নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশালের দুর্গাসাগর থেকে হরিণ নিখোঁজ, কেয়ারটেকার-পাহারাদার গ্রেপ্তার
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের ঐতিহাসিক দুর্গাসাগর দিঘি থেকে একটি চিত্রা হরিণ নিখোঁজের ঘটনার প্রায় এক বছর পর কেয়ারটেকার এবং পাহারাদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।রোববার (২ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দুর্গাসাগর দিঘি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বিমানবন্দর থানা পুলিশের একটি টিম। তাদের আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বরিশাল বিমানবন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) গোলাম সরোয়ার কাজী বরিশালটাইমসকে বলেন, হরিণ নিখোঁজের ঘটনায় প্রথমে দুর্গাসাগর দিঘির নিরাপত্তা সমন্বয়কারী জাহাঙ্গীর হোসেন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর মামলা রুজু করা হয়। ওই মামলায় কেয়ারটেকার জামাল হোসেন (৩০) এবং পাহারাদার অলিউল রহমান অলিকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতে সোপর্দ করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাদের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। হরিণ নিখোঁজের ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৩ আগস্ট রাতে হরিণের খাঁচার নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন অলিউল হাওলাদার, জাহিদুর রহমান এবং বশির শিকদার। ওই রাতেই একটি চিত্রা হরিণ নিখোঁজ হয়। পরদিন সকালে হরিণ গণনার সময় একটি হরিণ কম থাকার বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এই ঘটনার পর দুর্গাসাগর দিঘির নিরাপত্তা সমন্বয়কারী জাহাঙ্গীর হোসেন বিমানবন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। তদন্তের অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসনের স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করা হলেও হরিণের খাঁচার আশপাশের কয়েকটি ক্যামেরা বিকল থাকায় গুরুত্বপূর্ণ কোনো সূত্র পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট বিমানবন্দর থানায় মামলা করা হয়।
বিমানবন্দর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন বরিশালটাইমসকে বলেন, দীর্ঘ সময় তদন্তের পর মামলায় কেয়ারটেকার ও এক পাহারাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে।’