শিরোনামঃ
সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে দেশের ৬ অঞ্চলে ঝড়ের পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্কসংকেত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নত জাতের গাঁজাসহ ভারতীয় আটক বরিশালে কারখানার কক্ষে মিলল যুবকের মরদেহ ভারপ্রাপ্ত স্পিকার হলেন কায়সার কামাল বরিশালে ভয়াবহ ত্রিমুখী সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত ১ বরিশালে রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যু বরিশালের গৌরনদীতে একটি নির্মাণাধীন ব্রিজের ঢালাই কাজ সম্পন্ন করার পরপরই তা ধসে পড়েছে। মেয়েটি নিজেই গাজী নজরুলকে সেবা করতে চেয়েছিল : জামায়াত এমপি সরকার দেশের জনগণের পালস বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে: রেজাউল করিম শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অপসারণ চেয়ে মোদী সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

শিশুর পায়ে সুইয়ের টুকরো রেখেই ছাড়পত্র দিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ!

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ Thursday, September 1, 2022,
  • 298 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত এক শিশুর পায়ে সুইয়ের টুকরো রেখেই ছাড়পত্র দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শনিবার (২৭ আগস্ট) সকালে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ উঠেছে, নিউমোনিয়া নিয়ে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি হয় এক বছর বয়সী শিশু তাসনিহা আক্তার। তাকে ইনজেকশন দেওয়ার জন্য ক্যানোলা করা হয়। সেই ক্যানোলার সুইয়ের কিছু অংশ ভেঙে পায়ের মাংসপেশীর ভেতরে আটকে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

শিশু তাসনিহা আক্তার সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কুরবাননগর ইউনিয়নের আলমপুর গ্রামের বাচ্চু মিয়ার মেয়ে।

এ ঘটনায় সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন তাসনিহার বাবা মো. বাচ্চু মিয়া। মঙ্গলবার (৩০ আগস্ট) তিনি এই অভিযোগ করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত অবস্থায় তাসনিহাকে পরিবারের লোকজন সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের ষষ্ঠ তলায় শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। হাসপাতালের শিশু চিকিৎসক ডা. এনামুল হক খান শিশুটির চিকিৎসা দেন। কর্তব্যরত নার্স তাসনিহার বাম পায়ে ইনজেকশন দেন। এরপর বেলা ১১টায় তার পা হঠাৎ করে ফুলে ওঠে।

 

বিষয়টি ডা. এনামুল হক খানকে জানানো হলে, পা ফোলা কোনো সমস্যা নয়, ঠিক হয়ে যাবে বলে শান্ত্বনা দেন তিনি। পরের দিন রোববার সকালে চিকিৎসক শিশুটিকে ছাড়পত্র দেন। তবে শিশু তাসনিহার পায়ে সুই গেঁথে রয়েছে এমন সন্দেহ হওয়ায় হাসপাতালের পাশের একটি ক্লিনিকে গিয়ে ডা. বিশ্বজিৎ গোলদারকে দেখায় তার পরিবার।

ডা. বিশ্বজিৎ গোলদার শিশুটিকে দেখে জানান, শিশুটির পায়ে ইঞ্জেকশনের সুই রয়েছে। এ সময় তাকে সিলেটে যাওয়ার পরামর্শ দেন। সুই থাকার কারণে অতিরিক্ত ব্যথা হলে সোমবার সকালে আবারও সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাসনিহাকে। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টার সময় পুনরায় ডা. এনামুল হক খান সিলেটে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে আবারও ছাড়পত্র ইস্যু করার চেষ্টা করেন।

এ সময় শিশু তাসনিহার মা-বাবা সিলেটে চিকিৎসার সামর্থ্য নেই বলে ডাক্তার ও নার্সদের চিকিৎসার অনুরোধ করলে তারা কোনো ধরনের চিকিৎসা দেয়নি। হাসপাতালের কর্মচারীরা তাসনিহার পরিবারকে দুই হাজার টাকা দিয়ে সিলেট চলে যাওয়ার জন্য বলেন। চিকিৎসা না পেয়ে পরে বাধ্য হয়ে মঙ্গলবার বিকেলে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান।

শিশু তাসনিহার বাবা মো. বাচ্চু মিয়া বলেন,‘আমার মেয়ে পায়ের ভেতরে সুইয়ের টুকরো আটকা থাকায় যন্ত্রণা ভোগ করছে। সুই বের না করে ও ভালো পরামর্শ না দিয়েই হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এরপর সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছি। হাসপাতালের ডাক্তার বলেছেন, অপারেশন করে নাকি পা থেকে ভাঙা সুই বের করতে হবে। যাদের ভুলের কারণে মেয়ের পায়ে সুইয়ের টুকরো আটকা রয়েছে, তাদের শাস্তির দাবি করেন তিনি।

এদিকে লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও উপ-পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান। তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিতে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ও সেবা তত্ত্বাবধায়ক রয়েছেন।

তত্ত্বাবধায়ক আরও বলেন,‘একটি শিশুর চিকিৎসা নিয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

 

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...

© All rights reserved © 2021
Developed By Engineerbd.net
EngineerBD-Jowfhowo