শিরোনামঃ
জনবল সংকটে ধুঁকছে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বাকেরগঞ্জে রহস্যজনক বিস্ফোরণ: অগ্নিদগ্ধ নারী-শিশুসহ ৩, ‘বালুর বস্তায় ছিল বোমা’ দাবি পরিবারের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও বরিশালের বাজারে সবজির আগুন, ৪০০ টাকা কেজি কাঁচা মরিচ বরিশালে খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে বস্তাভর্তি সরকারি কম্বল! বরিশালের দুর্গাসাগর থেকে হরিণ নিখোঁজ, কেয়ারটেকার-পাহারাদার গ্রেপ্তার শেখ হাসিনার চলে যাওয়া অলৌকিক মনে হচ্ছিল: ফখরুল বরিশালে ধর্ম পরিবর্তনের আশ্বাস ও বিয়ের প্রলোভনে মুসলিম নারীকে ধর্ষণ, হিন্দু যুবক গ্রেফতার চিপসের প্যাকেটে খেলনা বল, গলায় আটকে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা মামলার আসামি যুবলীগ নেতা গ্রেফতার

জনবল সংকটে ধুঁকছে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ Tuesday, August 4, 2026,
  • 5 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

জনবল সংকটে ধুঁকছে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

৫০ শয্যার ভবন থাকলেও চলছে ৩০ শয্যার কার্যক্রম, চিকিৎসক সংকটে প্রতিদিন ভোগান্তিতে শত শত রোগী

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিনের জনবল সংকট, চিকিৎসা সরঞ্জামের অচলাবস্থা এবং অবকাঠামোগত নানা সীমাবদ্ধতার কারণে ব্যাহত হচ্ছে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা। ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে প্রায় ৫ লাখ মানুষের একমাত্র সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর অভাবে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ফলে জটিল রোগীদের বাধ্য হয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কিংবা ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, রোগীর চাপ বিবেচনায় ২০১৯ সালে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ৩ তলা ৫০ শয্যার নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়। কিন্তু ভবন উদ্বোধনের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ না হওয়ায় আজও ৫০ শয্যার কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে হাসপাতালটি ৩০ শয্যার অনুমোদন অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে।

প্রতিদিন হাসপাতালের বহির্বিভাগে (আউটডোর) গড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। কিন্তু চিকিৎসকের স্বল্পতার কারণে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অনেক রোগী কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা পান না। অন্যদিকে আবাসিক ওয়ার্ডে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ জন রোগী ভর্তি থাকায় শয্যার সংকট দেখা দেয়। অনেক রোগীকেই বাধ্য হয়ে হাসপাতালের মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

শুধু জনবল নয়, হাসপাতালের ভেতরের পরিবেশও রোগীবান্ধব নয়। পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে বৈদ্যুতিক পাখা ও লাইট বিকল থাকায় তীব্র গরমে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগীদের। হাসপাতালটিতে কোনো জেনারেটর না থাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে রাতের বেলায় পুরো ওয়ার্ড অন্ধকারে ডুবে যায়, যা রোগী ও স্বজনদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে, হাসপাতালের আলট্রাসনোগ্রাফি ও এক্স-রে মেশিন প্রায় ৩ বছর ধরে বিকল থাকলেও তা মেরামতের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে রোগীদের বাধ্য হয়ে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হচ্ছে। এতে বাড়তি অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি সময়ও নষ্ট হচ্ছে।

জরুরি রোগী পরিবহন ব্যবস্থাও রয়েছে নাজুক অবস্থায়। হাসপাতালের ৩টি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে ২টি দীর্ঘদিন ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে। সংস্কারের অভাবে সেগুলো ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে গুরুতর রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল বা ঢাকায় পাঠাতে গিয়ে রোগীর স্বজনদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাসপাতালটিতে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ৪০টি। এর মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ১৮ জন। শূন্য রয়েছে ২২টি পদ। নার্সের অনুমোদিত ৩৯টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ৩৪ জন, শূন্য রয়েছে ৫টি পদ।

এছাড়া উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসারের ৯টি পদের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন ৫ জন, শূন্য রয়েছে ৪টি। ফার্মাসিস্টের ৯টি পদের মধ্যে কর্মরত ৫ জন, শূন্য ৪টি। মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) পদ দুটি থাকলেও কর্মরত রয়েছেন মাত্র একজন, তিনিও বর্তমানে প্রেষণে জয়পুরহাটে কর্মরত। ফলে কার্যত এ পদটিও শূন্য রয়েছে।

মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (রেডিওলজি) এবং মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ডেন্টাল) পদে কোনো কর্মী নেই। পরিচ্ছন্নতাকর্মীর ৫টি পদের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ২জন। ৩টি পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া ৩টি ওয়ার্ড বয় পদের একটিতেও বর্তমানে কোনো কর্মী কর্মরত নেই।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আধুনিক ভবন নির্মাণ করা হলেও প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত না করায় সরকারি অর্থের সুফল মিলছে না। দ্রুত চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের পাশাপাশি বিকল যন্ত্রপাতি মেরামত এবং হাসপাতালের সার্বিক সেবার মান উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুমি আক্তার বলেন, হাসপাতালের জনবল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় চাহিদাপত্রও পাঠানো হয়েছে। জনবল পাওয়া গেলে হাসপাতালের সেবার মান আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।

বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন চন্দ্র পাল বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে উপজেলা প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সাথে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা চলছে।

বরিশালের সিভিল সার্জন ডা. মনিরুজ্জামান বলেন, বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জনবল সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা আমাদের নজরে রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

প্রায় ৫ লাখ মানুষের চিকিৎসার ভরসাস্থল এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিনের সংকট কাটিয়ে কবে নাগাদ পূর্ণাঙ্গ ৫০ শয্যার কার্যক্রম চালু হবে, সেই অপেক্ষায় রয়েছেন বাকেরগঞ্জের সাধারণ মানুষ।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...

© All rights reserved © 2021
Developed By Engineerbd.net
EngineerBD-Jowfhowo