আশানুরূপ পর্যটক শূন্য কুয়াকাটা
অনলাইন ডেস্ক ::: ঈদুল আজহার উপলক্ষেও আশানুরূপ পর্যটক নেই সাগরকন্যা কুয়াকাটায়। তবে ‘সাগরকন্যা’ খ্যাত এ পর্যটন স্পটে ৩ থেকে ৪ লাখ পর্যটকের সমাগম ঘটবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। সেই প্রত্যাশা সামনে রেখে হোটেল-মোটেল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। রুম ভাড়ায় ঘোষণা করা হয়েছে বিশেষ ছাড়। পর্যটক বরণে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতিও।
শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে- বিগত বছরগুলোর ঈদ মৌসুমের তুলনায় কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত অনেকটাই ফাঁকা। জিরো পয়েন্ট, ছাতা-বেঞ্চ (কিটকট) এলাকা কিংবা গঙ্গামতির চরে নেই চিরচেনা উপচেপড়া ভিড়। যে অল্পসংখ্যক দর্শনার্থী সৈকতে এসেছেন, তাদের বেশির ভাগই আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা স্থানীয় ডে-ট্যুরিস্ট। তারা সকাল বা দুপুরে এসে আবার বিকেলের মধ্যেই ফিরে যাচ্ছেন।
এদিকে হোটেল, ঝিনুক মার্কেট, শুঁটকিপল্লি ও রাখাইন মার্কেটের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও ক্রেতা সংকটে অলস সময় পার করছেন। পর্যটকের এমন খরা পুরো পর্যটন খাতে বড় ধরনের ধাক্কা দেখা দিয়েছে।
পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মতে- দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রভাবেই মানুষ এবার ভ্রমণ বাজেট কাটছাঁট করেছে। ফলে দীর্ঘ ছুটি থাকা সত্ত্বেও প্রত্যাশিত পর্যটক সমাগম হয়নি।
তাদের দাবি- নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও বাড়তি পারিবারিক খরচের চাপে অনেকেই ভ্রমণ পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন। ব্যয় সংকোচনের এই প্রবণতা পর্যটন খাতে স্পষ্ট প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন তারা।
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহিম ওয়াহিদ বলেন- বিগত কয়েক মাসের মন্দা কাটিয়ে এই দীর্ঘ ছুটিতে ভালো ব্যবসার আশা করেছিলাম। কিন্তু এবারের পর্যটক উপস্থিতি আমাদের চরম হতাশ করেছে। তারকা মানের ও প্রথম শ্রেণির কিছু হোটেলে মাত্র ২০ থেকে ৩০ শতাংশ রুম আগাম বুকিং হয়েছে। সাধারণ ও মাঝারি মানের হোটেলগুলোতে বুকিং হার ১০ থেকে ২০ শতাংশের বেশি নয়।
আরও দেখুন
বরিশাল অনলাইন সংবাদপত্র
ডিজিটাল সংবাদ প্ল্যাটফর্ম
স্থানীয় নির্বাচন কভারেজ
অপরাধ সংবাদ বিশ্লেষণ
বরিশাল বিভাগের খবর
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল মোতালেব শরীফ বলেন- ‘আমাদের দুই শতাধিক হোটেল-মোটেল ও গেস্টহাউস বিপুলসংখ্যক পর্যটক বরণে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কিন্তু ঈদের দ্বিতীয় দিনেও আশার সিকি ভাগও পূরণ হয়নি। তবে আমরা এখনো আশাবাদী, সপ্তাহের শেষ দিকে পর্যটক বাড়তে পারে। যদি তা না হয়, তাহলে পেছনের লোকসান কাটিয়ে ওঠা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।’
ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের সহকারী পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন- ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৈকত ও আশপাশের দর্শনীয় স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনসহ আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।