নিউজ ডেস্ক :: আইফোন নিয়ে বেরিয়ে নিখোঁজ, জঙ্গলে মিলল ইশায়াতের মরদেহ
কুমিল্লায় আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়েছিল সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীম। একদিন পর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে মিলল তার মরদেহ। মাথায় আঘাতের চিহ্ন থাকায় ঘটনাটি ঘিরে উঠেছে হত্যাকাণ্ডের আশঙ্কা।**
শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিল ইশায়াত। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত, রাত পেরিয়ে সকাল—ছেলের কোনো খোঁজ না পেয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় ছিলেন মা-বাবা।
শনিবার দুপুরে সেই অপেক্ষার অবসান হয় নির্মম এক খবরে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে ইশায়াতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ইশায়াত কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকায় মা-বাবার সঙ্গে থাকত সে। পরিবারের একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে এখন দিশাহারা তার স্বজনরা।
ইশায়াতের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে আসে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে। তার মা বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগম। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা দ্রুত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আবদুল হাকিম বলেন, ‘বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলের এমন মৃত্যু আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার এ ঘটনায় শোকাহত।’
এদিকে মরদেহ উদ্ধারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খান। তাঁর পোস্টে আইফোনকে কেন্দ্র করে হত্যার অভিযোগের কথা উঠে এসেছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো কোনো চূড়ান্ত বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ওসি মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হবে। ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
ইশায়াতের মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। কীভাবে, কেন এবং কারা এই কিশোরকে হত্যা করেছে—তা জানতে তদন্তের দিকে তাকিয়ে এখন পরিবার, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার ও স্থানীয়রা।