নিউজ ডেস্ক :: মিটার ভাড়া ও ডিমান্ড চার্জ: বিদ্যুৎ বিলে আসলে টাকা যায় কোথায়
বিদ্যুতের দাম বাড়ার পর বাড়তি মিটার ভাড়া ও ডিমান্ড চার্জ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে প্রশ্ন ও অসন্তোষ দেখা গেছে। জুনে নতুন দাম নির্ধারণের পর বিদ্যুৎ বিল বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ করছেন অনেক গ্রাহক। প্রিপেইড মিটারে অগ্রিম টাকা দেয়ার পরও বিভিন্ন খাতে টাকা কেটে নেয়া নিয়েও বিভ্রান্তি রয়েছে।
বর্তমানে আবাসিক গ্রাহকদের সাতটি ধাপে বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করা হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় ৫ শতাংশ ভ্যাট। পাশাপাশি গ্রাহকের নির্ধারিত লোড অনুযায়ী প্রতি কিলোওয়াটে ৪২ টাকা ডিমান্ড চার্জ দিতে হয়। মিটার কেনা না থাকলে যুক্ত হয় মিটার ভাড়াও।
ডিমান্ড চার্জ নেয়া হয় বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, ট্রান্সফরমার, বিতরণ লাইন ও সংযোগ প্রস্তুত রাখার খরচ হিসেবে। আর মিটার ভাড়া নেয়া হয় মিটার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য।
বর্তমানে দুই কিলোওয়াট লোডের গ্রাহককে মাসে ৮৪ টাকা এবং ১০ কিলোওয়াট লোডের গ্রাহককে ৪২০ টাকা ডিমান্ড চার্জ দিতে হয়। বিতরণ সংস্থার হিসাবে, সিঙ্গেল ফেজ প্রিপেইড মিটারের ভাড়া মাসে ৪০ টাকা এবং থ্রি-ফেজ মিটারের ভাড়া ২৫০ টাকা।
ভোক্তা সংগঠন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা ড. এম শামসুল আলম বলেন, মিটার ভাড়া ও ডিমান্ড চার্জ নিয়ে গ্রাহকদের প্রশ্ন তোলার যৌক্তিকতা রয়েছে। তার মতে, মিটার ভাড়া বিতরণ চার্জের সঙ্গে সমন্বয় করা উচিত এবং ডিমান্ড চার্জও পর্যালোচনা করা দরকার।
বুয়েটের অধ্যাপক ড. আব্দুল হাসিব চৌধুরী বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ কম হওয়ার পরও ডিমান্ড চার্জ নেয়া নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হচ্ছে। তার মতে, এসব বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিরীক্ষা ও যাচাই হলে গ্রাহকদের আস্থা বাড়তে পারে।
তবে ডিপিডিসির প্রকল্প পরিচালক মো. হানিফ উদ্দিন বলেন, প্রিপেইড মিটারে বাড়তি কোনো টাকা কাটা হয় না। পোস্টপেইডের মতো একই হারে ভ্যাট ও ডিমান্ড চার্জ নেয়া হয়। আর মিটার ভাড়া নেয়া হয় গ্রাহক এককালীন মিটার না কিনলে।
বিইআরসি জানিয়েছে, যাচাই-বাছাই করেই ডিমান্ড চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বশেষ বিদ্যুতের দাম বাড়লেও ডিমান্ড চার্জ বাড়ানো হয়নি।