে ফিরে আসার সম্ভাবনা থাকে। এ ক্ষেত্রে সেসব পাকস্থলীর কিছু অ্যাসিডসহ পুনরায় গলায় চলে আসতে পারে।
ঠিক এই সমস্যাকেই ‘অ্যাসিড রিফ্লাক্স’ বা গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স বলা হয়ে থাকে। যখন এমনটা হয়, তখন বুকে ও গলায় এক ধরনের অস্বস্তি বা জ্বালাপোড়া হতে পারে, যা অনেকটা গরম হুল ফোটানোর মতো তীব্র মনে হয়। এ কারণেই একে ‘হার্টবার্ন’ বা বুকজ্বালা বলা হয়।
ডক্টর পেটন বেরুকিম বলেন, এটি আপনার বুক ও গলায় জ্বালাপোড়ার অনুভূতি, মুখে টক স্বাদ বা কিছুক্ষণ পরপর ঢেকুর তোলার মাধ্যমে প্রকাশ পেতে পারে। এ কারণে কাশিও হতে পারে, যা একদম হাঁপানি বা অ্যাজমার লক্ষণের মতো মনে হয়ে থাকে।
তবে খাওয়ার কতক্ষণ পর শুয়ে পড়ছেন তা বিবেচনা না করেও, অনেক সময় নির্দিষ্ট কিছু খাবার বা ক্রিয়াকলাপের জন্য অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা হতে পারে।
খাওয়ার পরপর শুয়ে পড়লে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা:
খাবার খাওয়ার পরপর শুয়ে পড়ার কারণে যখন অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী বা ক্রনিক রূপ নেয়, তখন একে বলা হয় গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (GERD)। এ রোগের অন্যান্য লক্ষণগুলো হচ্ছে―খাবার গিলতে সমস্যা হওয়া, বুকে বা পেটে ব্যথা এবং গলায় কোনো পিণ্ড বা চাকা আটকে থাকার মতো অনুভব হওয়া।
নিয়মিত বা মাঝে মধ্যে যদি গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ বা এই বুকজ্বালা অনুভব হয়, তাহলে এসব নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য দৈনন্দিন জীবনে পরিবর্তন আনতে হবে। পাশাপাশি একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করতে হবে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেয়া না হলে খাদ্যনালীতে মারাত্মক সমস্যা হতে পারে। এমনকি ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।