শিরোনামঃ
ঢাকাসহ ১৪ জেলায় ৬০ কি.মি. বেগে ঝড়ের শঙ্কা দেড়শ বছরের ইতিহাস বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বরিশালের ‘চান বাংলো’ অনলাইন জুয়ার ভয়াল থাবায় বরিশালের তরুণসমাজ মহররম মাসে আশুরার রোজাসহ যেসব আমল করবেন বরিশালের দুই বড় সরকারি হাসপাতালে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিভ্রাট, রোগীদের কষ্ট দ্বিগুণ মক্কায় কোরআনের ৪০০ বছরের পুরোনো পাণ্ডুলিপি প্রদর্শন সীমান্ত ও দিগন্ত ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ১৮ কোটি টাকার হাসপাতালে টিভি-এসি সবই আছে নেই শুধু রোগী ও চিকিৎসক, হয়েছে শিয়াল কুকুরের আস্তানা মহিলাদের জন্য নারী মার্কেট করবে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন, বিলকিস জাহান শিরিন বরিশাল নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে উন্নয়ন কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করলেন, বিলকিস জাহান শিরীন

কাবা শরিফের ভেতরে কী আছে, কোন কাপড়ে ও কেন একে ঢেকে রাখা হয়?

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ Sunday, May 31, 2026,
  • 60 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

ধর্ম ডেস্ক :: কাবা শরিফের ভেতরে কী আছে, কোন কাপড়ে ও কেন একে ঢেকে রাখা হয়?

পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে ৮ জিলহজ থেকে। সব মিলিয়ে হজের আনুষ্ঠানিকতা পাঁচ দিনে শেষ হয়। হজ আদায়ের জন্য চলতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১৫ লাখের বেশি মুসলিম সৌদি আরবের মক্কায় সমবেত হয়েছেন। সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের জীবনে অন্তত একবার হজ করা ফরজ।

হজের অংশ হিসেবে হাজিরা পবিত্র কাবা শরিফ জিয়ারত করেন এবং ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে কাবাঘর সাতবার প্রদক্ষিণ করেন। এই প্রদক্ষিণ করাকে তওয়াফ বলা হয়। কাবা শরিফ কিসওয়া নামক একটি কালো কাপড়ে ঢাকা থাকে, যার ওপর সোনার সুতা দিয়ে লেখা থাকে পবিত্র কুরআনের আয়াত। সকাবা শরিফ, এর আবরণ এবং এর অভ্যন্তরীণ অংশ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যে তৈরি এই প্রতিবেদন।

কাবা
আরবিতে কাবা শব্দের অর্থ ঘনক বা চতুষ্কোণ ঘর। ইসলামের পবিত্রতম স্থান এবং মক্কার মসজিদুল হারামের মাঝখানে অবস্থিত এটি। সারা বিশ্বের মুসলিমরা প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় কাবার দিকে মুখ করে দাঁড়ান, যাকে কিবলা বলা হয়।

আরও পড়ুন

আরাফাহর ময়দান একটাই, তবু অনেক দেশে কেন পরের দিন পালিত হয়?

২৬ মে ২০২৬

বিশ্বের যেকোনো প্রান্তেই হোক না কেন, নামাজের মাধ্যমে কোটি কোটি মানুষ শামিল হন এক কাতারে। কাবা শরিফের উচ্চতা ১৩ দশমিক ১ মিটার (৪৩ ফুট), দৈর্ঘ্য ১২ দশমিক ৮ মিটার (৪২ ফুট) এবং প্রস্থ ১১ দশমিক শূন্য ৩ মিটার (৩৬ ফুট)।

কাবার ইতিহাস
মুসলিমরা বিশ্বাস করেন, কাবা মূলত আল্লাহর আদেশে হজরত ইব্রাহিম (আ.) এবং তাঁর পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.) ইবাদতগৃহ হিসেবে নির্মাণ করেছিলেন। পবিত্র কুরআনে একাধিকবার কাবার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাইলের (আ.) কাবার ভিত্তি স্থাপনের মুহূর্তটির কথাও উল্লেখ রয়েছে কুরআনে।

ইসলামের আবির্ভাবের আগে কাবা ছিল আরবের বিভিন্ন গোত্রের উপাসনার স্থান। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনায় হিজরত করার আট বছর পর ৬৩০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে মক্কায় ফিরলে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে।

মুহাম্মদ (সা.) কাবার ভেতর থেকে সব মূর্তি অপসারণ করেন এবং একে এক আল্লাহর ইবাদতের স্থানে পরিণত করেন। প্রতিবছর হজ ও ওমরাহ পালনের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ২ কোটির বেশি মানুষ আসেন মক্কায়।

কাবার ভেতরে যা আছে
কাবা শরিফের উত্তর-পূর্ব দিকে একটি সোনার দরজা রয়েছে, যা ভূমি থেকে দুই মিটারেরও (সাড়ে ছয় ফুট) বেশি উঁচুতে অবস্থিত। ২৮০ কেজি খাঁটি সোনা দিয়ে তৈরি এই দরজার উচ্চতা ৩ দশমিক ১ মিটার (১০ ফুট) এবং প্রস্থ ১ দশমিক ৯ মিটার (৬ ফুট)।

কাবার ভেতরের অংশ আনুষ্ঠানিকভাবে ধোয়ার জন্য সাধারণত বছরে দুবার দরজা খোলা হয়। কাবার ভেতরের অংশটি অত্যন্ত সাধারণ— ছাদকে ধরে রাখার জন্য তিনটি কাঠের স্তম্ভ এবং ছাদে ওঠার জন্য একটি সিঁড়ি রয়েছে। এর মেঝে ও দেয়াল মার্বেল পাথর দিয়ে মোড়ানো এবং সিলিং বা ছাদ থেকে লণ্ঠন ঝোলানো।

কাবার ভেতরের দেয়ালের কিছু অংশ কাপড়ে ঢাকা থাকে। ঐতিহাসিকভাবে এই কাপড়গুলো লাল, সবুজ ও গাঢ় নীল রঙের এবং আঁকাবাঁকা নকশার হয়ে থাকে।

কিসওয়া কী
কিসওয়া আরবি শব্দ। এর শব্দমূল হলো কাফ, সিন এবং ওয়াও। কিসওয়া শব্দের অর্থ ঢাকা বা আবৃত করা। এটি হলো কালো রেশমি কাপড়, যা কাবা শরিফকে ঢেকে রাখে। মূলত, যেকোনো ধরনের পোশাক বা আবরণ বোঝাতেই শব্দটি ব্যবহার করা হতো। কালক্রমে শব্দটি বিশেষভাবে কাবার আবরণের সঙ্গে জড়িয়ে যায়। দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে কিসওয়া গিলাফ নামে পরিচিত। ফার্সি গিলাফ শব্দের অর্থও কিসওয়ার অনুরূপ: ঢাকনা, আবরণ বা পর্দা।

হজের সময় কিসওয়ার নিচের অংশটি সযত্নে ওপরে তুলে রাখা হয়। মূলত বিপুলসংখ্যক হাজি কাবার কাছাকাছি যেতে এবং বরকত লাভের আশায় এটি স্পর্শ করার চেষ্টা করেন। তাই, কাপড়টি সুরক্ষিত রাখতে নেয়া হয় এই ব্যবস্থা।

কিসওয়ার প্রধান অংশ হলো কালো রেশমি কাপড়, ঐতিহাসিকভাবে কেবল এই অংশটিকে কিসওয়া বলা হতো। এর উচ্চতা ১৪ মিটার (৪৫ ফুট)। এটি ৪৭টি আলাদা কাপড়ের টুকরা দিয়ে তৈরি।

কাবা শরিফের দেয়ালের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ উচ্চতায় কারুকার্যখচিত একটি বেল্ট বা পট্টি রয়েছে, যা হিজাম নামে পরিচিত। এটি প্রস্থে ৯৫ সেন্টিমিটার (৩৭ ইঞ্চি) এবং দৈর্ঘ্যে ৪৭ মিটার (১৫৪ ফুট)। কাবার দরজার ওপর একটি পর্দা ঝোলানো থাকে, যা সিতারা বা বোরকা নামে পরিচিত। এটি কিসওয়ার সবচেয়ে সুসজ্জিত অংশ।

যে কারণে কাবা ঢেকে রাখা হয়
প্রচলিত বিশ্বাস মতে, সুরক্ষিত, সম্মানিত ও সৌন্দর্যমণ্ডিত রাখার উদ্দেশ্যেই ঢেকে রাখা হয় কাবা শরিফকে। কাবার গায়ে সর্বপ্রথম কে কিসওয়া জড়িয়েছিলেন, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে অধিকাংশ ঐতিহাসিকের মতে, ইসলাম-পূর্ব যুগে এই ঐতিহ্যের সূত্রপাত। অনেকে মনে করেন, ইয়েমেনের রাজা তুব্বা আস’আদ কামিল ৪০০ খ্রিষ্টাব্দে ইয়েমেনের বিশেষ কাপড় দিয়ে সর্বপ্রথম কাবা ঢেকে দিয়েছিলেন।

অন্য এক মতানুসারে, হজরত ইসমাইল (আ.) নিজেই প্রথম কাবা ঢেকেছিলেন। তবে এর পক্ষে কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ নেই। উসমানী আমলে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় প্রতিষ্ঠিত গাজী হুসরেভ-বেগ মাদ্রাসার কোরআনবিষয়ক অধ্যাপক এবং ‘এ গাইড থ্রু মক্কা আল-মুকাররমা’ বইয়ের লেখক মেনসুদ দুলোভিচ আল–জাজিরাকে বলেন, ‘তিনি যদি কোনো আবরণ দিয়েও থাকেন, তবে তা সম্ভবত পুরো কাঠামোর পরিবর্তে কাবার একটি নির্দিষ্ট অংশে সীমাবদ্ধ ছিল।’

যে উপাদান দিয়ে তৈরি হয় কিসওয়া
বর্তমানে কিসওয়া প্রাকৃতিক রেশম দিয়ে তৈরি করা হয়। তবে ইতিহাসজুড়ে কাবা ঢাকতে বিভিন্ন ধরনের উপাদান ব্যবহৃত হয়েছে। প্রথম দিকের কিসওয়াগুলো সাধারণত লিনেন, তুলা ও পশমের মতো প্রাকৃতিক তন্তু দিয়ে তৈরি করা হতো। কিছু ঐতিহাসিক সূত্রে ইসলাম-পূর্ব যুগে কিসওয়া হিসেবে চামড়ার ব্যবহারের কথাও উল্লেখ আছে।

উপাদান বাছাই ও কিসওয়া কোথায় তৈরি হবে, তা সেই ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ের সহজলভ্য তন্তু ও মুসলিম শাসকদের প্রভাব ও পছন্দের ওপর নির্ভর কর

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...

© All rights reserved © 2021
Developed By Engineerbd.net
EngineerBD-Jowfhowo