শিরোনামঃ
নদী থেকে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার  জামায়াত-এনসিপির ঐক্যে ভাঙন ধরাতে চায় সরকার, সংস্কার ইস্যুতে অটুট ১১ দল খুব শিগগিরই গণমাধ্যম কমিশনের খসড়া নীতিমালা অনুমোদনে জমা হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন ধর্ষণের মামলায় বরিশাল জেলা ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি জয় গ্রেফতার বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রস্তাবিত বাজেটে যা থাকছে বরিশালে ঝাড়ফুঁকে ঝুঁকছেন রোগীরা, বাড়ছে ঝুঁকি ভিমরুলী ভাসমান পেয়ারা বাগানে শব্দদূষণের বিরুদ্ধে অভিযান, দুই ট্রলার মালিককে জরিমানা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের নামের বানান ভুল লেখায় ৩০০ বার লিখিয়ে শাস্তি, শিক্ষার্থীর ক্ষোভ প্রকাশ ভারতে বসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে পারবেন না হাসিনা বললেন মোদি বরিশাল নগরীতে স্বর্ণের দোকানে পরিচয়, কুরআনের দোহাই দিয়ে প্রতারণা: প্রেমিক এখন গরাদে

বরিশালে ঝাড়ফুঁকে ঝুঁকছেন রোগীরা, বাড়ছে ঝুঁকি

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ Saturday, August 1, 2026,
  • 11 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশালে ঝাড়ফুঁকে ঝুঁকছেন রোগীরা, বাড়ছে ঝুঁকি

বরিশালে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে মরণঘাতী লিভার রোগ হেপাটাইটিসে আক্রান্তের সংখ্যা। অথচ আধুনিক চিকিৎসা, পরীক্ষার সুযোগ এবং হেপাটাইটিস ‘বি’ প্রতিরোধে কার্যকর টিকা থাকা সত্ত্বেও সচেতনতার অভাব, কুসংস্কার এবং অন্ধবিশ্বাসের কারণে এখনও অনেক রোগী চিকিৎসকের পরিবর্তে ওঝা-কবিরাজের ঝাড়ফুঁক, পানি পড়া, ডাব পড়া কিংবা কলা পড়ার মতো অপচিকিৎসার ওপর নির্ভর করছেন। এতে রোগ দ্রুত জটিল আকার ধারণ করছে এবং অনেকেই শেষ পর্যায়ে পৌঁছে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।

 

চিকিৎসকদের মতে, অধিকাংশ রোগী যখন হাসপাতালে আসেন, তখন তাদের লিভার ইতোমধ্যে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। ফলে চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। অনেক ক্ষেত্রে রোগীর জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়ে।

 

হেপাটাইটিসে আক্রান্ত রোগী সোহেল রানা জানান, প্রথমে তিনি জন্ডিসে আক্রান্ত হন। গ্রামের প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী তিনি স্থানীয় ওঝা ও কবিরাজের শরণাপন্ন হন। ঝাড়ফুঁক, পানি পড়া, ডাব পড়া এবং কলা পড়া খেয়েই সুস্থ হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলে বাধ্য হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে জানতে পারেন তিনি হেপাটাইটিসে আক্রান্ত।

 

নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “গ্রাম অঞ্চলে অনেক মানুষ জানে না যে জন্ডিসের চিকিৎসা হয়। তারা শুধু ঝাড়ফুঁকের ওপর বিশ্বাস করে। আমিও প্রথমে সেই ভুলটাই করেছি। পরে যখন শরীরের অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যায়, তখন হাসপাতালে এসে জানতে পারি আমি হেপাটাইটিস পজিটিভ।”

 

শুধু কুসংস্কার নয়, অসচেতন জীবনযাপনও হেপাটাইটিস সংক্রমণের অন্যতম কারণ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে মাদক গ্রহণকারীদের মধ্যে একই সিরিঞ্জ একাধিক ব্যক্তি ব্যবহার করার প্রবণতা হেপাটাইটিস ‘সি’ সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

 

হেপাটাইটিস ‘সি’-তে আক্রান্ত এক যুবক জানান, মাদক নেওয়ার সময় অন্যের ব্যবহৃত ইনজেকশনের সিরিঞ্জ ব্যবহার করাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল।

 

তিনি বলেন, “যে সিরিঞ্জ ব্যবহার করেছি, তার শরীরে কী রোগ ছিল আমি জানতাম না। একই সুই শেয়ার করার কারণেই হয়তো আমার শরীরে এই রোগ এসেছে। এখন আমি হেপাটাইটিস সি-এর শেষ পর্যায়ে চিকিৎসা নিচ্ছি।”

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হেপাটাইটিস ভাইরাসের সংক্রমণ দীর্ঘদিন শরীরে নীরবে অবস্থান করতে পারে। অনেক রোগীর শুরুতে তেমন কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। ফলে তারা রোগটি বুঝতেই পারেন না। যখন জটিলতা দেখা দেয়, তখন অনেক ক্ষেত্রেই লিভারের স্থায়ী ক্ষতি হয়ে যায়।

 

বরিশালের সকল হাসপাতালসহ বরিশাল সম্পর্কিত সকল তথ্য জানুন : বরিশাল গাইড

 

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মাশরুর বিন আজাদ বলেন, হেপাটাইটিস নিয়ে মানুষের উদাসীনতার কোনো শেষ নেই। এইচআইভি (HIV) নাম শুনলেই মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে, অথচ হেপাটাইটিস ‘বি’ ও ‘সি’ সম্পর্কে সেই ধরনের সচেতনতা বা ভয় মানুষের মধ্যে নেই।

 

তিনি বলেন, হেপাটাইটিস ভাইরাসের পাঁচটি ধরন রয়েছে—এ, বি, সি, ডি এবং ই। এগুলোর সবই লিভারকে আক্রান্ত করে। তবে ‘বি’ ও ‘সি’ সবচেয়ে বেশি প্রাণঘাতী। সময়মতো রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা না হলে তা লিভার সিরোসিস, লিভার ফেইলিওর এবং লিভার ক্যান্সারে রূপ নিতে পারে।

 

চিকিৎসকদের মতে, নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন, জীবাণুমুক্ত সিরিঞ্জ ব্যবহার, ব্যক্তিগত রেজার ও নখ কাটার যন্ত্র আলাদা রাখা এবং অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক এড়িয়ে চলার মাধ্যমে হেপাটাইটিস ‘বি’ ও ‘সি’ সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। এছাড়া হেপাটাইটিস ‘বি’ প্রতিরোধে কার্যকর টিকা রয়েছে, যা নির্ধারিত সময়ে গ্রহণ করলে সংক্রমণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। অন্যদিকে হেপাটাইটিস ‘সি’-এর ক্ষেত্রে বর্তমানে কার্যকর ওষুধের মাধ্যমে অধিকাংশ রোগীকে সম্পূর্ণ সুস্থ করা সম্ভব, যদি সময়মতো রোগ শনাক্ত করা যায়।

 

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বলছে, ভাইরাল হেপাটাইটিস বিশ্বজুড়ে অন্যতম প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগ। প্রতিবছর প্রায় ১৩ লাখ মানুষ হেপাটাইটিসজনিত জটিলতায় মারা যায়। বাংলাদেশও হেপাটাইটিসের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর একটি। সচেতনতার অভাব, দেরিতে রোগ শনাক্ত হওয়া এবং চিকিৎসা গ্রহণে বিলম্ব এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

 

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, জন্ডিসকে কখনোই সাধারণ সমস্যা ভেবে অবহেলা করা উচিত নয়। চোখ বা শরীর হলুদ হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত দুর্বলতা, ক্ষুধামন্দা কিংবা প্রস্রাবের রং গাঢ় হয়ে গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কুসংস্কার ও ঝাড়ফুঁকের ওপর নির্ভর না করে দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসা গ্রহণই পারে একটি জীবন বাঁচাতে

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...

© All rights reserved © 2021
Developed By Engineerbd.net
EngineerBD-Jowfhowo