শিরোনামঃ
মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগ নেতাকে পিটিয়ে-কুপিয়ে হত্যা ঝালকাঠিতে গাঁজা ও ইয়াবা নিয়ে যুবদল নেতার ছেলেসহ ৩ জন আটক ৫০০ টাকা কেজি ভারত-মিয়ানমারের ইলিশ দেশে বিক্রি ১৪০০-১৮০০ পিরোজপুরের ৩১ ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ  বাংলাদেশের ইসলামী বক্তাদের নিয়ে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন শুভেন্দু কোটি টাকার স্বর্ণ ছিনতাই এর অভিযোগে পুলিশ কনস্টেবল গ্রেফতার খাবারের লোভ দেখিয়ে শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা, আটক ১ Ai মানবজাতিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে: গবেষকের বিস্ফোরক মন্তব্য ভারতকে টপকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার এখন যুক্তরাষ্ট্র সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের বরাদ্দ ২৫ কোটি টাকা করা হচ্ছে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

৫০০ টাকা কেজি ভারত-মিয়ানমারের ইলিশ দেশে বিক্রি ১৪০০-১৮০০

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ Monday, September 14, 2026,
  • 12 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

নিউজ ডেস্ক :: ৫০০ টাকা কেজি ভারত-মিয়ানমারের ইলিশ দেশে বিক্রি ১৪০০-১৮০০

বেনাপোল বন্দর দিয়ে অনায়েসেই আমদানি হচ্ছে ভারত ও মিয়ানমারের ইলিশ। গত দুই মাসে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে তিন লাখ ৫২ হাজার ৭৮৭ কেজি ইলিশ আমদানির তথ্য পাওয়া গেছে। এসব ইলিশ দেখতে দেশি ইলিশের মতোই। ৫০০ টাকায় কেনা ভারতীয় ও মিয়ানমারের ইলিশ ‘পদ্মার ইলিশ’ বলে ১৪০০-১৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে বেনাপোল, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে। ফলে প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতারা।আগে ভারতে রপ্তানি হতো পদ্মার ইলিশ। এখন ভারত থেকে উল্টো আমদানি হচ্ছে শত শত কেজি ভারতীয় ইলিশ। দেশের কয়েকজন আমদানিকারক এই ইলিশ আমদানি করছেন বলে জানা গেছে।

কাস্টমস ও ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে তিন লাখ ৫২ হাজার ৭৮৭ কেজি ইলিশ আমদানির তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে জুলাইয়ে এসেছে ২৯ হাজার ৪৪০ কেজি এবং আগস্টে তিন লাখ ২৩ হাজার ৩৪৬ কেজি ভারতীয় ইলিশ আমদানি করা হয়েছে। আমদানি করা এসব ইলিশের মূল্য দেখানো হয়েছে ছয় কোটি ৯২ লাখ টাকা। জুলাইয়ে আমদানি মূল্য ছিল ৩৫ লাখ ৪৮ হাজার ৭৯৬ টাকা এবং আগস্টে ছয় কোটি ৫৭ লাখ ৪৫ হাজার ৭১৪ টাকা। দুই মাসে ফেমাস ট্রেডার্স, সততা ফিস ফিড, শরীফ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, স্বর্ণালী ইন্টারন্যাশনাল, রাব্বি এন্টারপ্রাইজসহ মোট ২২ জন আমদানিকারক এসব মাছ আমদানি করেছেন।

ভারত থেকে এলসির মাধ্যমে আমদানি করা ইলিশের দাম পড়ছে প্রতিকেজি ২৫২ টাকা, সরকারি শুল্ক ১৬২ টাকা, ট্রাক ভাড়া, এলসি খরচসহ অন্যান্য খরচ আরো কেজিকে ১০০ টাকা ধরলে মোট দাম পড়ে কেজিতে ৫১৪ টাকা। সেই মাছ বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৪০০ থেকে ১৮০০ টাকা কেজি।

শুধু বাংলাদেশে নয়; পশ্চিমবঙ্গের বাজারগুলোতে প্রবেশ করেছে টনের পর টন গুজরাট, মুম্বাই ও মিয়ানমারের ইলিশ। কিন্তু ‘স্বাদ ও গন্ধহীন’ এসব মাছকে বাংলাদেশের সুস্বাদু ইলিশ পরিচয়ে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে ইলিশ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে।

History

ক্রেতারা বলছেন, বাজারে গেলেই অসাধু ব্যবসায়ীরা ভারত-মিয়ানমারের ইলিশকে ‌‘বাংলাদেশি পদ্মার ইলিশ’ বলে ব্যাগে খরে দিচ্ছেন। বাড়িতে নিয়ে রান্নার পর দেখছেন, সেই সেই ইলিশে নেই কোনো স্বাদ, নেই সুস্বাদু গন্ধ।

এসব ইলিশ দেশি ইলিশের মতোই দেখতে। আকারেও বড়। অথচ দামে প্রায় অর্ধেক। বেনাপোল যশোরসহ দেশের বিভিন্ন মাছের বাজারে এমন ইলিশের সরবরাহ বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের কাছে এসব মাছ ভারতীয় ও মিয়ানমারের ইলিশ নামে পরিচতি। অনেকে ‘রোহিঙ্গা ইলিশ’ বলেও প্রচার করেন।

বাজারে বাংলাদেশি ইলিশের চাহিদা বিপুল। দামও তুলনামূলক বেশি। সেই সুযোগে অনেক ব্যবসায়ীই ভারত ও মিয়ানমার থেকে মাছ আমদানি করে এনে ‘পদ্মার ইলিশ’ বলে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ।

বেনাপোল স্থলবন্দর ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কার্যালয়ের পরিদর্শক আশওয়াদুল আলম বলেন, ‘চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেই বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে তিন লাখ ৫২ হাজার ৭৮৭ কেজি ইলিশ আমদানির তথ্য পাওয়া গেছে। মোট ২২ জন আমদানিকারক এসব মাছ এনেছেন। মাছ ভালোভাবে পরীক্ষা করেই আমরা কোয়ারেন্টাইন সার্টিফিকেট দিচ্ছি।’

মাছ ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারতের বিভিন্ন রাজ্য ও মিয়ানমারের এসব মাছ ভারত হয়ে বেনাপোল বন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করছে। তবে বেনাপোল স্থলবন্দর ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বেনাপোল দিয়ে আসা ইলিশ ভারতীয় ইলিশ। মিয়ানমার থেকে যে ইলিশ আসছে, সেগুলো চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে প্রবেশ করছে।

একটি সূত্রের দাবি, অনেক ইলিশ অবৈধভাবেও দেশে এসেছে। গত ২২ জুলাই বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে সাদা মাছের ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা ১২ কার্টন (প্রায় ৩৬০ কেজি) ভারতীয় ইলিশ মাছ জব্দ করে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

বেনাপোল বাজারে ইলিশ কিনতে আসা মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘দেশি ইলিশ মনে করে একটি মাছ কিনেছিলাম। পরে খাওয়ার পর বুঝতে পারি মাছটির স্বাদ ও গন্ধ দেশি ইলিশের মতো নয়।’ তার অভিযোগ, দেখতে প্রায় একই হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের পক্ষে বিদেশি ও দেশি ইলিশের পার্থক্য বোঝা কঠিন।

আরেক ক্রেতা আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘কখনো চাঁদপুর, কখনো বরিশাল, কখনা চট্টগ্রামের ইলিশের নাম করে ব্যবসায়ীরা ইলিশ বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অথচ ইলিশগুলো সবই ভারতীয় ও মিয়ানমার থেকে আমদানি করা। এক শ্রেণির মাছ ব্যবসায়ী চড়া দামে এসব মাছ বিক্রি করছেন। ফলে ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছেন। আমরা চাই আইন মোতাবেক অভিযুক্ত মাছ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন পদক্ষেপ নিক। অবিলম্বে এ ধরনের প্রতারণা বন্ধ করতে

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...

© All rights reserved © 2021
Developed By Engineerbd.net
EngineerBD-Jowfhowo